ঢাকা ০২:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
পানি-বিদ্যুৎ বন্ধের হুঁশিয়ারি

চুয়েটে নতুন ভিসিকে ভবন ছাড়ার আল্টিমেটাম

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
  • সর্বশেষ আপডেট ০১:০৯:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
  • / 16

চুয়েটে নতুন ভিসিকে ভবন ছাড়ার আল্টিমেটাম

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে সোমবার দুপুর ১২টার মধ্যে উপাচার্য ভবন ছাড়ার আল্টিমেটাম দিয়েছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভবন না ছাড়লে ফটকে তালা দেওয়ার পাশাপাশি বাইরে থেকে বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।

সোমবার সকালে আন্দোলনকারীরা এ ঘোষণা দিয়ে উপাচার্য ভবনকে ‘ভ্যাকেন্ট’ ঘোষণা করার কথা জানান। কর্মসূচি সফল করতে শিক্ষার্থীদের ভবনের সামনে অবস্থান নেওয়ার আহ্বানও জানানো হয়।

প্রতিবেদন লেখার সময় দুপুর পৌনে ১টা পর্যন্ত উপাচার্য ভবনেই অবস্থান করছিলেন অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। তাঁর সঙ্গে ছাত্রদলের নেতারা ছিলেন। এ সময় ভবনের আশপাশে সাদাপোশাকে পুলিশ সদস্যদেরও দেখা যায়।

এর আগে সকাল পৌনে ৯টার দিকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন নতুন উপাচার্য। পরে প্রশাসনিক ভবনের তালা ভেঙে নিজ দপ্তরে প্রবেশ করেন তিনি। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক কয়েকজন শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের নেতারা তাঁর সঙ্গে ছিলেন। পরে রুটিন দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক আরাফাত রহমান নতুন উপাচার্যের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন।

এ ঘটনার পর সকাল ১০টার দিকে উপাচার্য ভবনের সামনে জড়ো হয়ে প্রতিবাদ জানান শিক্ষার্থীরা। এ সময় দুই-তিনজন সাবেক শিক্ষার্থী ফুল ও খাবার নিয়ে ভবনে প্রবেশ করতে গেলে তাঁদের বাধা দেন আন্দোলনকারীরা। এতে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক বিপ্লব হোসেন তন্ময় ও ছাত্রদল সমর্থক শিক্ষার্থী সাদ বিন মোস্তফার মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। তবে কিছুক্ষণ পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে।

নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম বলেন, সকালে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করেছেন। ছাত্রকল্যাণ অধিদপ্তরের শিক্ষকদের জন্য অপেক্ষা করছেন। তাঁরা এলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসে কথা বলবেন।

সকাল থেকে কোনো দাপ্তরিক কাজ করেছেন কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, তেমন কোনো দাপ্তরিক কাজ করা হয়নি।

ক্যাম্পাসে নতুন উপাচার্যের প্রবেশের বিষয়ে ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান আল সাবিত বলেন, তাঁরা একসঙ্গেই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করেছেন।

ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক বিপ্লব হোসেন তন্ময় বলেন, সরকার অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে দায়িত্ব দিয়েছে। তাঁর দায়িত্ব পালনে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উপাচার্যকে কাজ করার সুযোগ দিয়ে তাঁর কার্যক্রম মূল্যায়ন করা উচিত।

তবে নতুন উপাচার্যকে প্রত্যাখ্যানের অবস্থানে অনড় শিক্ষার্থীরা। চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মাহিদুর রহমান ওসমানী বলেন, তাঁরা নতুন উপাচার্যকে মেনে নেননি এবং তাঁর বিরুদ্ধে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে চুয়েটে দীর্ঘদিন ধরে অচলাবস্থা চলছে। এ দাবিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কর্মবিরতি পালন করছেন। একই দাবিতে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরাও।

গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষার্থীদের ‘সর্বাত্মক শাটডাউন’ কর্মসূচি চলছে। এ সময় তাঁরা মশাল মিছিল ও লাল কার্ড প্রদর্শনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন। আন্দোলনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। নতুন উপাচার্যের দায়িত্ব গ্রহণকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে চলমান উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

পানি-বিদ্যুৎ বন্ধের হুঁশিয়ারি

চুয়েটে নতুন ভিসিকে ভবন ছাড়ার আল্টিমেটাম

সর্বশেষ আপডেট ০১:০৯:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে সোমবার দুপুর ১২টার মধ্যে উপাচার্য ভবন ছাড়ার আল্টিমেটাম দিয়েছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভবন না ছাড়লে ফটকে তালা দেওয়ার পাশাপাশি বাইরে থেকে বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।

সোমবার সকালে আন্দোলনকারীরা এ ঘোষণা দিয়ে উপাচার্য ভবনকে ‘ভ্যাকেন্ট’ ঘোষণা করার কথা জানান। কর্মসূচি সফল করতে শিক্ষার্থীদের ভবনের সামনে অবস্থান নেওয়ার আহ্বানও জানানো হয়।

প্রতিবেদন লেখার সময় দুপুর পৌনে ১টা পর্যন্ত উপাচার্য ভবনেই অবস্থান করছিলেন অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। তাঁর সঙ্গে ছাত্রদলের নেতারা ছিলেন। এ সময় ভবনের আশপাশে সাদাপোশাকে পুলিশ সদস্যদেরও দেখা যায়।

এর আগে সকাল পৌনে ৯টার দিকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন নতুন উপাচার্য। পরে প্রশাসনিক ভবনের তালা ভেঙে নিজ দপ্তরে প্রবেশ করেন তিনি। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক কয়েকজন শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের নেতারা তাঁর সঙ্গে ছিলেন। পরে রুটিন দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক আরাফাত রহমান নতুন উপাচার্যের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন।

এ ঘটনার পর সকাল ১০টার দিকে উপাচার্য ভবনের সামনে জড়ো হয়ে প্রতিবাদ জানান শিক্ষার্থীরা। এ সময় দুই-তিনজন সাবেক শিক্ষার্থী ফুল ও খাবার নিয়ে ভবনে প্রবেশ করতে গেলে তাঁদের বাধা দেন আন্দোলনকারীরা। এতে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক বিপ্লব হোসেন তন্ময় ও ছাত্রদল সমর্থক শিক্ষার্থী সাদ বিন মোস্তফার মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। তবে কিছুক্ষণ পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে।

নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম বলেন, সকালে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করেছেন। ছাত্রকল্যাণ অধিদপ্তরের শিক্ষকদের জন্য অপেক্ষা করছেন। তাঁরা এলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসে কথা বলবেন।

সকাল থেকে কোনো দাপ্তরিক কাজ করেছেন কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, তেমন কোনো দাপ্তরিক কাজ করা হয়নি।

ক্যাম্পাসে নতুন উপাচার্যের প্রবেশের বিষয়ে ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান আল সাবিত বলেন, তাঁরা একসঙ্গেই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করেছেন।

ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক বিপ্লব হোসেন তন্ময় বলেন, সরকার অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে দায়িত্ব দিয়েছে। তাঁর দায়িত্ব পালনে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উপাচার্যকে কাজ করার সুযোগ দিয়ে তাঁর কার্যক্রম মূল্যায়ন করা উচিত।

তবে নতুন উপাচার্যকে প্রত্যাখ্যানের অবস্থানে অনড় শিক্ষার্থীরা। চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মাহিদুর রহমান ওসমানী বলেন, তাঁরা নতুন উপাচার্যকে মেনে নেননি এবং তাঁর বিরুদ্ধে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে চুয়েটে দীর্ঘদিন ধরে অচলাবস্থা চলছে। এ দাবিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কর্মবিরতি পালন করছেন। একই দাবিতে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরাও।

গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষার্থীদের ‘সর্বাত্মক শাটডাউন’ কর্মসূচি চলছে। এ সময় তাঁরা মশাল মিছিল ও লাল কার্ড প্রদর্শনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন। আন্দোলনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। নতুন উপাচার্যের দায়িত্ব গ্রহণকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে চলমান উত্তেজনা আরও বেড়েছে।