ঢাকা ০৬:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দ্রব্যমূল্যে অস্থির জনজীবন: বাজারে মুরগি ও ভোজ্যতেলের দামে রেকর্ড

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১২:৪৬:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬
  • / 26

দ্রব্যমূল্যের দামে অস্থির জনজীবন

দেশের বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় দ্রব্যমূল্যে অস্থির জনজীবন পার করছে সাধারণ মানুষ। মুরগি, ভোজ্যতেল, চিনি এবং এলপিজি গ্যাসের দাম এখন সাধারণের নাগালের বাইরে। মূলত আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা এবং পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাজারে এই প্রভাব পড়েছে।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রোটিনের প্রধান উৎস মুরগির দাম এখন আকাশচুম্বী। সোনালি মুরগি কেজিপ্রতি ৪৩০ থেকে ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক মাস আগেও ৩০০ টাকার নিচে ছিল। একইভাবে ব্রয়লার মুরগির দামও বেড়ে ২০০ টাকায় পৌঁছেছে। গরুর মাংসের বাজারও চড়া, যা ৮০০ টাকার নিচে মিলছে না। আসলে খামার পর্যায়ে মুরগির সরবরাহ কমে যাওয়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

ভোজ্যতেলের বাজারেও চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। খুচরা বাজারে খোলা সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১৯০ থেকে ১৯৫ টাকা এবং পাম অয়েল ১৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে বোতলজাত সয়াবিন তেলের গায়ের দাম ১৯৫ টাকা হলেও বিক্রেতারা ২০০ টাকা দাবি করছেন। পাইকারি ব্যবসায়ীদের মতে, যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে আমদানি ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। যার ফলে আমদানিকারকরা আগের দামে পণ্য সরবরাহ করতে পারছেন না।

সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে রান্নার গ্যাসের দামে। এপ্রিলে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম এক লাফে ৩৮৭ টাকা বাড়ানো হয়েছে। তবে নির্ধারিত এক হাজার ৭২৮ টাকায় বাজারে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। ভোক্তাদের অভিযোগ, খুচরা বিক্রেতারা দুই হাজার টাকার নিচে সিলিন্ডার বিক্রি করছেন না। তাছাড়া রান্নার তেলের মতো এলপিজি গ্যাসের সংকটও গৃহিণীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।

সবজির বাজারেও একই আগুনের আঁচ পাওয়া যাচ্ছে। প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে। করলা, বরবটি ও ধুন্দলের মতো সবজি এখন ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মূলত জ্বালানি সংকটে পরিবহন ভাড়া বেড়ে যাওয়া এবং মৌসুম শেষ হয়ে আসায় এই মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে। ফলে স্বল্প আয়ের মানুষ এখন ব্যাগ ভরে সবজি কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

দ্রব্যমূল্যে অস্থির জনজীবন: বাজারে মুরগি ও ভোজ্যতেলের দামে রেকর্ড

সর্বশেষ আপডেট ১২:৪৬:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬

দেশের বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় দ্রব্যমূল্যে অস্থির জনজীবন পার করছে সাধারণ মানুষ। মুরগি, ভোজ্যতেল, চিনি এবং এলপিজি গ্যাসের দাম এখন সাধারণের নাগালের বাইরে। মূলত আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা এবং পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাজারে এই প্রভাব পড়েছে।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রোটিনের প্রধান উৎস মুরগির দাম এখন আকাশচুম্বী। সোনালি মুরগি কেজিপ্রতি ৪৩০ থেকে ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক মাস আগেও ৩০০ টাকার নিচে ছিল। একইভাবে ব্রয়লার মুরগির দামও বেড়ে ২০০ টাকায় পৌঁছেছে। গরুর মাংসের বাজারও চড়া, যা ৮০০ টাকার নিচে মিলছে না। আসলে খামার পর্যায়ে মুরগির সরবরাহ কমে যাওয়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

ভোজ্যতেলের বাজারেও চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। খুচরা বাজারে খোলা সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১৯০ থেকে ১৯৫ টাকা এবং পাম অয়েল ১৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে বোতলজাত সয়াবিন তেলের গায়ের দাম ১৯৫ টাকা হলেও বিক্রেতারা ২০০ টাকা দাবি করছেন। পাইকারি ব্যবসায়ীদের মতে, যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে আমদানি ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। যার ফলে আমদানিকারকরা আগের দামে পণ্য সরবরাহ করতে পারছেন না।

সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে রান্নার গ্যাসের দামে। এপ্রিলে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম এক লাফে ৩৮৭ টাকা বাড়ানো হয়েছে। তবে নির্ধারিত এক হাজার ৭২৮ টাকায় বাজারে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। ভোক্তাদের অভিযোগ, খুচরা বিক্রেতারা দুই হাজার টাকার নিচে সিলিন্ডার বিক্রি করছেন না। তাছাড়া রান্নার তেলের মতো এলপিজি গ্যাসের সংকটও গৃহিণীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।

সবজির বাজারেও একই আগুনের আঁচ পাওয়া যাচ্ছে। প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে। করলা, বরবটি ও ধুন্দলের মতো সবজি এখন ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মূলত জ্বালানি সংকটে পরিবহন ভাড়া বেড়ে যাওয়া এবং মৌসুম শেষ হয়ে আসায় এই মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে। ফলে স্বল্প আয়ের মানুষ এখন ব্যাগ ভরে সবজি কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন।