ঢাকা ০১:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিশু আছিয়া হত্যা-ধর্ষণ মামলার রায় আজ

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১১:০২:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬
  • / 15

আছিয়া হত্যা ও ধর্ষণ মামলা

মাগুরার বহুল আলোচিত আট বছরের শিশু আছিয়া হত্যা ও ধর্ষণ মামলায় আসামি হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর আজ সোমবার (৩১ আগস্ট) রায় ঘোষণা করবেন হাইকোর্ট। বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করবেন।

এর আগে গত ২৫ আগস্ট এ মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর রায় ঘোষণার দিন নির্ধারিত ছিল। তবে সেদিন রায় ঘোষণা না করে আদালত নতুন তারিখ হিসেবে ৩১ আগস্ট নির্ধারণ করেন।

গত ২৪ আগস্ট হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর হাইকোর্টে শুনানি শেষ হয়। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে রয়েছেন হাফিজুর রহমান খান। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক।

যেভাবে ঘটেছিল আছিয়ার মৃত্যু

মাগুরা সদর উপজেলায় ঘটে শিশু আছিয়ার ওপর নৃশংসতার ঘটনা। রমজানের ছুটিতে শহরের নিজনান্দুয়ালী এলাকায় বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে গত বছরের ৫ মার্চ রাতে ধর্ষণের শিকার হয় আট বছরের শিশুটি। তার বোনের শ্বশুর হিটু শেখ ধর্ষণের পাশাপাশি শিশুটিকে হত্যারও চেষ্টা করেন।

গুরুতর আহত আছিয়াকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়। পরে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় আছিয়ার মা বাদী হয়ে হিটু শেখসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে পুলিশ মামলার সব আসামিকে গ্রেপ্তার করে।

১৩ কার্যদিবসে বিচার শেষ

২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল মামলাটির অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। ২৩ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। এরপর ২৭ এপ্রিল থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। রাষ্ট্রপক্ষে মামলায় মোট ২৯ জন সাক্ষ্য দেন।

গত বছরের ৭ মে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। মাত্র ১৩ কার্যদিবসে মামলার বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। পরে ১৩ মে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়।

এরপর ১৭ মে মামলার রায় ঘোষণা করেন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসান। রায়ে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে প্রধান আসামি হিটু শেখকে (৪৭) মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

তবে মামলার অপর তিন আসামিকে খালাস দেওয়া হয়। তারা হলেন; নিহত শিশুর বোনের স্বামী সজীব শেখ (১৯), সজীবের ছোট ভাই (১৭) এবং সজীবের মা জাহেদা বেগম (৪০)।

উচ্চ আদালতে ডেথ রেফারেন্স

ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী, কোনো বিচারিক আদালত মৃত্যুদণ্ড দিলে তা কার্যকর করার আগে অনুমোদনের জন্য মামলার নথি উচ্চ আদালতে পাঠাতে হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত বছরের ২১ মে এ মামলার নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়।

পরে যাচাই-বাছাই শেষে মামলার পেপারবুক প্রস্তুতের জন্য নথি বিজি প্রেসে পাঠানো হয়। পেপারবুক প্রস্তুত হওয়ার পর গত বছরের ৮ জুন তা হাইকোর্টে পৌঁছে। এরপর মামলাটি শুনানির জন্য সংশ্লিষ্ট বিশেষায়িত বেঞ্চের কার্যতালিকায় ওঠে।

আজকের রায়ের দিকে তাকিয়ে আছেন নিহত শিশু আছিয়ার পরিবারসহ মামলার সংশ্লিষ্টরা।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

শিশু আছিয়া হত্যা-ধর্ষণ মামলার রায় আজ

সর্বশেষ আপডেট ১১:০২:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

মাগুরার বহুল আলোচিত আট বছরের শিশু আছিয়া হত্যা ও ধর্ষণ মামলায় আসামি হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর আজ সোমবার (৩১ আগস্ট) রায় ঘোষণা করবেন হাইকোর্ট। বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করবেন।

এর আগে গত ২৫ আগস্ট এ মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর রায় ঘোষণার দিন নির্ধারিত ছিল। তবে সেদিন রায় ঘোষণা না করে আদালত নতুন তারিখ হিসেবে ৩১ আগস্ট নির্ধারণ করেন।

গত ২৪ আগস্ট হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর হাইকোর্টে শুনানি শেষ হয়। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে রয়েছেন হাফিজুর রহমান খান। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক।

যেভাবে ঘটেছিল আছিয়ার মৃত্যু

মাগুরা সদর উপজেলায় ঘটে শিশু আছিয়ার ওপর নৃশংসতার ঘটনা। রমজানের ছুটিতে শহরের নিজনান্দুয়ালী এলাকায় বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে গত বছরের ৫ মার্চ রাতে ধর্ষণের শিকার হয় আট বছরের শিশুটি। তার বোনের শ্বশুর হিটু শেখ ধর্ষণের পাশাপাশি শিশুটিকে হত্যারও চেষ্টা করেন।

গুরুতর আহত আছিয়াকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়। পরে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় আছিয়ার মা বাদী হয়ে হিটু শেখসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে পুলিশ মামলার সব আসামিকে গ্রেপ্তার করে।

১৩ কার্যদিবসে বিচার শেষ

২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল মামলাটির অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। ২৩ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। এরপর ২৭ এপ্রিল থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। রাষ্ট্রপক্ষে মামলায় মোট ২৯ জন সাক্ষ্য দেন।

গত বছরের ৭ মে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। মাত্র ১৩ কার্যদিবসে মামলার বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। পরে ১৩ মে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়।

এরপর ১৭ মে মামলার রায় ঘোষণা করেন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসান। রায়ে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে প্রধান আসামি হিটু শেখকে (৪৭) মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

তবে মামলার অপর তিন আসামিকে খালাস দেওয়া হয়। তারা হলেন; নিহত শিশুর বোনের স্বামী সজীব শেখ (১৯), সজীবের ছোট ভাই (১৭) এবং সজীবের মা জাহেদা বেগম (৪০)।

উচ্চ আদালতে ডেথ রেফারেন্স

ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী, কোনো বিচারিক আদালত মৃত্যুদণ্ড দিলে তা কার্যকর করার আগে অনুমোদনের জন্য মামলার নথি উচ্চ আদালতে পাঠাতে হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত বছরের ২১ মে এ মামলার নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়।

পরে যাচাই-বাছাই শেষে মামলার পেপারবুক প্রস্তুতের জন্য নথি বিজি প্রেসে পাঠানো হয়। পেপারবুক প্রস্তুত হওয়ার পর গত বছরের ৮ জুন তা হাইকোর্টে পৌঁছে। এরপর মামলাটি শুনানির জন্য সংশ্লিষ্ট বিশেষায়িত বেঞ্চের কার্যতালিকায় ওঠে।

আজকের রায়ের দিকে তাকিয়ে আছেন নিহত শিশু আছিয়ার পরিবারসহ মামলার সংশ্লিষ্টরা।