ঢাকা ১২:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
অগ্রণী ব্যাংকের ফজলুল করিম

জুলাই হত্যা মামলার আসামির পদোন্নতি

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ১০:৫৭:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
  • / 11

অগ্রণী ব্যাংকের ফজলুল করিম

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের মামলার আসামি এবং আদালত অবমাননার ঘটনায় কারাদণ্ডের আদেশ পাওয়া অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মোহাম্মদ ফজলুল করিমকে উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ ও ঘুষ দাবির অভিযোগও রয়েছে। এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ জমা পড়লেও দীর্ঘদিনেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে ফজলুল করিমের পদোন্নতির কথা জানানো হয়।

নথিপত্র অনুযায়ী, ২০২৫ সালে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে (শেরেবাংলা নগর থানা আমলি) জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করেন মোছা. তাহমিনা খাতুন। সিআর মামলা নম্বর ১৭৬/২০২৫-এর এ মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামি করা হয়। মামলার ৭০ নম্বর আসামি হিসেবে রয়েছেন মোহাম্মদ ফজলুল করিম।

এর আগে, ২০২৪ সালের ২৪ জানুয়ারি মুন গ্রুপের ঋণসংক্রান্ত একটি মামলায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার অভিযোগে অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ পাঁচ শীর্ষ কর্মকর্তাকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন হাইকোর্টের একটি একক বেঞ্চ। ওই কর্মকর্তাদের মধ্যে তৎকালীন জিএম ফজলুল করিমও ছিলেন। একই ঘটনায় আদালত অগ্রণী ব্যাংকের প্রিন্সিপাল শাখার তৎকালীন এই কর্মকর্তার সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ দেন। তবে পরবর্তী সময়ে আপিল বিভাগ ওই আদেশ স্থগিত করেন।

ফজলুল করিমের বিরুদ্ধে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ ও ঘুষ দাবির অভিযোগও রয়েছে। ২০২২ সালের ১৪ ডিসেম্বর এম আর ট্রেডিং কোম্পানির স্বত্বাধিকারী মিজানুর রহমান দুদকে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে ফজলুল করিমের বিরুদ্ধে প্রতারণার মাধ্যমে ৫০ লাখ টাকা আত্মসাৎ এবং এক কোটি টাকা ঘুষ দাবি করার কথা উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগের বিষয়ে দীর্ঘদিনেও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় বিষয়টি হাইকোর্টে গড়ায়। পরে ২০২৪ সালের ৪ মার্চ হাইকোর্ট ওই আবেদন ৬০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে দুদককে নির্দেশ দেন।

অগ্রণী ব্যাংকের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ফজলুল করিম ১৯৯৬ সালে সিনিয়র অফিসার হিসেবে ব্যাংকিং পেশায় যোগ দেন। সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের অর্থমন্ত্রী আবু হেনা মোহাম্মাদ মুস্তফা কামাল, যিনি লোটাস কামাল নামে পরিচিত, তার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি। কর্মকর্তাদের দাবি, লোটাস কামালের সহযোগিতায় ২০২১ সালে উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) থেকে মহাব্যবস্থাপক পদে পদোন্নতি পান ফজলুল করিম।

এদিকে, তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর বিষয়ে বক্তব্য জানতে ফজলুল করিমের ব্যবহৃত দুটি মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও নম্বর দুটি বন্ধ পাওয়া যায়। হোয়াটসঅ্যাপেও বার্তা পাঠানো হয়েছিল, তবে তার কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

অগ্রণী ব্যাংকের ফজলুল করিম

জুলাই হত্যা মামলার আসামির পদোন্নতি

সর্বশেষ আপডেট ১০:৫৭:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের মামলার আসামি এবং আদালত অবমাননার ঘটনায় কারাদণ্ডের আদেশ পাওয়া অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মোহাম্মদ ফজলুল করিমকে উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ ও ঘুষ দাবির অভিযোগও রয়েছে। এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ জমা পড়লেও দীর্ঘদিনেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে ফজলুল করিমের পদোন্নতির কথা জানানো হয়।

নথিপত্র অনুযায়ী, ২০২৫ সালে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে (শেরেবাংলা নগর থানা আমলি) জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করেন মোছা. তাহমিনা খাতুন। সিআর মামলা নম্বর ১৭৬/২০২৫-এর এ মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামি করা হয়। মামলার ৭০ নম্বর আসামি হিসেবে রয়েছেন মোহাম্মদ ফজলুল করিম।

এর আগে, ২০২৪ সালের ২৪ জানুয়ারি মুন গ্রুপের ঋণসংক্রান্ত একটি মামলায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার অভিযোগে অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ পাঁচ শীর্ষ কর্মকর্তাকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন হাইকোর্টের একটি একক বেঞ্চ। ওই কর্মকর্তাদের মধ্যে তৎকালীন জিএম ফজলুল করিমও ছিলেন। একই ঘটনায় আদালত অগ্রণী ব্যাংকের প্রিন্সিপাল শাখার তৎকালীন এই কর্মকর্তার সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ দেন। তবে পরবর্তী সময়ে আপিল বিভাগ ওই আদেশ স্থগিত করেন।

ফজলুল করিমের বিরুদ্ধে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ ও ঘুষ দাবির অভিযোগও রয়েছে। ২০২২ সালের ১৪ ডিসেম্বর এম আর ট্রেডিং কোম্পানির স্বত্বাধিকারী মিজানুর রহমান দুদকে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে ফজলুল করিমের বিরুদ্ধে প্রতারণার মাধ্যমে ৫০ লাখ টাকা আত্মসাৎ এবং এক কোটি টাকা ঘুষ দাবি করার কথা উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগের বিষয়ে দীর্ঘদিনেও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় বিষয়টি হাইকোর্টে গড়ায়। পরে ২০২৪ সালের ৪ মার্চ হাইকোর্ট ওই আবেদন ৬০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে দুদককে নির্দেশ দেন।

অগ্রণী ব্যাংকের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ফজলুল করিম ১৯৯৬ সালে সিনিয়র অফিসার হিসেবে ব্যাংকিং পেশায় যোগ দেন। সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের অর্থমন্ত্রী আবু হেনা মোহাম্মাদ মুস্তফা কামাল, যিনি লোটাস কামাল নামে পরিচিত, তার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি। কর্মকর্তাদের দাবি, লোটাস কামালের সহযোগিতায় ২০২১ সালে উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) থেকে মহাব্যবস্থাপক পদে পদোন্নতি পান ফজলুল করিম।

এদিকে, তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর বিষয়ে বক্তব্য জানতে ফজলুল করিমের ব্যবহৃত দুটি মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও নম্বর দুটি বন্ধ পাওয়া যায়। হোয়াটসঅ্যাপেও বার্তা পাঠানো হয়েছিল, তবে তার কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।