ঢাকা ০৬:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কারা পাচ্ছেন কৃষক কার্ড; কি কি সুবিধা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৯:১৩:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬
  • / 418

নমুনা কার্ড (সংগৃহীত)

বাংলাদেশের কৃষিখাতে আসছে নতুন পরিবর্তন। ‘ফ্যামেলি কার্ড’-এর পাশাপাশি এবার চালু হতে যাচ্ছে ‘কৃষক কার্ড’। সরকারের প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় ১২ লাখ কৃষককে এই কার্ডের আওতায় আনা হবে।

প্রশ্ন হচ্ছে- কারা পাবেন এই কার্ড? কী সুবিধা থাকবে? আর আবেদন করবেন কীভাবে?

কৃষক কার্ডের বিষয়টি ছিল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র নির্বাচনী ইশতেহারেও। ইতোমধ্যে সরকার ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য একটি বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে- সুদসহ সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হবে। মূল লক্ষ্য হচ্ছে দরিদ্র কৃষকদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কৃষি খাতকে আরও শক্তিশালী করা।

বাংলাদেশ ব্যাংক-এর তথ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রায়ত্ত, বিশেষায়িত ও বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক মিলিয়ে কৃষি খাতে সুদসহ বকেয়া ঋণের পরিমাণ প্রায় এক হাজার ৫৫০ কোটি টাকা। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে প্রায় ১২ লাখ ক্ষুদ্র ঋণগ্রহীতা সরাসরি উপকৃত হবেন।

এবার আসি কৃষক কার্ডের সুবিধায়। এই কার্ডের মাধ্যমে একজন কৃষক কৃষি উৎপাদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব ধরনের সরকারি সেবা ও প্রণোদনা সরাসরি পাবেন। কার্ডটি এমনভাবে তৈরি করা হচ্ছে যাতে সরাসরি ব্যাংকিং সুবিধা পাওয়া যায়। কৃষি ভর্তুকি, সার ও বীজ সরাসরি কৃষকের হাতে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই কার্ডে জমির আয়তন, ফসলের ধরন এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসহ একটি ডিজিটাল প্রোফাইল থাকবে। অর্থাৎ প্রতিটি কৃষকের জন্য তৈরি হবে একটি স্বতন্ত্র তথ্যভাণ্ডার।

কার্ডটির সম্ভাব্য বৈশিষ্ট্যগুলো হলো: প্রথমত, ভর্তুকি ও প্রণোদনার অর্থ সরাসরি ব্যাংক বা মোবাইল ফিন্যানশিয়াল সার্ভিস অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে। দ্বিতীয়ত, ভর্তুকিপ্রাপ্ত সার, বীজ ও কীটনাশক সহজলভ্য করা হবে। তৃতীয়ত, কৃষিঋণ প্রক্রিয়া সহজ ও সুসংগঠিত হবে। চতুর্থত, আবহাওয়া, উৎপাদন ও বাজারদর সংক্রান্ত এসএমএসভিত্তিক আপডেট দেওয়া হবে।

এখন প্রশ্ন- কৃষক কার্ড পেতে কী করতে হবে? নিবন্ধন করা যাবে ইউনিয়ন পর্যায়ে সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে। এছাড়া প্রকল্প চালুর পর নির্ধারিত অনলাইন পোর্টালেও আবেদন করা যাবে।

কৃষক কার্ড পেতে যেসব তথ্য লাগবে- এক. এনআইডির কপি। দুই. পাসপোর্ট সাইজের ছবি। তিন. একটি সচল মোবাইল নম্বর। চার. জমির দলিল অথবা ভাগে চাষ করলে তার প্রমাণপত্র। পাঁচ. ব্যাংক অথবা মোবাইল ফিন্যানশিয়াল সার্ভিস অ্যাকাউন্ট নম্বর।

প্রথমে আপনাকে আপনার ইউনিয়নের সংশ্লিষ্ট ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। তিনি প্রাথমিক তালিকা প্রস্তুত করবেন।

যখন আপনার এলাকায় পাইলট প্রকল্প বা মূল কার্যক্রম শুরু হবে, তখন একটি ফরম পূরণ করতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে এটি অনলাইনেও করা যাবে। আপনার দেওয়া তথ্য- যেমন জমির পরিমাণ, ফসলের ধরন- কৃষি অফিস সরেজমিনে যাচাই করবে।

এরপর আপনার এনআইডি ও মোবাইল নম্বরের ভিত্তিতে একটি ডিজিটাল প্রোফাইল তৈরি হবে। যাচাই সম্পন্ন হলে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে আপনাকে স্মার্ট কৃষক কার্ড প্রদান করা হবে।

তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা। সরকার জানিয়েছে, এই কার্ড সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হবে। কার্ডের জন্য কারও সঙ্গে কোনো প্রকার অর্থ লেনদেন করবেন না। প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকুন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

কারা পাচ্ছেন কৃষক কার্ড; কি কি সুবিধা

সর্বশেষ আপডেট ০৯:১৩:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬

বাংলাদেশের কৃষিখাতে আসছে নতুন পরিবর্তন। ‘ফ্যামেলি কার্ড’-এর পাশাপাশি এবার চালু হতে যাচ্ছে ‘কৃষক কার্ড’। সরকারের প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় ১২ লাখ কৃষককে এই কার্ডের আওতায় আনা হবে।

প্রশ্ন হচ্ছে- কারা পাবেন এই কার্ড? কী সুবিধা থাকবে? আর আবেদন করবেন কীভাবে?

কৃষক কার্ডের বিষয়টি ছিল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র নির্বাচনী ইশতেহারেও। ইতোমধ্যে সরকার ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য একটি বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে- সুদসহ সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হবে। মূল লক্ষ্য হচ্ছে দরিদ্র কৃষকদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কৃষি খাতকে আরও শক্তিশালী করা।

বাংলাদেশ ব্যাংক-এর তথ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রায়ত্ত, বিশেষায়িত ও বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক মিলিয়ে কৃষি খাতে সুদসহ বকেয়া ঋণের পরিমাণ প্রায় এক হাজার ৫৫০ কোটি টাকা। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে প্রায় ১২ লাখ ক্ষুদ্র ঋণগ্রহীতা সরাসরি উপকৃত হবেন।

এবার আসি কৃষক কার্ডের সুবিধায়। এই কার্ডের মাধ্যমে একজন কৃষক কৃষি উৎপাদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব ধরনের সরকারি সেবা ও প্রণোদনা সরাসরি পাবেন। কার্ডটি এমনভাবে তৈরি করা হচ্ছে যাতে সরাসরি ব্যাংকিং সুবিধা পাওয়া যায়। কৃষি ভর্তুকি, সার ও বীজ সরাসরি কৃষকের হাতে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই কার্ডে জমির আয়তন, ফসলের ধরন এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসহ একটি ডিজিটাল প্রোফাইল থাকবে। অর্থাৎ প্রতিটি কৃষকের জন্য তৈরি হবে একটি স্বতন্ত্র তথ্যভাণ্ডার।

কার্ডটির সম্ভাব্য বৈশিষ্ট্যগুলো হলো: প্রথমত, ভর্তুকি ও প্রণোদনার অর্থ সরাসরি ব্যাংক বা মোবাইল ফিন্যানশিয়াল সার্ভিস অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে। দ্বিতীয়ত, ভর্তুকিপ্রাপ্ত সার, বীজ ও কীটনাশক সহজলভ্য করা হবে। তৃতীয়ত, কৃষিঋণ প্রক্রিয়া সহজ ও সুসংগঠিত হবে। চতুর্থত, আবহাওয়া, উৎপাদন ও বাজারদর সংক্রান্ত এসএমএসভিত্তিক আপডেট দেওয়া হবে।

এখন প্রশ্ন- কৃষক কার্ড পেতে কী করতে হবে? নিবন্ধন করা যাবে ইউনিয়ন পর্যায়ে সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে। এছাড়া প্রকল্প চালুর পর নির্ধারিত অনলাইন পোর্টালেও আবেদন করা যাবে।

কৃষক কার্ড পেতে যেসব তথ্য লাগবে- এক. এনআইডির কপি। দুই. পাসপোর্ট সাইজের ছবি। তিন. একটি সচল মোবাইল নম্বর। চার. জমির দলিল অথবা ভাগে চাষ করলে তার প্রমাণপত্র। পাঁচ. ব্যাংক অথবা মোবাইল ফিন্যানশিয়াল সার্ভিস অ্যাকাউন্ট নম্বর।

প্রথমে আপনাকে আপনার ইউনিয়নের সংশ্লিষ্ট ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। তিনি প্রাথমিক তালিকা প্রস্তুত করবেন।

যখন আপনার এলাকায় পাইলট প্রকল্প বা মূল কার্যক্রম শুরু হবে, তখন একটি ফরম পূরণ করতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে এটি অনলাইনেও করা যাবে। আপনার দেওয়া তথ্য- যেমন জমির পরিমাণ, ফসলের ধরন- কৃষি অফিস সরেজমিনে যাচাই করবে।

এরপর আপনার এনআইডি ও মোবাইল নম্বরের ভিত্তিতে একটি ডিজিটাল প্রোফাইল তৈরি হবে। যাচাই সম্পন্ন হলে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে আপনাকে স্মার্ট কৃষক কার্ড প্রদান করা হবে।

তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা। সরকার জানিয়েছে, এই কার্ড সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হবে। কার্ডের জন্য কারও সঙ্গে কোনো প্রকার অর্থ লেনদেন করবেন না। প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকুন।