কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা আজ
- সর্বশেষ আপডেট ১০:৪৩:৩০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
- / 82
হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা আজ রোববার (২৫ অক্টোবর)। শারদীয় দুর্গোৎসবের পর আশ্বিন মাসের পূর্ণিমা তিথিতে দেবী লক্ষ্মীর আরাধনা করেন ভক্তরা। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এ রাতে দেবী লক্ষ্মী ভক্তদের গৃহে আগমন করেন এবং তাঁদের ধনসম্পদ, সমৃদ্ধি ও সৌভাগ্য কামনায় আশীর্বাদ করেন।
বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা অনুযায়ী, রোববার বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে পূর্ণিমা তিথি শুরু হয়েছে। তিথি শেষ হবে সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল ৯টা ৪১ মিনিটে।
ঐশ্বর্য ও সমৃদ্ধির দেবী লক্ষ্মী
হিন্দুধর্মের শাস্ত্রীয় বিশ্বাসে দেবী লক্ষ্মী ধনসম্পদ, ঐশ্বর্য, সৌভাগ্য, সৌন্দর্য ও সমৃদ্ধির প্রতীক। তাঁকে জ্ঞান, উর্বরতা, দানশীলতা ও কল্যাণের দেবী হিসেবেও বিবেচনা করা হয়। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, লক্ষ্মীর বাহন প্যাঁচা। বিষ্ণু রাম ও কৃষ্ণরূপে অবতীর্ণ হলে লক্ষ্মী যথাক্রমে সীতা ও রাধারূপে তাঁর সঙ্গিনী হন বলে ধর্মীয় আখ্যান রয়েছে।
প্রাচীনকাল থেকেই রাজা-মহারাজা, ব্যবসায়ী ও সাধারণ গৃহস্থের মধ্যে দেবী লক্ষ্মীর পূজার প্রচলন রয়েছে। অনেকে আশ্বিন মাসের পূর্ণিমা ছাড়াও প্রতি বৃহস্পতিবার লক্ষ্মীর বিশেষ পূজা করেন। আবার কিছু অঞ্চলে দীপান্বিতা অমাবস্যায় লক্ষ্মীপূজার রীতি প্রচলিত রয়েছে।
পূজার আয়োজন ও ধর্মীয় আচার
কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা ব্যক্তিগত ও সার্বজনীন; উভয়ভাবেই উদ্যাপন করা হয়। কোথাও দেবীর প্রতিমা, আবার কোথাও ঘটে দেবী লক্ষ্মীর পূজা করা হয়। পূজার উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা হয় সিঁদুর, ঘট, ধান, মাটি, আম্রপল্লব, ফুল, দূর্বা, তুলসীপাতা, হরীতকী, চন্দন, ধূপ, দীপ, নৈবেদ্য, আতপচাল ও জল।
পূজা উপলক্ষে বাড়ির আঙিনা ও প্রবেশপথে চালের গুঁড়া দিয়ে আলপনা আঁকা হয়। অনেক বাড়িতে লক্ষ্মীর পায়ের ছাপের নকশা করা হয়। ভক্তরা দেবীর আরাধনার পাশাপাশি লক্ষ্মীর পাঁচালি পাঠ করেন। এ উপলক্ষে অনেক নারী উপবাসব্রত পালন করেন এবং পূজার পর প্রসাদ গ্রহণ করেন।
কেন বলা হয় কোজাগরী পূর্ণিমা
‘কোজাগরী’ শব্দটির সঙ্গে ‘কে জেগে আছো’ এই প্রচলিত ধর্মীয় বিশ্বাসের সম্পর্ক রয়েছে। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, পূর্ণিমার রাতে দেবী লক্ষ্মী গৃহে গৃহে পরিভ্রমণ করেন এবং জেগে থাকা ভক্তদের আশীর্বাদ করেন। এ কারণে অনেক ভক্ত সারা রাত জেগে পূজা-অর্চনা করেন। এই রাতের জাগরণ থেকেই কোজাগরী লক্ষ্মীপূজার বিশেষ তাৎপর্য তৈরি হয়েছে।
ধর্মীয় আচার, উপবাস, পাঁচালি পাঠ ও আলপনা আঁকার মধ্য দিয়ে ভক্তরা দিনটি পালন করেন। তাঁদের বিশ্বাস, দেবী লক্ষ্মীর কৃপায় পরিবারে সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি ও সৌভাগ্য প্রতিষ্ঠিত হয়।





























