ঢাকা ১০:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৫ জেলায় নতুন ইপিজেড ও অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠনের সিদ্ধান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৭:৫৪:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
  • / 22

বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো, রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং নতুন কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্য সামনে রেখে দেশের পাঁচ জেলায় নতুন শিল্প অঞ্চল গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বরিশাল ও লালমনিরহাটে ইপিজেড এবং গাজীপুর, বরগুনা ও পিরোজপুরে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হবে।

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক সংস্থাগুলোকে আলাদা চিঠির মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করার নির্দেশ দিয়েছে।

গত মে মাসে অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসক সম্মেলনে বিভিন্ন জেলার প্রশাসকেরা নতুন ইপিজেড ও অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠনের প্রস্তাব তুলে ধরেন। পরে যাচাই-বাছাই শেষে বাস্তবায়নযোগ্য পরিকল্পনাগুলোকে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচির আওতায় নেওয়া হয়। এসব অগ্রগতি নিয়মিতভাবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানোর নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সূত্র জানায়, জেলা পর্যায় থেকে আসা এক হাজারের বেশি উন্নয়ন প্রস্তাব পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিক বৈঠকের পর চূড়ান্ত পরিকল্পনা নির্ধারণ করা হয়।

বেপজা-র অধীনে বর্তমানে দেশের আটটি ইপিজেড কার্যক্রম চালাচ্ছে—ঢাকা, চট্টগ্রাম, মোংলা, কুমিল্লা, ঈশ্বরদী, কর্ণফুলী, আদমজী ও উত্তরা। এসব অঞ্চলে শুল্ক সুবিধায় কাঁচামাল আমদানি এবং উৎপাদিত পণ্য সরাসরি রপ্তানির সুযোগ রয়েছে।

গাজীপুরে শিল্পকারখানা একত্রিত করে পরিকল্পিত শিল্পায়নের অংশ হিসেবে অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠনের প্রস্তাব এসেছে। এতে পরিবেশ দূষণ কমানো, কৃষিজমি রক্ষা এবং বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

বরিশালে ইপিজেড স্থাপিত হলে স্থানীয় কর্মসংস্থান বাড়বে এবং ঢাকামুখী শ্রম প্রবাহ কমবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পায়রা সমুদ্রবন্দরের কাছাকাছি অবস্থান পণ্য পরিবহনেও সুবিধা দেবে।

বরগুনায় উপকূলীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলকে কেন্দ্র করে মৎস্য, কৃষি ও সামুদ্রিক সম্পদভিত্তিক শিল্প বিকাশের সুযোগ তৈরি হতে পারে। পায়রা বন্দরের সঙ্গে সংযোগকে এতে গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পিরোজপুরে প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চলটি সড়ক ও নৌপথে যোগাযোগ সুবিধার কারণে শিল্প ও বাণিজ্যের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

লালমনিরহাটে কৃষিভিত্তিক ইপিজেড গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। ধান, আলু ও ভুট্টার প্রাচুর্য এবং বুড়িমারী স্থলবন্দর এই অঞ্চলের শিল্প সম্ভাবনাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, উন্নয়ন কার্যক্রমের অগ্রগতি মাসভিত্তিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নিয়মিত প্রতিবেদন পাঠাতে বলা হয়েছে।

এদিকে সংসদে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে নীতিগত সংস্কার ও প্রক্রিয়াগত সহজীকরণ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।

সরকারের পরিকল্পনায় বিভিন্ন অর্থনৈতিক সংস্থা একীভূত করার উদ্যোগও রয়েছে, যা সেবা প্রদানে গতি আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

৫ জেলায় নতুন ইপিজেড ও অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠনের সিদ্ধান্ত

সর্বশেষ আপডেট ০৭:৫৪:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো, রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং নতুন কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্য সামনে রেখে দেশের পাঁচ জেলায় নতুন শিল্প অঞ্চল গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বরিশাল ও লালমনিরহাটে ইপিজেড এবং গাজীপুর, বরগুনা ও পিরোজপুরে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হবে।

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক সংস্থাগুলোকে আলাদা চিঠির মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করার নির্দেশ দিয়েছে।

গত মে মাসে অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসক সম্মেলনে বিভিন্ন জেলার প্রশাসকেরা নতুন ইপিজেড ও অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠনের প্রস্তাব তুলে ধরেন। পরে যাচাই-বাছাই শেষে বাস্তবায়নযোগ্য পরিকল্পনাগুলোকে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচির আওতায় নেওয়া হয়। এসব অগ্রগতি নিয়মিতভাবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানোর নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সূত্র জানায়, জেলা পর্যায় থেকে আসা এক হাজারের বেশি উন্নয়ন প্রস্তাব পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিক বৈঠকের পর চূড়ান্ত পরিকল্পনা নির্ধারণ করা হয়।

বেপজা-র অধীনে বর্তমানে দেশের আটটি ইপিজেড কার্যক্রম চালাচ্ছে—ঢাকা, চট্টগ্রাম, মোংলা, কুমিল্লা, ঈশ্বরদী, কর্ণফুলী, আদমজী ও উত্তরা। এসব অঞ্চলে শুল্ক সুবিধায় কাঁচামাল আমদানি এবং উৎপাদিত পণ্য সরাসরি রপ্তানির সুযোগ রয়েছে।

গাজীপুরে শিল্পকারখানা একত্রিত করে পরিকল্পিত শিল্পায়নের অংশ হিসেবে অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠনের প্রস্তাব এসেছে। এতে পরিবেশ দূষণ কমানো, কৃষিজমি রক্ষা এবং বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

বরিশালে ইপিজেড স্থাপিত হলে স্থানীয় কর্মসংস্থান বাড়বে এবং ঢাকামুখী শ্রম প্রবাহ কমবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পায়রা সমুদ্রবন্দরের কাছাকাছি অবস্থান পণ্য পরিবহনেও সুবিধা দেবে।

বরগুনায় উপকূলীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলকে কেন্দ্র করে মৎস্য, কৃষি ও সামুদ্রিক সম্পদভিত্তিক শিল্প বিকাশের সুযোগ তৈরি হতে পারে। পায়রা বন্দরের সঙ্গে সংযোগকে এতে গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পিরোজপুরে প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চলটি সড়ক ও নৌপথে যোগাযোগ সুবিধার কারণে শিল্প ও বাণিজ্যের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

লালমনিরহাটে কৃষিভিত্তিক ইপিজেড গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। ধান, আলু ও ভুট্টার প্রাচুর্য এবং বুড়িমারী স্থলবন্দর এই অঞ্চলের শিল্প সম্ভাবনাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, উন্নয়ন কার্যক্রমের অগ্রগতি মাসভিত্তিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নিয়মিত প্রতিবেদন পাঠাতে বলা হয়েছে।

এদিকে সংসদে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে নীতিগত সংস্কার ও প্রক্রিয়াগত সহজীকরণ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।

সরকারের পরিকল্পনায় বিভিন্ন অর্থনৈতিক সংস্থা একীভূত করার উদ্যোগও রয়েছে, যা সেবা প্রদানে গতি আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।