শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন
- সর্বশেষ আপডেট ০৯:১৪:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 37
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে সরকারি বরাদ্দের অর্থ আত্মসাৎ, ভুয়া ভাউচার তৈরি এবং শিক্ষকদের বিভিন্ন কাজের ফাইল ছাড়াতে ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠেছে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ধামাচাপা দিতে শিক্ষকদের একাংশকে দিয়ে সংবাদ সম্মেলন করানোর অভিযোগ করেছেন উপজেলার সাধারণ শিক্ষকরা।
এ ঘটনার প্রতিবাদে এবং অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের অপসারণ ও তদন্তের দাবিতে বুধবার চরফ্যাশন প্রাথমিক শিক্ষা সমাজের ব্যানারে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেন একদল শিক্ষক। এতে স্থানীয় ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষক ও সাধারণ শিক্ষকদের পক্ষ থেকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দেওয়া অভিযোগের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হয়।
শিক্ষকদের অভিযোগ, চরফ্যাশন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে দীর্ঘদিন ধরে ফাইল আটকে রেখে টাকা আদায়ের একটি সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। আন্তঃইউনিয়ন ফুটবল টুর্নামেন্টের জন্য বরাদ্দ করা ১ লাখ ৫৫ হাজার টাকা এবং প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতার জন্য বরাদ্দ ৮৪ হাজার টাকা মাঠপর্যায়ে যথাযথভাবে ব্যয় না করে ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে উত্তোলন করে আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া উপজেলার ৪২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নির্বাচনী কেন্দ্র সংস্কারের জন্য বরাদ্দের অর্থ ছাড় করতে বিদ্যালয়প্রতি ৯ হাজার টাকা করে ঘুষ দাবি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন শিক্ষকরা।
শিক্ষকদের আরও অভিযোগ, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য ডিভাইস কেনার বরাদ্দের ৯০ হাজার টাকা কোনো যন্ত্রাংশ না কিনেই তুলে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যালয়ে ওয়াইফাই সংযোগ না থাকা সত্ত্বেও ভুয়া বিলের মাধ্যমে ১৮ লাখ ১৫ হাজার ২০০ টাকা উত্তোলনের সুনির্দিষ্ট তথ্য তাঁদের কাছে রয়েছে বলে দাবি করেন তাঁরা।
সুবিধাজনক স্থানে বদলি এবং প্রধান শিক্ষক পদে চলতি দায়িত্বে পদায়নের ক্ষেত্রেও ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত আদায়ের অভিযোগ করেন শিক্ষকরা।
তাঁদের দাবি, শিক্ষা অফিসের কথিত ‘কমিশন’ বাণিজ্য নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর গত ১৪ সেপ্টেম্বর রাতে শিক্ষকদের একটি অংশকে চাপ প্রয়োগ করে শিক্ষা কর্মকর্তার পক্ষে সংবাদ সম্মেলন করানো হয়। এর প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ শিক্ষকরা জরুরি সভা করে বুধবার পাল্টা সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষকরা অভিযোগ করেন, শিক্ষা কর্মকর্তার পক্ষে যারা সাফাই গাইছেন, তাঁদের কেউ কেউ শিক্ষা অফিসের অনিয়মের সঙ্গে জড়িত বা কথিত সিন্ডিকেটের অংশ। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমানের বক্তব্য জানা যায়নি।
শিক্ষকরা দ্রুত মো. মিজানুর রহমান ও তাঁর সহযোগী অফিস স্টাফদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরুর দাবি জানান। অন্যথায় প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রমে কর্মবিরতিসহ কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।





























