ঢাকা ০৯:২৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হত্যার সময় জিয়াউর রহমানকে দেখে ‘কাঁপছিলেন’ মোজাফফর

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৪:২৩:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
  • / 106

মেজর অবসরপ্রাপ্ত মো. মোজাফফর হোসেন

রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলায় ৪৫ বছর ধরে পলাতক থাকার পর গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক সেনা কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেনকে ঘিরে আবারও আলোচনায় এসেছে ১৯৮১ সালের সেই হত্যাকাণ্ড। বিভিন্ন ঐতিহাসিক গ্রন্থে হত্যার সময় ঘটনাস্থলে তার উপস্থিতি এবং পরবর্তী ভূমিকার বর্ণনা থাকলেও সেসব তথ্যের বড় অংশই এখনো আদালতে যাচাই হয়নি।

জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার পলাতক আসামি হিসেবে চিহ্নিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেনকে রাজধানীর বনানী থেকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার রাতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করে তাকে আটক করা হয়। পরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাকে ঢাকা সেনানিবাসে মিলিটারি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

বর্তমানে ৭৭ বছর বয়সী মোজাফফর ১৯৮১ সালে তৎকালীন মেজর ছিলেন। ডিএমপি তাকে জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার পলাতক আসামি হিসেবে উল্লেখ করলেও তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি বা সামরিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি। গ্রেপ্তারের পর তার কোনো বক্তব্যও প্রকাশ করা হয়নি।

সাংবাদিক অ্যান্থনি মাসকারেনহাসের বাংলাদেশ: এ লিগ্যাসি অব ব্লাড গ্রন্থে দাবি করা হয়েছে, ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে জিয়াউর রহমান কক্ষ থেকে বেরিয়ে এলে তার কাছাকাছি অবস্থান করছিলেন মেজর মোজাফফর ও লেফটেন্যান্ট মোসলেহউদ্দিন। বইটিতে উল্লেখ রয়েছে, সে সময় মোজাফফর দৃশ্যত কাঁপছিলেন এবং তাদের ধারণা ছিল রাষ্ট্রপতিকে হত্যা নয়, কেবল সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে। এরপর লেফটেন্যান্ট কর্নেল মতিউর রহমান গুলি চালান বলে ওই বইয়ে বর্ণনা করা হয়েছে।

একই গ্রন্থে আরও বলা হয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পর মোজাফফর অন্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে সার্কিট হাউসে ফিরে গিয়ে জিয়াউর রহমানের কক্ষে তল্লাশি চালান এবং পরে মরদেহ সরিয়ে নেওয়ার কাজেও অংশ নেন। বিদ্রোহ ব্যর্থ হওয়ার পর তিনি পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

অন্যদিকে, মেজর জেনারেল (অব.) মইনুল হোসেন চৌধুরীর স্মৃতিকথায়ও মোজাফফরের নাম এসেছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, পলাতক অবস্থায় মোজাফফর ও মেজর খালেদের সঙ্গে আলোচনায় তারা দাবি করেছিলেন, জিয়াকে হত্যা নয়, সেনানিবাসে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনাই ছিল। তবে গুলির ঘটনাকে তারা আকস্মিক বলে বর্ণনা করেন।

তবে উভয় বইয়ের এসব তথ্য সংশ্লিষ্ট লেখকদের বর্ণনা ও পলাতক ব্যক্তিদের কথিত বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে লেখা। এগুলো আদালতে শপথ নেওয়া সাক্ষ্য বা বিচারিকভাবে যাচাই করা প্রমাণ নয়।

দীর্ঘ ৪৫ বছর আত্মগোপনে থাকার পর মোজাফফরের গ্রেপ্তারে জিয়া হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা, ঘটনার সময়কার ভূমিকা, হত্যার পরের কর্মকাণ্ড এবং এতদিন তিনি কীভাবে আত্মগোপনে ছিলেন—এসব প্রশ্ন আবারও সামনে এসেছে। তবে এসব বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

