ঢাকা ০৪:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রামিসা হত্যা মামলার আসামিদের জেল আপিল

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১১:০৮:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
  • / 110

রামিসা হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ২ আসামি

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী ফুটফুটে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা মামলার রায় ঘোষণার পর নতুন আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে । এই মামলায় ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না খাতুন নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে জেল আপিল দায়ের করেছেন ।

আজ রবিবার (১৪ জুন) বিচারপতি মোহাম্মদ আলী এবং বিচারপতি মো. সাইফুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এই আপিল আবেদন দুটির গ্রহণযোগ্যতার ওপর শুনানির জন্য দিন ধার্য রয়েছে । এর আগে নিয়মানুযায়ী রামিসা হত্যা মামলায় আসামিদের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্সের (যাবতীয় নথি) কপি হাইকোর্টে এসে পৌঁছায় ।

সদ্য সমাপ্ত গত ৭ জুন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন বহুল আলোচিত এই মামলার রায় ঘোষণা করেছিলেন । ট্রাইব্যুনাল রায়ের পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট উল্লেখ করেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৬৮ ধারা অনুযায়ী আসামিদের মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত গলায় ফাঁসি দিয়ে ঝুলিয়ে রাখতে হবে । একই সাথে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা মোতাবেক হাইকোর্ট বিভাগের চূড়ান্ত অনুমোদন সাপেক্ষে এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয় ।

ফাঁসির আদেশের পাশাপাশি আর্থিক দণ্ডও দেন আদালত । রায়ে মূল আসামি সোহেল রানাকে ৫ লাখ টাকা এবং তাঁর স্ত্রী স্বপ্নাকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে । এই জরিমানার সম্পূর্ণ টাকা নিহত শিশু রামিসার প্রকৃত ও আইনগত উত্তরাধিকারদের প্রদান করার নির্দেশ দেওয়া হয় । আসামিপক্ষ এই জরিমানার টাকা পরিশোধ না করলে কালেক্টরেট অফিসকে তাদের যাবতীয় স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক ও বিক্রি করে সেই অর্থ রামিসার পরিবারকে হস্তান্তরের আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল । রায়ে আরও বলা হয়েছিল, আসামিরা ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২৮ ধারার বিধান মেনে রায় ঘোষণার পর থেকে আইনানুগ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করার সুযোগ পাবেন ।

মামলার নথিসূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ মে পল্লবীতে রামিসাকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় । নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের পর ঘরের জানালার গ্রিল কেটে ১ নম্বর আসামি সোহেল রানা পালিয়ে যান । পরবর্তীতে জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’ নম্বরের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ প্রথমে ঘটনাস্থল থেকে স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয় । এরপর এক বিশেষ অভিযানে নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার সামনে থেকে পলাতক সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয় । এই ঘটনায় রামিসার বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন এবং গত ২১ মে আসামি সোহেল রানা আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন ।

মামলাটির তদন্ত শেষে মাত্র কয়েক দিনের মাথায় গত ২৫ মে পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান দুই আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন । ওই দিনই মামলাটি দ্রুত বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয় । এরপর গত ১ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে আদালতের আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয় । এর ঠিক পরদিন অর্থাৎ ২ জুন রাষ্ট্রপক্ষের মোট ১৬ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন, যার মাধ্যমে মাত্র একদিনের মধ্যেই এই স্পর্শকাতর মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব সম্পন্ন হয় । পরবর্তীতে ৩ জুন ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের পরীক্ষা করা শেষে ৭ জুন আদালত এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন ।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

রামিসা হত্যা মামলার আসামিদের জেল আপিল

সর্বশেষ আপডেট ১১:০৮:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী ফুটফুটে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা মামলার রায় ঘোষণার পর নতুন আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে । এই মামলায় ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না খাতুন নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে জেল আপিল দায়ের করেছেন ।

আজ রবিবার (১৪ জুন) বিচারপতি মোহাম্মদ আলী এবং বিচারপতি মো. সাইফুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এই আপিল আবেদন দুটির গ্রহণযোগ্যতার ওপর শুনানির জন্য দিন ধার্য রয়েছে । এর আগে নিয়মানুযায়ী রামিসা হত্যা মামলায় আসামিদের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্সের (যাবতীয় নথি) কপি হাইকোর্টে এসে পৌঁছায় ।

সদ্য সমাপ্ত গত ৭ জুন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন বহুল আলোচিত এই মামলার রায় ঘোষণা করেছিলেন । ট্রাইব্যুনাল রায়ের পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট উল্লেখ করেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৬৮ ধারা অনুযায়ী আসামিদের মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত গলায় ফাঁসি দিয়ে ঝুলিয়ে রাখতে হবে । একই সাথে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা মোতাবেক হাইকোর্ট বিভাগের চূড়ান্ত অনুমোদন সাপেক্ষে এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয় ।

ফাঁসির আদেশের পাশাপাশি আর্থিক দণ্ডও দেন আদালত । রায়ে মূল আসামি সোহেল রানাকে ৫ লাখ টাকা এবং তাঁর স্ত্রী স্বপ্নাকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে । এই জরিমানার সম্পূর্ণ টাকা নিহত শিশু রামিসার প্রকৃত ও আইনগত উত্তরাধিকারদের প্রদান করার নির্দেশ দেওয়া হয় । আসামিপক্ষ এই জরিমানার টাকা পরিশোধ না করলে কালেক্টরেট অফিসকে তাদের যাবতীয় স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক ও বিক্রি করে সেই অর্থ রামিসার পরিবারকে হস্তান্তরের আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল । রায়ে আরও বলা হয়েছিল, আসামিরা ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২৮ ধারার বিধান মেনে রায় ঘোষণার পর থেকে আইনানুগ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করার সুযোগ পাবেন ।

মামলার নথিসূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ মে পল্লবীতে রামিসাকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় । নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের পর ঘরের জানালার গ্রিল কেটে ১ নম্বর আসামি সোহেল রানা পালিয়ে যান । পরবর্তীতে জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’ নম্বরের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ প্রথমে ঘটনাস্থল থেকে স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয় । এরপর এক বিশেষ অভিযানে নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার সামনে থেকে পলাতক সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয় । এই ঘটনায় রামিসার বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন এবং গত ২১ মে আসামি সোহেল রানা আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন ।

মামলাটির তদন্ত শেষে মাত্র কয়েক দিনের মাথায় গত ২৫ মে পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান দুই আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন । ওই দিনই মামলাটি দ্রুত বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয় । এরপর গত ১ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে আদালতের আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয় । এর ঠিক পরদিন অর্থাৎ ২ জুন রাষ্ট্রপক্ষের মোট ১৬ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন, যার মাধ্যমে মাত্র একদিনের মধ্যেই এই স্পর্শকাতর মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব সম্পন্ন হয় । পরবর্তীতে ৩ জুন ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের পরীক্ষা করা শেষে ৭ জুন আদালত এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন ।