ঢাকা ০১:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রানী য়েন য়েনকে সতর্ক চিঠি, প্রতিবাদে ১৭ নাগরিক

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৯:৫৪:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
  • / 61

সম্প্রতি মানবাধিকারকর্মী ও চাকমা সার্কেলের রানী য়েন য়েন -কে রাষ্ট্র ও সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ এনে সতর্ক করে রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি চিঠি দেয়া হয়েছে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গোয়েন্দা সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য মোতাবেক তারা জানতে পেরেছেন রানী য়েন য়েন রাষ্ট্র বিরোধী ও উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করা চেষ্টা করছেন। কোন সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া এ ধরণের চিঠি প্রদান নাগরিকদের বৈধভাবে মত প্রকাশে বাধা প্রদানের সামিল। এ ছাড়াও এ ঘটনা তার সামাজিক মর্যাদাহানির সমার্থক।

বুধবার এ ঘটনায় ১৭ বিশিষ্ট নাগরিক এক বিবৃতিতে য়েন য়েন -এর মতপ্রকাশের উপর লাগাম টানতে যে হয়রানিমূলক চিঠি জেলা প্রশাসন দিয়েছেন তার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছেন।
একই সাথে ঐ চিঠি প্রত্যাহার এবং ভবিষ্যতে এর পুনরাবৃত্তি বন্ধ করার জোর দাবি জানিয়েছেন।”

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “ গত ৬ এপ্রিল রাঙামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী স্বাক্ষরিত একটি চিঠি চাকমা সার্কেলের রানী য়েন য়েন কে পাঠানো হয়। এতে বলা হয়েছে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা থেকে অভিযোগ করা হয়েছে রানী য়েন য়েন পার্বত্য অঞ্চলসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে রাষ্ট্র বিরোধী ও সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। এসব কাজ থেকে বিরত থেকে প্রচলিত নিয়ম ও আইন অনুসারে চলার জন্য তাকে সতর্ক করা হয়েছে।

ঊল্লেখ্য, এর আগে গত ২ এপ্রিল, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে রানী য়েন য়েন -কে সতর্ক করার জন্য রাঙামাটি জেলা প্রশাসককে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছিল। এখন প্রশ্ন হচ্ছে নাগরিকদের ইচ্ছেমতো বাক-স্বাধীনতা রোধ করা কি সরকারের নীতিগত অবস্থান। এর জবাব সরকারকেই দিতে হবে। আর একটি বিষয় চিঠিতে বলা হয়েছে রানী য়েন য়েন পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন উপজাতিয় সদস্যদের ঐক্যবদ্ধ করছেন। যদি তর্কের খাতিরে ধরেও নিই- তিনি তাই করেছেন।

তাহলে প্রশ্ন নাগরিকদের ঐক্যবদ্ধ হতে বলা কি অপরাধ? আমরা দীর্ঘদিন থেকে লক্ষ করে এসেছি একটি মহল পার্বত্য জনগোষ্ঠীকে বিভক্ত রাখতে নানা উপায়ে তৎপরতা চালিয়ে এসেছেন।

তাহলে ঐ মহলটি কি সাধারণ নাগরিকদের ঐক্যবদ্ধ হবার প্রক্রিয়ারই বিরোধিতা করতে এই ধরণের অভিযোগ এনেছেন? উল্লেখ্য যে, শান্তিপূর্ণভাবে সংগঠিত বা ঐক্যবদ্ধ হওয়া বা কাউকে ঐক্যবদ্ধ হতে বলা প্রতিজন নাগরিকের সংবিধান স্বীকৃত মৌলিক অধিকার।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, আশ্চর্যের বিষয় ঐ চিঠিতে তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগের উল্লেখ নাই। বলা হয়েছে গোয়েন্দা সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তারা এই অভিযোগ এনেছেন। এই ধরনের তথাকথিত গোয়েন্দা রিপোর্টের অজুহাতে নাগরিকদের অপদস্থ ও হয়রানি করা গত কয়েক দশক ধরে চালু রয়েছে।

যখন যাকে খুশি তাকে এ ধরণের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই হয়রানি ও নানাভাবে অপদস্থ করার সংস্কৃতি গত ১৬ বছরে চরম আকার ধারণ করেছিল। আমরা আশা করেছিলাম গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়, বিশেষত নির্বাচিত সরকারের আমলে এই নাগরিকদের হয়রানির সংস্কৃতি চালু থাকবে না।

কিন্তু আমরা অত্যন্ত আশাহত হয়ে লক্ষ করছি অধিকারকর্মীরা কোন অনিয়মের বিষয়ে বা মানবাধিকার লংঘনের কোন ঘটনার সমালোচনা করলেই তাদের উপর তথাকথিত কোন গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টের খড়গ নেমে আসে।

এ ধরণের চিঠি মানবাধিকার কর্মীদের কন্ঠরোধ করা ও সংবিধানে বর্ণিত মানুষের মত প্রকাশের স্বাধিনতাকে খর্ব করার নগ্ন অপচেষ্টা ছাড়া অন্য কিছু নয়।

যা বিশেষভাবে পার্বত্য চট্টগ্রামের জেলাগুলিতে কোন জবাবদিহিতা ছাড়াই বছরের পর বছর চালু রয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম ইস্যুতে কোন মানবাধিকার লংঘন বা অসংগতির কথা বললেই এই ধরণের অভিযোগে বিগত দশকগুলিতে অসংখ্য মানুষ শুধু হয়রানির শিকার হয়েছেন তা নয়, অনেকে গুম-খুনের শিকারও হয়েছেন।

একটি কথা বর্তমান নির্বাচিত সরকারের উচ্চপদস্থ নেতৃবৃন্দসহ সকলের জ্ঞাতার্থে উল্লেখ করা অত্যন্ত জরুরি বলে আমরা মনে করি।

তা হলো এমনতর গোয়েন্দা রিপোর্টের নামে সাধারণ নাগরিকদের কথা বলার অধিকার হরণের চেষ্টা কিংবা কোন সুবিধা বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর কন্ঠরোধ, বঞ্চনা-বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকে দমিয়ে দেবার অপচেষ্টা ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে গেলে তার পরিণতি কি হতে পারে তা সাম্প্রতিক ইতিহাস থেকে সকলের শিক্ষা নেওয়া দরকার।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

রানী য়েন য়েনকে সতর্ক চিঠি, প্রতিবাদে ১৭ নাগরিক

সর্বশেষ আপডেট ০৯:৫৪:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

সম্প্রতি মানবাধিকারকর্মী ও চাকমা সার্কেলের রানী য়েন য়েন -কে রাষ্ট্র ও সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ এনে সতর্ক করে রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি চিঠি দেয়া হয়েছে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গোয়েন্দা সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য মোতাবেক তারা জানতে পেরেছেন রানী য়েন য়েন রাষ্ট্র বিরোধী ও উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করা চেষ্টা করছেন। কোন সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া এ ধরণের চিঠি প্রদান নাগরিকদের বৈধভাবে মত প্রকাশে বাধা প্রদানের সামিল। এ ছাড়াও এ ঘটনা তার সামাজিক মর্যাদাহানির সমার্থক।

বুধবার এ ঘটনায় ১৭ বিশিষ্ট নাগরিক এক বিবৃতিতে য়েন য়েন -এর মতপ্রকাশের উপর লাগাম টানতে যে হয়রানিমূলক চিঠি জেলা প্রশাসন দিয়েছেন তার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছেন।
একই সাথে ঐ চিঠি প্রত্যাহার এবং ভবিষ্যতে এর পুনরাবৃত্তি বন্ধ করার জোর দাবি জানিয়েছেন।”

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “ গত ৬ এপ্রিল রাঙামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী স্বাক্ষরিত একটি চিঠি চাকমা সার্কেলের রানী য়েন য়েন কে পাঠানো হয়। এতে বলা হয়েছে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা থেকে অভিযোগ করা হয়েছে রানী য়েন য়েন পার্বত্য অঞ্চলসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে রাষ্ট্র বিরোধী ও সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। এসব কাজ থেকে বিরত থেকে প্রচলিত নিয়ম ও আইন অনুসারে চলার জন্য তাকে সতর্ক করা হয়েছে।