হত্যার সময় জিয়াউর রহমানকে দেখে ‘কাঁপছিলেন’ মোজাফফর

সর্বশেষ আপডেট ০৪:২৩:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলায় ৪৫ বছর ধরে পলাতক থাকার পর গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক সেনা কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেনকে ঘিরে আবারও আলোচনায় এসেছে ১৯৮১ সালের সেই হত্যাকাণ্ড। বিভিন্ন ঐতিহাসিক গ্রন্থে হত্যার সময় ঘটনাস্থলে তার উপস্থিতি এবং পরবর্তী ভূমিকার বর্ণনা থাকলেও সেসব তথ্যের বড় অংশই এখনো আদালতে যাচাই হয়নি।

জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার পলাতক আসামি হিসেবে চিহ্নিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেনকে রাজধানীর বনানী থেকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার রাতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করে তাকে আটক করা হয়। পরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাকে ঢাকা সেনানিবাসে মিলিটারি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

বর্তমানে ৭৭ বছর বয়সী মোজাফফর ১৯৮১ সালে তৎকালীন মেজর ছিলেন। ডিএমপি তাকে জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার পলাতক আসামি হিসেবে উল্লেখ করলেও তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি বা সামরিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি। গ্রেপ্তারের পর তার কোনো বক্তব্যও প্রকাশ করা হয়নি।

সাংবাদিক অ্যান্থনি মাসকারেনহাসের বাংলাদেশ: এ লিগ্যাসি অব ব্লাড গ্রন্থে দাবি করা হয়েছে, ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে জিয়াউর রহমান কক্ষ থেকে বেরিয়ে এলে তার কাছাকাছি অবস্থান করছিলেন মেজর মোজাফফর ও লেফটেন্যান্ট মোসলেহউদ্দিন। বইটিতে উল্লেখ রয়েছে, সে সময় মোজাফফর দৃশ্যত কাঁপছিলেন এবং তাদের ধারণা ছিল রাষ্ট্রপতিকে হত্যা নয়, কেবল সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে। এরপর লেফটেন্যান্ট কর্নেল মতিউর রহমান গুলি চালান বলে ওই বইয়ে বর্ণনা করা হয়েছে।

একই গ্রন্থে আরও বলা হয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পর মোজাফফর অন্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে সার্কিট হাউসে ফিরে গিয়ে জিয়াউর রহমানের কক্ষে তল্লাশি চালান এবং পরে মরদেহ সরিয়ে নেওয়ার কাজেও অংশ নেন। বিদ্রোহ ব্যর্থ হওয়ার পর তিনি পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

অন্যদিকে, মেজর জেনারেল (অব.) মইনুল হোসেন চৌধুরীর স্মৃতিকথায়ও মোজাফফরের নাম এসেছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, পলাতক অবস্থায় মোজাফফর ও মেজর খালেদের সঙ্গে আলোচনায় তারা দাবি করেছিলেন, জিয়াকে হত্যা নয়, সেনানিবাসে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনাই ছিল। তবে গুলির ঘটনাকে তারা আকস্মিক বলে বর্ণনা করেন।

তবে উভয় বইয়ের এসব তথ্য সংশ্লিষ্ট লেখকদের বর্ণনা ও পলাতক ব্যক্তিদের কথিত বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে লেখা। এগুলো আদালতে শপথ নেওয়া সাক্ষ্য বা বিচারিকভাবে যাচাই করা প্রমাণ নয়।

দীর্ঘ ৪৫ বছর আত্মগোপনে থাকার পর মোজাফফরের গ্রেপ্তারে জিয়া হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা, ঘটনার সময়কার ভূমিকা, হত্যার পরের কর্মকাণ্ড এবং এতদিন তিনি কীভাবে আত্মগোপনে ছিলেন—এসব প্রশ্ন আবারও সামনে এসেছে। তবে এসব বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল।