ঢাকা ১০:৫৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৩ লাল কার্ডের ম্যাচে জিতল মেক্সিকো

স্পোর্টস ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১১:৪৫:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
  • / 24

গোলের পর রাউল হিমেনেসের উল্লাস

মাঠে দুই দলের শক্তির স্পষ্ট ব্যবধান ফুটিয়ে তুলে এবং মাঠের চরম নাটকীয়তায় দাপুটে পারফরম্যান্সের মাধ্যমে ফুটবল বিশ্বকাপে নিজেদের শুভসূচনা করল মেক্সিকো। মেক্সিকো সিটির বিখ্যাত ও ঐতিহাসিক আসতেকা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের জমকালো উদ্বোধনী ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-০ গোলের ব্যবধানে হারিয়েছে টুর্নামেন্টের অন্যতম সহ-আয়োজক দেশটি। মেক্সিকোর হয়ে প্রথমার্ধে হুলিয়ান কিনোনেস দলকে এগিয়ে নেওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তারকা স্ট্রাইকার রাউল হিমেনেস।

২০১০ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচেও এই দুই দল মুখোমুখি হয়েছিল এবং সেই ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়েছিল। তবে এবার আর কোনো ধরনের অঘটন বা চমক দেখাতে পারেনি দক্ষিণ আফ্রিকা; বরং ম্যাচের পুরোটা সময় স্বাগতিকদের বিপক্ষে কোনো রকম প্রতিরোধই গড়ে তুলতে পারেনি তারা। মেক্সিকোর কোচ এবার রেকর্ড ষষ্ঠ বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া অভিজ্ঞ গোলরক্ষক গিয়ের্মো ওচোয়াকে বেঞ্চে বসিয়ে তরুণ রাউল রানহেলকে একাদশে সুযোগ দেন। যদিও পুরো ম্যাচে আফ্রিকান ফরোয়ার্ডরা রানহেলকে তেমন কোনো কঠিন পরীক্ষাই ফেলতে পারেনি।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলা মেক্সিকো ৯ম মিনিটেই গোলের দেখা পেয়ে যায়। ডি-বক্সের ঠিক বাইরে দক্ষিণ আফ্রিকার রক্ষণভাগের এক ডিফেন্ডারের মারাত্মক ভুলের সুযোগ নিয়ে বল লুফে নেন হুলিয়ান কিনোনেস। তিনি ডি-বক্সে ঢুকে সরাসরি শট নিলে বল গোলরক্ষক উইলিয়ামসের দুই পায়ের মাঝখান দিয়ে সোজা জালে জড়িয়ে যায়। ২০২৪ সালের জুনের পর জাতীয় দলের জার্সিতে এটিই কিনোনেসের প্রথম গোল। একই সাথে এটি ২০০৬ বিশ্বকাপের পর থেকে বিশ্বমঞ্চের ইতিহাসে দ্রুততম প্রথম গোল। প্রথমার্ধের ৩৯ ও ৪০ মিনিটে মেক্সিকো আরও দুটি দুর্দান্ত সুযোগ পেলেও গোলরক্ষকের সেভ এবং পোস্টের বাধায় ব্যবধান বাড়েনি।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় দক্ষিণ আফ্রিকা। দ্রুত গতির এক পাল্টা আক্রমণে মেক্সিকান মিডফিল্ডার ব্রায়ান গুতিরেসকে ডি-বক্সের বাইরে ফাউল করে বসেন স্ফেফেলো সিটোলে। রেফারি তাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখালে ১০ জনের দলে পরিণত হয় দক্ষিণ আফ্রিকা। এই সুযোগে প্রতিপক্ষকে আরও চেপে ধরে ম্যাচের ৬৭তম মিনিটে দ্বিতীয় গোল আদায় করে নেয় মেক্সিকো। রবের্তো আলভারাদোর ডান প্রান্ত থেকে বাড়ানো চমৎকার এক ক্রস দূরের পোস্টে পেয়ে নিখুঁত হেডে বল জালে পাঠান রাউল হিমেনেস। জাতীয় দলের হয়ে ১২৭ ম্যাচে এটি তাঁর ৪৬তম গোল হলেও বিশ্বকাপে এটিই তাঁর প্রথম গোল।

ম্যাচের শেষ দিকটা রূপ নেয় লাল কার্ডের নাটকের মঞ্চে। নির্ধারিত সময়ের খেলা শেষ হওয়ার ঠিক ৬ মিনিট আগে বলের দখল নেওয়ার লড়াইয়ে মেক্সিকোর আলভারাদোর মুখে আঘাত করে বসেন দক্ষিণ আফ্রিকার অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার থেম্বা জোয়ান। রেফারি তাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখালে ৯ জনের দলে পরিণত হয় দক্ষিণ আফ্রিকা।

এর পর যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে দক্ষিণ আফ্রিকার একটি বিপজ্জনক পাল্টা আক্রমণ ঠেকাতে গিয়ে ডি-বক্সের বাইরে মাদাওকে ফাউল করেন মেক্সিকোর সেন্টার-ব্যাক সেসার মন্তেস। রেফারি তাকেও সরাসরি লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বের করে দেন। শেষ পর্যন্ত ম্যাচটিতে মোট ৩টি লাল কার্ডের দেখা মেলে, যার দুটি পায় দক্ষিণ আফ্রিকা এবং একটি মেক্সিকো। তবে এই কার্ডের হিড়িক ও নাটকীয়তা আসরের সহ-আয়োজক মেক্সিকোর জয়ের আনন্দে কোনো ধরনের চির ধরাতে পারেনি।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

