ঢাকা ০৩:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চরফ্যাশনে ১৪ মণ্ডপে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি

নিজস্ব প্রতিবেদক, চরফ্যাশন (ভোলা)
  • সর্বশেষ আপডেট ০২:৩৭:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
  • / 9

চরফ্যাশনে ১৪ মণ্ডপে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি

বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। উপজেলার ১৪টি পূজামণ্ডপে প্রতিমা তৈরি ও সাজসজ্জার কাজ প্রায় শেষ। এখন প্রতিমায় রং-তুলির শেষ আঁচড় দিতে ব্যস্ত শিল্পীরা। অন্যদিকে উৎসব সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনে প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

আজ শনিবার (১০ অক্টোবর) উদযাপিত হচ্ছে শুভ মহালয়া। এর মধ্য দিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গোৎসবের ক্ষণগণনা শুরু হয়েছে। মহালয়া উপলক্ষে ভোরে চণ্ডীপাঠ, বিশেষ পূজা ও প্রয়াত পূর্বপুরুষদের উদ্দেশে তর্পণের মধ্য দিয়ে দেবীপক্ষের সূচনা হয়।

সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, মহালয়া পিতৃপক্ষের অবসান ও দেবীপক্ষের সূচনার দিন। এদিন প্রয়াত পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তি কামনায় জল, তিল ও অন্ন উৎসর্গ করে তর্পণ করেন ধর্মপ্রাণ মানুষ। পুরাণ অনুসারে, মহিষাসুরের অত্যাচার থেকে দেবতাদের মুক্ত করতে ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বরের সম্মিলিত শক্তিতে সৃষ্টি হয় দেবী দুর্গার। পরে দেবতাদের দেওয়া অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সিংহবাহিনী দুর্গা মহিষাসুরকে পরাজিত করেন। মহালয়া মূলত সেই অসুরবিনাশী শক্তির আবাহনের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

চরফ্যাশন উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে দিনরাত কাজ করছেন প্রতিমাশিল্পী ও আয়োজকেরা। শ্রী শ্রী কালীবাড়ি, পৌর হিন্দু যুব কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত শ্রী শ্রী শারদীয়া দুর্গাপূজা মণ্ডপ, শ্রী শ্রী হরি মন্দির বাড়ি পূজামণ্ডপ এবং মোহনবাসী মজুমদার বাড়িসংলগ্ন কালীবাড়ি মন্দির পূজামণ্ডপসহ বিভিন্ন স্থানে প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।

এসব মণ্ডপের প্রতিমাশিল্পী ফরিদপুরের ভাঙ্গার বাসিন্দা বিষ্ণু পাল বলেন, দেবী দুর্গা অন্ধকারাচ্ছন্ন পৃথিবীকে আলোকিত করতে আসছেন। ঢাক-ঢোল, শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনির মধ্য দিয়ে দেবীকে বরণ করে নিতে ভক্তরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। প্রতিমায় দেবী দুর্গার অবয়ব নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলতে তিনি দিনরাত পরিশ্রম করেছেন। প্রতিমা তৈরির মূল কাজ শেষ। এখন চলছে রং-তুলির শেষ আঁচড়।

তিনি জানান, প্রতিমার সঙ্গে গণেশ, সরস্বতী, কার্তিক, লক্ষ্মী, অসুর, সিংহ, পেঁচা, হাঁস, ময়ূর, সাপ ও মহাদেবের মূর্তি তৈরির কাজও চলছে। অধিকাংশ প্রতিমায় রং করার কাজ শেষ হয়েছে। এখন চলছে চূড়ান্ত সাজসজ্জা।

চরফ্যাশন শ্রী শ্রী কালীবাড়ি সার্বজনীন দুর্গাপূজা মণ্ডপের পুরোহিত দুলাল চন্দ্র গাঙ্গুলী জানান, এবার দেবী দুর্গা গজ বা হাতিতে চড়ে মর্ত্যে আসবেন এবং দোলায় বা পালকিতে চড়ে ফিরে যাবেন। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, হাতিতে দেবীর আগমন শান্তি, সমৃদ্ধি ও শস্য-শ্যামল পৃথিবীর প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।

শ্রী শ্রী কালীবাড়ি পূজা মণ্ডপের সাধারণ সম্পাদক হৃদয় চন্দ্র শীল বলেন, ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার।’ দুর্গাপূজা উপলক্ষে মন্দির প্রাঙ্গণে স্থানীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। পাশাপাশি বসবে বিভিন্ন পণ্যের মেলা। উৎসবকে আনন্দমুখর করে তুলতে তিনি জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সবাইকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

চরফ্যাশন উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সংশ্লিষ্ট নেতা এবং শ্রী শ্রী কালীবাড়ি কেন্দ্রীয় সার্বজনীন দুর্গাপূজা মণ্ডপের সভাপতি পরেশ দেবনাথ জানান, এ বছর উপজেলায় ১৪টি পূজামণ্ডপে দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হবে। উৎসব সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে পূজা উদযাপন কমিটির সদস্যদের সঙ্গে মণ্ডপগুলোর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের মতবিনিময় হয়েছে।

চরফ্যাশন সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. মেহেদি হাসান জানান, প্রতিটি মণ্ডপে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা উদযাপন নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রস্তুতি রয়েছে। পূজার সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বেচ্ছাসেবক, আনসার ও চৌকিদারদের দায়িত্ব পালনের ব্যবস্থা থাকবে। পাশাপাশি মণ্ডপগুলোতে সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হবে।

চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আফরোজ বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসব সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করতে উপজেলার প্রতিটি পূজামণ্ডপে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

চরফ্যাশনে ১৪ মণ্ডপে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি

সর্বশেষ আপডেট ০২:৩৭:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। উপজেলার ১৪টি পূজামণ্ডপে প্রতিমা তৈরি ও সাজসজ্জার কাজ প্রায় শেষ। এখন প্রতিমায় রং-তুলির শেষ আঁচড় দিতে ব্যস্ত শিল্পীরা। অন্যদিকে উৎসব সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনে প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

আজ শনিবার (১০ অক্টোবর) উদযাপিত হচ্ছে শুভ মহালয়া। এর মধ্য দিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গোৎসবের ক্ষণগণনা শুরু হয়েছে। মহালয়া উপলক্ষে ভোরে চণ্ডীপাঠ, বিশেষ পূজা ও প্রয়াত পূর্বপুরুষদের উদ্দেশে তর্পণের মধ্য দিয়ে দেবীপক্ষের সূচনা হয়।

সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, মহালয়া পিতৃপক্ষের অবসান ও দেবীপক্ষের সূচনার দিন। এদিন প্রয়াত পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তি কামনায় জল, তিল ও অন্ন উৎসর্গ করে তর্পণ করেন ধর্মপ্রাণ মানুষ। পুরাণ অনুসারে, মহিষাসুরের অত্যাচার থেকে দেবতাদের মুক্ত করতে ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বরের সম্মিলিত শক্তিতে সৃষ্টি হয় দেবী দুর্গার। পরে দেবতাদের দেওয়া অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সিংহবাহিনী দুর্গা মহিষাসুরকে পরাজিত করেন। মহালয়া মূলত সেই অসুরবিনাশী শক্তির আবাহনের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

চরফ্যাশন উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে দিনরাত কাজ করছেন প্রতিমাশিল্পী ও আয়োজকেরা। শ্রী শ্রী কালীবাড়ি, পৌর হিন্দু যুব কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত শ্রী শ্রী শারদীয়া দুর্গাপূজা মণ্ডপ, শ্রী শ্রী হরি মন্দির বাড়ি পূজামণ্ডপ এবং মোহনবাসী মজুমদার বাড়িসংলগ্ন কালীবাড়ি মন্দির পূজামণ্ডপসহ বিভিন্ন স্থানে প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।

এসব মণ্ডপের প্রতিমাশিল্পী ফরিদপুরের ভাঙ্গার বাসিন্দা বিষ্ণু পাল বলেন, দেবী দুর্গা অন্ধকারাচ্ছন্ন পৃথিবীকে আলোকিত করতে আসছেন। ঢাক-ঢোল, শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনির মধ্য দিয়ে দেবীকে বরণ করে নিতে ভক্তরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। প্রতিমায় দেবী দুর্গার অবয়ব নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলতে তিনি দিনরাত পরিশ্রম করেছেন। প্রতিমা তৈরির মূল কাজ শেষ। এখন চলছে রং-তুলির শেষ আঁচড়।

তিনি জানান, প্রতিমার সঙ্গে গণেশ, সরস্বতী, কার্তিক, লক্ষ্মী, অসুর, সিংহ, পেঁচা, হাঁস, ময়ূর, সাপ ও মহাদেবের মূর্তি তৈরির কাজও চলছে। অধিকাংশ প্রতিমায় রং করার কাজ শেষ হয়েছে। এখন চলছে চূড়ান্ত সাজসজ্জা।

চরফ্যাশন শ্রী শ্রী কালীবাড়ি সার্বজনীন দুর্গাপূজা মণ্ডপের পুরোহিত দুলাল চন্দ্র গাঙ্গুলী জানান, এবার দেবী দুর্গা গজ বা হাতিতে চড়ে মর্ত্যে আসবেন এবং দোলায় বা পালকিতে চড়ে ফিরে যাবেন। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, হাতিতে দেবীর আগমন শান্তি, সমৃদ্ধি ও শস্য-শ্যামল পৃথিবীর প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।

শ্রী শ্রী কালীবাড়ি পূজা মণ্ডপের সাধারণ সম্পাদক হৃদয় চন্দ্র শীল বলেন, ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার।’ দুর্গাপূজা উপলক্ষে মন্দির প্রাঙ্গণে স্থানীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। পাশাপাশি বসবে বিভিন্ন পণ্যের মেলা। উৎসবকে আনন্দমুখর করে তুলতে তিনি জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সবাইকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

চরফ্যাশন উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সংশ্লিষ্ট নেতা এবং শ্রী শ্রী কালীবাড়ি কেন্দ্রীয় সার্বজনীন দুর্গাপূজা মণ্ডপের সভাপতি পরেশ দেবনাথ জানান, এ বছর উপজেলায় ১৪টি পূজামণ্ডপে দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হবে। উৎসব সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে পূজা উদযাপন কমিটির সদস্যদের সঙ্গে মণ্ডপগুলোর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের মতবিনিময় হয়েছে।

চরফ্যাশন সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. মেহেদি হাসান জানান, প্রতিটি মণ্ডপে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা উদযাপন নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রস্তুতি রয়েছে। পূজার সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বেচ্ছাসেবক, আনসার ও চৌকিদারদের দায়িত্ব পালনের ব্যবস্থা থাকবে। পাশাপাশি মণ্ডপগুলোতে সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হবে।

চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আফরোজ বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসব সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করতে উপজেলার প্রতিটি পূজামণ্ডপে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।