ঊল্লেখ্য, এর আগে গত ২ এপ্রিল, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে রানী য়েন য়েন -কে সতর্ক করার জন্য রাঙামাটি জেলা প্রশাসককে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছিল। এখন প্রশ্ন হচ্ছে নাগরিকদের ইচ্ছেমতো বাক-স্বাধীনতা রোধ করা কি সরকারের নীতিগত অবস্থান। এর জবাব সরকারকেই দিতে হবে। আর একটি বিষয় চিঠিতে বলা হয়েছে রানী য়েন য়েন পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন উপজাতিয় সদস্যদের ঐক্যবদ্ধ করছেন। যদি তর্কের খাতিরে ধরেও নিই- তিনি তাই করেছেন।

তাহলে প্রশ্ন নাগরিকদের ঐক্যবদ্ধ হতে বলা কি অপরাধ? আমরা দীর্ঘদিন থেকে লক্ষ করে এসেছি একটি মহল পার্বত্য জনগোষ্ঠীকে বিভক্ত রাখতে নানা উপায়ে তৎপরতা চালিয়ে এসেছেন।

তাহলে ঐ মহলটি কি সাধারণ নাগরিকদের ঐক্যবদ্ধ হবার প্রক্রিয়ারই বিরোধিতা করতে এই ধরণের অভিযোগ এনেছেন? উল্লেখ্য যে, শান্তিপূর্ণভাবে সংগঠিত বা ঐক্যবদ্ধ হওয়া বা কাউকে ঐক্যবদ্ধ হতে বলা প্রতিজন নাগরিকের সংবিধান স্বীকৃত মৌলিক অধিকার।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, আশ্চর্যের বিষয় ঐ চিঠিতে তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগের উল্লেখ নাই। বলা হয়েছে গোয়েন্দা সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তারা এই অভিযোগ এনেছেন। এই ধরনের তথাকথিত গোয়েন্দা রিপোর্টের অজুহাতে নাগরিকদের অপদস্থ ও হয়রানি করা গত কয়েক দশক ধরে চালু রয়েছে।

যখন যাকে খুশি তাকে এ ধরণের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই হয়রানি ও নানাভাবে অপদস্থ করার সংস্কৃতি গত ১৬ বছরে চরম আকার ধারণ করেছিল। আমরা আশা করেছিলাম গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়, বিশেষত নির্বাচিত সরকারের আমলে এই নাগরিকদের হয়রানির সংস্কৃতি চালু থাকবে না।

কিন্তু আমরা অত্যন্ত আশাহত হয়ে লক্ষ করছি অধিকারকর্মীরা কোন অনিয়মের বিষয়ে বা মানবাধিকার লংঘনের কোন ঘটনার সমালোচনা করলেই তাদের উপর তথাকথিত কোন গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টের খড়গ নেমে আসে।

এ ধরণের চিঠি মানবাধিকার কর্মীদের কন্ঠরোধ করা ও সংবিধানে বর্ণিত মানুষের মত প্রকাশের স্বাধিনতাকে খর্ব করার নগ্ন অপচেষ্টা ছাড়া অন্য কিছু নয়।

যা বিশেষভাবে পার্বত্য চট্টগ্রামের জেলাগুলিতে কোন জবাবদিহিতা ছাড়াই বছরের পর বছর চালু রয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম ইস্যুতে কোন মানবাধিকার লংঘন বা অসংগতির কথা বললেই এই ধরণের অভিযোগে বিগত দশকগুলিতে অসংখ্য মানুষ শুধু হয়রানির শিকার হয়েছেন তা নয়, অনেকে গুম-খুনের শিকারও হয়েছেন।

একটি কথা বর্তমান নির্বাচিত সরকারের উচ্চপদস্থ নেতৃবৃন্দসহ সকলের জ্ঞাতার্থে উল্লেখ করা অত্যন্ত জরুরি বলে আমরা মনে করি।

তা হলো এমনতর গোয়েন্দা রিপোর্টের নামে সাধারণ নাগরিকদের কথা বলার অধিকার হরণের চেষ্টা কিংবা কোন সুবিধা বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর কন্ঠরোধ, বঞ্চনা-বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকে দমিয়ে দেবার অপচেষ্টা ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে গেলে তার পরিণতি কি হতে পারে তা সাম্প্রতিক ইতিহাস থেকে সকলের শিক্ষা নেওয়া দরকার।