ঢাকা ১০:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নতুন পে-স্কেলে বেসরকারি খাতে মূল্যস্ফীতির শঙ্কা

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০১:৩৫:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
  • / 38

নবম পে-স্কেল

আগামী ১ জুলাই থেকে দেশে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নবম জাতীয় পে-স্কেল কার্যকর হতে যাচ্ছে। তিন অর্থবছরে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আসন্ন বাজেটে ৩০ হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। তবে দেশের ৯৩ শতাংশের বেশি বেসরকারি ও অনানুষ্ঠানিক খাতের কর্মীদের বেতন কাঠামো অপরিবর্তিত থাকায় দুই খাতের মধ্যে ক্রয়ক্ষমতার ব্যবধান ও বৈষম্য আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদেরা। নতুন এই বিপুল অর্থ বাজারে প্রবেশ করলে ‘মনস্তাত্ত্বিক মূল্যস্ফীতি’ বা কৃত্রিমভাবে নিত্যপণ্যের দাম ও বাড়িভাড়া বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে বেসরকারি কর্মীরা মারাত্মক অর্থনৈতিক চাপে পড়তে পারেন।

দীর্ঘ এক দশক পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বেতন বৃদ্ধির সুখবর এলেও তা দেশের সিংহভাগ সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের জন্য নতুন চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের মাত্র ৫ থেকে ৭ শতাংশ মানুষের আয় বাড়ার বিপরীতে যদি বাজার ব্যবস্থা অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ে, তবে তা বিশাল জনগোষ্ঠীকে চরম সংকটে ফেলবে। মূলত নতুন পে-স্কেলে বেসরকারি খাতে মূল্যস্ফীতির শঙ্কা সংক্রান্ত প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর করপোরেট ও বেসরকারি খাতের চাকরিজীবীদের মাঝে এক ধরণের মনস্তাত্ত্বিক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ব্যবসায়িক মন্দার কারণে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো কর্মীদের বেতন বাড়াতে পারছে না।

নতুন পে-স্কেলে ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ৮,২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০,০০০ টাকা এবং প্রথম গ্রেডের বেতন ১,৬০,০০০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে নতুন পে-স্কেলে বেসরকারি খাতে মূল্যস্ফীতির শঙ্কা আরও ঘনীভূত হচ্ছে কারণ গত চার বছর ধরে দেশে গড় মূল্যস্ফীতি ৯.৫ শতাংশের ওপরে রয়েছে। এর বিপরীতে বেসরকারি খাতে বেতন বৃদ্ধির বার্ষিক হার মাত্র ৩ থেকে ৫ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কে. মুজেরি মনে করেন, দুই খাতের ক্রয়ক্ষমতার এই ভারসাম্যহীনতা সামাজিক অসাম্যকে আরও উস্কে দেবে।

কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (CAB) জানিয়েছে, মাত্র ২০ লাখ মানুষের বেতন বৃদ্ধির অজুহাতে ব্যবসায়ীরা যেন দেশের ১৮ কোটি মানুষের পকেট কাটতে না পারে, সেজন্য কঠোর বাজার তদারকি প্রয়োজন। বর্তমানে নতুন পে-স্কেলে বেসরকারি খাতে মূল্যস্ফীতির শঙ্কা দূর করতে বেসরকারি খাতকে কর সুবিধা, জ্বালানি সরবরাহ এবং বিনিয়োগবান্ধব নীতি সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্লেষকেরা।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

নতুন পে-স্কেলে বেসরকারি খাতে মূল্যস্ফীতির শঙ্কা

সর্বশেষ আপডেট ০১:৩৫:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

আগামী ১ জুলাই থেকে দেশে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নবম জাতীয় পে-স্কেল কার্যকর হতে যাচ্ছে। তিন অর্থবছরে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আসন্ন বাজেটে ৩০ হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। তবে দেশের ৯৩ শতাংশের বেশি বেসরকারি ও অনানুষ্ঠানিক খাতের কর্মীদের বেতন কাঠামো অপরিবর্তিত থাকায় দুই খাতের মধ্যে ক্রয়ক্ষমতার ব্যবধান ও বৈষম্য আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদেরা। নতুন এই বিপুল অর্থ বাজারে প্রবেশ করলে ‘মনস্তাত্ত্বিক মূল্যস্ফীতি’ বা কৃত্রিমভাবে নিত্যপণ্যের দাম ও বাড়িভাড়া বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে বেসরকারি কর্মীরা মারাত্মক অর্থনৈতিক চাপে পড়তে পারেন।

দীর্ঘ এক দশক পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বেতন বৃদ্ধির সুখবর এলেও তা দেশের সিংহভাগ সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের জন্য নতুন চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের মাত্র ৫ থেকে ৭ শতাংশ মানুষের আয় বাড়ার বিপরীতে যদি বাজার ব্যবস্থা অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ে, তবে তা বিশাল জনগোষ্ঠীকে চরম সংকটে ফেলবে। মূলত নতুন পে-স্কেলে বেসরকারি খাতে মূল্যস্ফীতির শঙ্কা সংক্রান্ত প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর করপোরেট ও বেসরকারি খাতের চাকরিজীবীদের মাঝে এক ধরণের মনস্তাত্ত্বিক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ব্যবসায়িক মন্দার কারণে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো কর্মীদের বেতন বাড়াতে পারছে না।

নতুন পে-স্কেলে ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ৮,২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০,০০০ টাকা এবং প্রথম গ্রেডের বেতন ১,৬০,০০০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে নতুন পে-স্কেলে বেসরকারি খাতে মূল্যস্ফীতির শঙ্কা আরও ঘনীভূত হচ্ছে কারণ গত চার বছর ধরে দেশে গড় মূল্যস্ফীতি ৯.৫ শতাংশের ওপরে রয়েছে। এর বিপরীতে বেসরকারি খাতে বেতন বৃদ্ধির বার্ষিক হার মাত্র ৩ থেকে ৫ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কে. মুজেরি মনে করেন, দুই খাতের ক্রয়ক্ষমতার এই ভারসাম্যহীনতা সামাজিক অসাম্যকে আরও উস্কে দেবে।

কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (CAB) জানিয়েছে, মাত্র ২০ লাখ মানুষের বেতন বৃদ্ধির অজুহাতে ব্যবসায়ীরা যেন দেশের ১৮ কোটি মানুষের পকেট কাটতে না পারে, সেজন্য কঠোর বাজার তদারকি প্রয়োজন। বর্তমানে নতুন পে-স্কেলে বেসরকারি খাতে মূল্যস্ফীতির শঙ্কা দূর করতে বেসরকারি খাতকে কর সুবিধা, জ্বালানি সরবরাহ এবং বিনিয়োগবান্ধব নীতি সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্লেষকেরা।