৩ লাল কার্ডের ম্যাচে জিতল মেক্সিকো

সর্বশেষ আপডেট ১১:৪৫:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

মাঠে দুই দলের শক্তির স্পষ্ট ব্যবধান ফুটিয়ে তুলে এবং মাঠের চরম নাটকীয়তায় দাপুটে পারফরম্যান্সের মাধ্যমে ফুটবল বিশ্বকাপে নিজেদের শুভসূচনা করল মেক্সিকো। মেক্সিকো সিটির বিখ্যাত ও ঐতিহাসিক আসতেকা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের জমকালো উদ্বোধনী ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-০ গোলের ব্যবধানে হারিয়েছে টুর্নামেন্টের অন্যতম সহ-আয়োজক দেশটি। মেক্সিকোর হয়ে প্রথমার্ধে হুলিয়ান কিনোনেস দলকে এগিয়ে নেওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তারকা স্ট্রাইকার রাউল হিমেনেস।

২০১০ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচেও এই দুই দল মুখোমুখি হয়েছিল এবং সেই ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়েছিল। তবে এবার আর কোনো ধরনের অঘটন বা চমক দেখাতে পারেনি দক্ষিণ আফ্রিকা; বরং ম্যাচের পুরোটা সময় স্বাগতিকদের বিপক্ষে কোনো রকম প্রতিরোধই গড়ে তুলতে পারেনি তারা। মেক্সিকোর কোচ এবার রেকর্ড ষষ্ঠ বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া অভিজ্ঞ গোলরক্ষক গিয়ের্মো ওচোয়াকে বেঞ্চে বসিয়ে তরুণ রাউল রানহেলকে একাদশে সুযোগ দেন। যদিও পুরো ম্যাচে আফ্রিকান ফরোয়ার্ডরা রানহেলকে তেমন কোনো কঠিন পরীক্ষাই ফেলতে পারেনি।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলা মেক্সিকো ৯ম মিনিটেই গোলের দেখা পেয়ে যায়। ডি-বক্সের ঠিক বাইরে দক্ষিণ আফ্রিকার রক্ষণভাগের এক ডিফেন্ডারের মারাত্মক ভুলের সুযোগ নিয়ে বল লুফে নেন হুলিয়ান কিনোনেস। তিনি ডি-বক্সে ঢুকে সরাসরি শট নিলে বল গোলরক্ষক উইলিয়ামসের দুই পায়ের মাঝখান দিয়ে সোজা জালে জড়িয়ে যায়। ২০২৪ সালের জুনের পর জাতীয় দলের জার্সিতে এটিই কিনোনেসের প্রথম গোল। একই সাথে এটি ২০০৬ বিশ্বকাপের পর থেকে বিশ্বমঞ্চের ইতিহাসে দ্রুততম প্রথম গোল। প্রথমার্ধের ৩৯ ও ৪০ মিনিটে মেক্সিকো আরও দুটি দুর্দান্ত সুযোগ পেলেও গোলরক্ষকের সেভ এবং পোস্টের বাধায় ব্যবধান বাড়েনি।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় দক্ষিণ আফ্রিকা। দ্রুত গতির এক পাল্টা আক্রমণে মেক্সিকান মিডফিল্ডার ব্রায়ান গুতিরেসকে ডি-বক্সের বাইরে ফাউল করে বসেন স্ফেফেলো সিটোলে। রেফারি তাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখালে ১০ জনের দলে পরিণত হয় দক্ষিণ আফ্রিকা। এই সুযোগে প্রতিপক্ষকে আরও চেপে ধরে ম্যাচের ৬৭তম মিনিটে দ্বিতীয় গোল আদায় করে নেয় মেক্সিকো। রবের্তো আলভারাদোর ডান প্রান্ত থেকে বাড়ানো চমৎকার এক ক্রস দূরের পোস্টে পেয়ে নিখুঁত হেডে বল জালে পাঠান রাউল হিমেনেস। জাতীয় দলের হয়ে ১২৭ ম্যাচে এটি তাঁর ৪৬তম গোল হলেও বিশ্বকাপে এটিই তাঁর প্রথম গোল।

ম্যাচের শেষ দিকটা রূপ নেয় লাল কার্ডের নাটকের মঞ্চে। নির্ধারিত সময়ের খেলা শেষ হওয়ার ঠিক ৬ মিনিট আগে বলের দখল নেওয়ার লড়াইয়ে মেক্সিকোর আলভারাদোর মুখে আঘাত করে বসেন দক্ষিণ আফ্রিকার অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার থেম্বা জোয়ান। রেফারি তাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখালে ৯ জনের দলে পরিণত হয় দক্ষিণ আফ্রিকা।

এর পর যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে দক্ষিণ আফ্রিকার একটি বিপজ্জনক পাল্টা আক্রমণ ঠেকাতে গিয়ে ডি-বক্সের বাইরে মাদাওকে ফাউল করেন মেক্সিকোর সেন্টার-ব্যাক সেসার মন্তেস। রেফারি তাকেও সরাসরি লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বের করে দেন। শেষ পর্যন্ত ম্যাচটিতে মোট ৩টি লাল কার্ডের দেখা মেলে, যার দুটি পায় দক্ষিণ আফ্রিকা এবং একটি মেক্সিকো। তবে এই কার্ডের হিড়িক ও নাটকীয়তা আসরের সহ-আয়োজক মেক্সিকোর জয়ের আনন্দে কোনো ধরনের চির ধরাতে পারেনি।