ঢাকা ০২:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কোন দেশে ধর্ষকের কেমন শাস্তি?

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৫:৪৩:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬
  • / 37

ধর্ষণ আজ বিশ্বের প্রায় সব সমাজেই একটি গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত। কিন্তু অপরাধের ভয়াবহতা একই হলেও দেশভেদে শাস্তির ধরন একেবারেই এক নয়—কোথাও দ্রুত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়, কোথাও দীর্ঘ কারাদণ্ড, আবার কিছু দেশে যৌন সক্ষমতা কমিয়ে দেওয়ার মতো চিকিৎসাভিত্তিক শাস্তিও চালু রয়েছে। আইন কঠোর হলেও বাস্তবে বিচারপ্রক্রিয়ার গতি ও প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্নও থেকে যায়।

রাজধানীর পল্লবীতে এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় সম্প্রতি দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। এমন ঘটনার পর ধর্ষণ প্রতিরোধ ও শাস্তির বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্য বলছে, বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে ধর্ষণ মামলার সংখ্যা বেড়েছে এবং ভুক্তভোগীদের একটি বড় অংশই শিশু।

বিশ্বজুড়ে এ অপরাধের বিরুদ্ধে নীতি একরকম নয়। বাংলাদেশে ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণ ও হত্যার ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। দলবদ্ধ অপরাধ বা শিশুর বিরুদ্ধে সহিংসতায় সর্বোচ্চ শাস্তির পাশাপাশি আর্থিক জরিমানার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

ভারতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জনরোষের পর আইন কঠোর করা হয়েছে। বিশেষ করে শিশু ধর্ষণের ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত শাস্তির বিধান যুক্ত হয়েছে। দ্রুত বিচার ও জামিন সীমিত করার দিকেও জোর দেওয়া হয়েছে, যদিও বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে বিতর্ক আছে।

চীনে নারী-পুরুষ উভয়ের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতাকে অপরাধ হিসেবে দেখা হয়। গুরুতর ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে, আর কিছু ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড দেওয়া হয়। কিছু বিরল ক্ষেত্রে কঠোর শারীরিক শাস্তির কথাও শোনা যায়।

ইরানে ধর্ষণকে অত্যন্ত কঠোরভাবে দেখা হয় এবং সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। তবে শাস্তির ধরন ও বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণে ভিন্ন মত রয়েছে। প্রকাশ্য শাস্তির ঘটনাও দেখা যায়।

উত্তর কোরিয়ায় অভিযোগ প্রমাণিত হলে দ্রুত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার নজির রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ পাওয়া যায়। বিচারপ্রক্রিয়ায় সামাজিক অবস্থান ও ভুক্তভোগীর পরিচয় অনেক সময় প্রভাব ফেলতে পারে বলেও বলা হয়।

নেদারল্যান্ডসে শারীরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সম্মতির বিষয়টি কেন্দ্রীয়। সম্মতি ছাড়া যেকোনো ধরনের শারীরিক সংযোগ অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় এবং ৪ থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।

আফগানিস্তানে নারীর প্রতি সহিংসতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই আইনি সুরক্ষা দুর্বল হওয়ায় ভুক্তভোগীরা বিচারপ্রক্রিয়ার বাইরে থেকে যান। কিছু ক্ষেত্রে দ্রুত শাস্তি কার্যকরের কথাও বলা হলেও সামগ্রিক পরিস্থিতি জটিল।

সৌদি আরবে ধর্ষণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে। তবে প্রমাণ ও সাক্ষ্যসংক্রান্ত শর্ত কঠোর হওয়ায় বিচারপ্রক্রিয়া অনেক সময় জটিল হয়ে পড়ে।

এর বাইরে কিছু দেশে ‘রাসায়নিক খোজাকরণ’ বা কেমিক্যাল ক্যাস্ট্রেশন ব্যবহার করা হয়, যেখানে ওষুধের মাধ্যমে অপরাধীর যৌন সক্ষমতা কমিয়ে দেওয়া হয়। পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশে শিশু ধর্ষণ বা সিরিয়াল অপরাধীর ক্ষেত্রে এমন ব্যবস্থা আলোচনায় এসেছে বা আংশিকভাবে চালু হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু কঠোর শাস্তিই যথেষ্ট নয়। দ্রুত বিচার, কার্যকর তদন্ত এবং সামাজিক সচেতনতা না বাড়লে অপরাধ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হতে পারে। অনেক দেশে আইন থাকলেও বাস্তব প্রয়োগে ঘাটতি রয়ে গেছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

কোন দেশে ধর্ষকের কেমন শাস্তি?

সর্বশেষ আপডেট ০৫:৪৩:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

ধর্ষণ আজ বিশ্বের প্রায় সব সমাজেই একটি গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত। কিন্তু অপরাধের ভয়াবহতা একই হলেও দেশভেদে শাস্তির ধরন একেবারেই এক নয়—কোথাও দ্রুত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়, কোথাও দীর্ঘ কারাদণ্ড, আবার কিছু দেশে যৌন সক্ষমতা কমিয়ে দেওয়ার মতো চিকিৎসাভিত্তিক শাস্তিও চালু রয়েছে। আইন কঠোর হলেও বাস্তবে বিচারপ্রক্রিয়ার গতি ও প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্নও থেকে যায়।

রাজধানীর পল্লবীতে এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় সম্প্রতি দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। এমন ঘটনার পর ধর্ষণ প্রতিরোধ ও শাস্তির বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্য বলছে, বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে ধর্ষণ মামলার সংখ্যা বেড়েছে এবং ভুক্তভোগীদের একটি বড় অংশই শিশু।

বিশ্বজুড়ে এ অপরাধের বিরুদ্ধে নীতি একরকম নয়। বাংলাদেশে ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণ ও হত্যার ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। দলবদ্ধ অপরাধ বা শিশুর বিরুদ্ধে সহিংসতায় সর্বোচ্চ শাস্তির পাশাপাশি আর্থিক জরিমানার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

ভারতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জনরোষের পর আইন কঠোর করা হয়েছে। বিশেষ করে শিশু ধর্ষণের ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত শাস্তির বিধান যুক্ত হয়েছে। দ্রুত বিচার ও জামিন সীমিত করার দিকেও জোর দেওয়া হয়েছে, যদিও বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে বিতর্ক আছে।

চীনে নারী-পুরুষ উভয়ের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতাকে অপরাধ হিসেবে দেখা হয়। গুরুতর ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে, আর কিছু ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড দেওয়া হয়। কিছু বিরল ক্ষেত্রে কঠোর শারীরিক শাস্তির কথাও শোনা যায়।

ইরানে ধর্ষণকে অত্যন্ত কঠোরভাবে দেখা হয় এবং সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। তবে শাস্তির ধরন ও বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণে ভিন্ন মত রয়েছে। প্রকাশ্য শাস্তির ঘটনাও দেখা যায়।

উত্তর কোরিয়ায় অভিযোগ প্রমাণিত হলে দ্রুত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার নজির রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ পাওয়া যায়। বিচারপ্রক্রিয়ায় সামাজিক অবস্থান ও ভুক্তভোগীর পরিচয় অনেক সময় প্রভাব ফেলতে পারে বলেও বলা হয়।

নেদারল্যান্ডসে শারীরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সম্মতির বিষয়টি কেন্দ্রীয়। সম্মতি ছাড়া যেকোনো ধরনের শারীরিক সংযোগ অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় এবং ৪ থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।

আফগানিস্তানে নারীর প্রতি সহিংসতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই আইনি সুরক্ষা দুর্বল হওয়ায় ভুক্তভোগীরা বিচারপ্রক্রিয়ার বাইরে থেকে যান। কিছু ক্ষেত্রে দ্রুত শাস্তি কার্যকরের কথাও বলা হলেও সামগ্রিক পরিস্থিতি জটিল।

সৌদি আরবে ধর্ষণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে। তবে প্রমাণ ও সাক্ষ্যসংক্রান্ত শর্ত কঠোর হওয়ায় বিচারপ্রক্রিয়া অনেক সময় জটিল হয়ে পড়ে।

এর বাইরে কিছু দেশে ‘রাসায়নিক খোজাকরণ’ বা কেমিক্যাল ক্যাস্ট্রেশন ব্যবহার করা হয়, যেখানে ওষুধের মাধ্যমে অপরাধীর যৌন সক্ষমতা কমিয়ে দেওয়া হয়। পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশে শিশু ধর্ষণ বা সিরিয়াল অপরাধীর ক্ষেত্রে এমন ব্যবস্থা আলোচনায় এসেছে বা আংশিকভাবে চালু হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু কঠোর শাস্তিই যথেষ্ট নয়। দ্রুত বিচার, কার্যকর তদন্ত এবং সামাজিক সচেতনতা না বাড়লে অপরাধ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হতে পারে। অনেক দেশে আইন থাকলেও বাস্তব প্রয়োগে ঘাটতি রয়ে গেছে।