চট্টগ্রামে ১২ হাজার টন জেট ফুয়েল, পথে ২ ডিজেলবাহী জাহাজ
- সর্বশেষ আপডেট ০৩:১৯:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬
- / 38
চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে ১২ হাজার টন জেট ফুয়েলবাহী একটি জাহাজ। একই দিনে রাতেই ভিড়তে যাচ্ছে আরও দুটি ডিজেলবাহী জাহাজ, যা জ্বালানি সরবরাহে কিছুটা স্বস্তি যোগ করতে পারে।
সিঙ্গাপুর থেকে উড়োজাহাজের জ্বালানি নিয়ে ‘এমটি গ্রেট প্রিন্সেস’ মঙ্গলবার সকাল আটটার দিকে চট্টগ্রাম বন্দরের জেটিতে নোঙর করে। জাহাজটিতে রয়েছে প্রায় ১২ হাজার টন জেট ফুয়েল, যা সরবরাহ করেছে ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন লিমিটেড।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানায়, ১২ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে জেট ফুয়েলের মজুত ছিল আনুমানিক ২২ হাজার টন—যা দিয়ে প্রায় দুই সপ্তাহের চাহিদা সামাল দেওয়া সম্ভব।
নতুন এই চালান যুক্ত হওয়ায় মজুত কিছুটা বেড়েছে। যদিও জেট ফুয়েলের ব্যবহার তুলনামূলক কম; মাসের প্রথম ১২ দিনে বিক্রি হয়েছে ২১ হাজার টন, দৈনিক গড় ১ হাজার ৭৫৮ টন, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় সামান্য বেশি।
এদিকে, আজ রাত ১১টার দিকে চট্টগ্রামে পৌঁছানোর কথা রয়েছে ডিজেলবাহী আরও দুটি জাহাজের। ‘এমটি টর্ম দামিনি’তে আসছে প্রায় ৩৩ হাজার টন ডিজেল (সরবরাহকারী ইউনিপ্যাক সিঙ্গাপুর পিটিই লিমিটেড) এবং ‘এমটি লুসিয়া সলিস’ আনছে প্রায় ৩৫ হাজার টন (সরবরাহকারী ভিটল এশিয়া)।
দেশের জ্বালানি ব্যবহারের বড় অংশই ডিজেলনির্ভর—মোট ব্যবহারের প্রায় ৬৩ শতাংশ। পরিবহন থেকে কৃষি, শিল্প থেকে বিদ্যুৎ—সবখানেই এর চাহিদা প্রবল। বিপিসির হিসাবে, এপ্রিল মাসে মোট চাহিদা প্রায় চার লাখ টন। সে হিসাব মাথায় রেখে মাসজুড়ে ধাপে ধাপে আমদানির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এর আগে মাসের শুরুতেই ৩ এপ্রিল দুটি জাহাজে করে আসে মোট ৬১ হাজার টন ডিজেল। তবু চাহিদার চাপ পুরোপুরি কমেনি। ১ থেকে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে ১ লাখ ৩৩ হাজার টন, দৈনিক গড় ১১ হাজার ১৩৮ টন।
১২ এপ্রিল পর্যন্ত সরবরাহযোগ্য ডিজেলের মজুত ছিল প্রায় ১ লাখ ১৯ হাজার টন, যা দিয়ে ১০ দিনের মতো চাহিদা মেটানো সম্ভব ছিল। নতুন দুটি চালান যুক্ত হলে এই সক্ষমতা আরও কয়েক দিন বাড়তে পারে—যদিও তা দীর্ঘমেয়াদে কতটা স্বস্তি দেবে, তা নির্ভর করছে পরবর্তী আমদানির ধারাবাহিকতার ওপর।
বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান জানান, নির্ধারিত সরবরাহের পাশাপাশি বিকল্প উৎস থেকেও জ্বালানি আনার চেষ্টা চলছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে বড় ধরনের সংকটের আশঙ্কা আপাতত দেখা যাচ্ছে না।































