ঢাকা ০৬:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগের ঘোষণা সরকারের

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৩:৫০:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
  • / 34

বাংলাদেশে মাতৃস্বাস্থ্য সেবায় বড় ধরনের পরিবর্তনের লক্ষ্যে ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগ ও প্রশিক্ষণের ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ)। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই উদ্যোগকে ‘মাইলফলক’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে মাতৃসেবা উন্নয়নে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে ২০৩০ সালের মধ্যে ২৫ হাজার পেশাদার মিডওয়াইফ নিয়োগ ও প্রশিক্ষণের পরিকল্পনার মাধ্যমে। এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।

পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে অনুষ্ঠিত ৩৪তম আইসিএম ত্রিবার্ষিক কংগ্রেসে বাংলাদেশের এই পরিকল্পনার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস. এম. জিয়াউদ্দিন হায়দার এবং ইউএনএফপিএর নির্বাহী পরিচালক ডিয়েন কেইটা যৌথভাবে বিষয়টি উপস্থাপন করেন।

ইউএনএফপিএ বাংলাদেশ সরকারকে অভিনন্দন জানিয়ে জানায়, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশে ২৫ হাজারের বেশি মিডওয়াইফ পদ সৃষ্টি হবে, যা মাতৃমৃত্যু কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সংস্থাটির মতে, এটি শুধু একটি নীতি নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি জনস্বাস্থ্য বিনিয়োগের দিকেও ইঙ্গিত করে।

ডিয়েন কেইটা লিসবনের মঞ্চে বাংলাদেশকে ‘পথপ্রদর্শক’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, মিডওয়াইফদের ওপর বিনিয়োগ মূলত জীবনরক্ষার ক্ষেত্রেই সরাসরি প্রভাব ফেলে, যা মাতৃমৃত্যুকে অনিবার্য বাস্তবতা হিসেবে দেখার ধারণাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

পরিসংখ্যান বলছে, এই উদ্যোগ সফল হলে বছরে প্রায় চার হাজার মাতৃমৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব হতে পারে। যদিও বাংলাদেশ ইতোমধ্যে অগ্রগতি দেখিয়েছে—১৯৮০-এর দশকে প্রতি এক লাখ জীবিত জন্মে মাতৃমৃত্যু যেখানে ছিল ৫৭৪, তা কমে বর্তমানে ১৩৬-এ নেমে এসেছে—তবু চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।

বর্তমানে দেশে প্রসবের একটি বড় অংশ এখনো বাড়িতে হয়ে থাকে। সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কর্মরত মিডওয়াইফের সংখ্যা চাহিদার তুলনায় অনেক কম, যা সেবার পরিসরকে সীমিত করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষ মিডওয়াইফরা মাতৃ ও নবজাতক স্বাস্থ্যসেবার বড় অংশই সরবরাহ করতে সক্ষম, যা মৃত্যুঝুঁকি কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

অর্থনৈতিক দিক থেকেও এই খাতে বিনিয়োগকে কার্যকর হিসেবে দেখা হচ্ছে। গবেষণা অনুযায়ী, মিডওয়াইফ সেবায় বিনিয়োগ করা প্রতি ডলারের বিপরীতে বহু গুণ সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুবিধা পাওয়া যেতে পারে, যদিও বাস্তব প্রয়োগে এর ফলাফল বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে ভিন্ন হতে পারে।

সম্মেলনে ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, এই উদ্যোগ স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও প্রতিরোধমূলক ও আধুনিক করার বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ। তাঁর মতে, মিডওয়াইফদের সক্ষমতা বাড়ানো মানে নারীদের ক্ষমতায়নকে শক্তিশালী করা, যা শেষ পর্যন্ত পরিবার ও সমাজে প্রভাব ফেলে।

লিসবনের এই আন্তর্জাতিক আয়োজনে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল ছাড়াও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগের ঘোষণা সরকারের

সর্বশেষ আপডেট ০৩:৫০:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

বাংলাদেশে মাতৃস্বাস্থ্য সেবায় বড় ধরনের পরিবর্তনের লক্ষ্যে ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগ ও প্রশিক্ষণের ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ)। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই উদ্যোগকে ‘মাইলফলক’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে মাতৃসেবা উন্নয়নে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে ২০৩০ সালের মধ্যে ২৫ হাজার পেশাদার মিডওয়াইফ নিয়োগ ও প্রশিক্ষণের পরিকল্পনার মাধ্যমে। এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।

পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে অনুষ্ঠিত ৩৪তম আইসিএম ত্রিবার্ষিক কংগ্রেসে বাংলাদেশের এই পরিকল্পনার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস. এম. জিয়াউদ্দিন হায়দার এবং ইউএনএফপিএর নির্বাহী পরিচালক ডিয়েন কেইটা যৌথভাবে বিষয়টি উপস্থাপন করেন।

ইউএনএফপিএ বাংলাদেশ সরকারকে অভিনন্দন জানিয়ে জানায়, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশে ২৫ হাজারের বেশি মিডওয়াইফ পদ সৃষ্টি হবে, যা মাতৃমৃত্যু কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সংস্থাটির মতে, এটি শুধু একটি নীতি নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি জনস্বাস্থ্য বিনিয়োগের দিকেও ইঙ্গিত করে।

ডিয়েন কেইটা লিসবনের মঞ্চে বাংলাদেশকে ‘পথপ্রদর্শক’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, মিডওয়াইফদের ওপর বিনিয়োগ মূলত জীবনরক্ষার ক্ষেত্রেই সরাসরি প্রভাব ফেলে, যা মাতৃমৃত্যুকে অনিবার্য বাস্তবতা হিসেবে দেখার ধারণাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

পরিসংখ্যান বলছে, এই উদ্যোগ সফল হলে বছরে প্রায় চার হাজার মাতৃমৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব হতে পারে। যদিও বাংলাদেশ ইতোমধ্যে অগ্রগতি দেখিয়েছে—১৯৮০-এর দশকে প্রতি এক লাখ জীবিত জন্মে মাতৃমৃত্যু যেখানে ছিল ৫৭৪, তা কমে বর্তমানে ১৩৬-এ নেমে এসেছে—তবু চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।

বর্তমানে দেশে প্রসবের একটি বড় অংশ এখনো বাড়িতে হয়ে থাকে। সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কর্মরত মিডওয়াইফের সংখ্যা চাহিদার তুলনায় অনেক কম, যা সেবার পরিসরকে সীমিত করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষ মিডওয়াইফরা মাতৃ ও নবজাতক স্বাস্থ্যসেবার বড় অংশই সরবরাহ করতে সক্ষম, যা মৃত্যুঝুঁকি কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

অর্থনৈতিক দিক থেকেও এই খাতে বিনিয়োগকে কার্যকর হিসেবে দেখা হচ্ছে। গবেষণা অনুযায়ী, মিডওয়াইফ সেবায় বিনিয়োগ করা প্রতি ডলারের বিপরীতে বহু গুণ সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুবিধা পাওয়া যেতে পারে, যদিও বাস্তব প্রয়োগে এর ফলাফল বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে ভিন্ন হতে পারে।

সম্মেলনে ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, এই উদ্যোগ স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও প্রতিরোধমূলক ও আধুনিক করার বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ। তাঁর মতে, মিডওয়াইফদের সক্ষমতা বাড়ানো মানে নারীদের ক্ষমতায়নকে শক্তিশালী করা, যা শেষ পর্যন্ত পরিবার ও সমাজে প্রভাব ফেলে।

লিসবনের এই আন্তর্জাতিক আয়োজনে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল ছাড়াও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।