বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসের আলোচনা সভায় বক্তারা
নৈতিকতা হারচ্ছেন গণমাধ্যম কর্মীরা
- সর্বশেষ আপডেট ০৩:০৬:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬
- / 53
বেসরকারি সংস্থা ‘সমষ্টি’ আয়োজিত বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসের আলোচনা সভার উপস্থিত অতিথিদের একাংশ । ছবি: বাংলা অ্যাফেয়ার্স
অপেশাদারি মানসিকতা, দুর্বল জ্ঞানচর্চা এবং কর্পোরেট চাপের কারণে স্বাধীন গণমাধ্যম আজ নানা প্রশ্নের মুখে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট বক্তারা। একই সঙ্গে সাংবাদিকতার নৈতিকতা রক্ষায় ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্বশীলতার অভাবকেও সংকটের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
রবিবার (২ মে) রাজধানীর হুমায়ুন রোডে গণমাধ্যম বিষয়ক উন্নয়ন সংগঠন ‘সমষ্টি’র কার্যালয়ে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে এসব মন্তব্য উঠে আসে। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল- “জবাবদিহির সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠায় প্রধান সহযাত্রী স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম”।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সমষ্টির নির্বাহী পরিচালক মীর মাসরুরুজ্জামান। তাঁর সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশ নেন সাংবাদিক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব সোহরাব হাসান, চ্যানেল আই-এর সিইও জাহিদ নেওয়াজ খান, স্বাধীন মিডিয়ার সম্পাদক শারমীন রিনভী, বিএমএসএফের নির্বাহী পরিচালক খায়রুজ্জামান কামাল, একাত্তর টেলিভিশনের বিশেষ সংবাদদাতা শাহনাজ শারমীন, দৈনিক যুগান্তরের সহকারী সম্পাদক সৈয়দ শুচি হক, বাংলা অ্যাফেয়ার্সের সিনিয়র রিপোর্টার রীতা ভৌমিকসহ আরও অনেকে।
আলোচনায় সোহরাব হাসান বলেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সাংবাদিকদের একাংশ দলীয় প্রভাবের মধ্যে কাজ করে, যা সাংবাদিকতার পেশাগত মানকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তাঁর মতে, অস্বাভাবিক রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশে প্রকৃত সাংবাদিকতা টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে। এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন।
জাহিদ নেওয়াজ খান অভিযোগ করেন, ৫ আগস্টের পর থেকে দেশে শত শত সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং অনেকের বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে, যেগুলোর অনেকটাই ভিত্তিহীন। তিনি সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
মীর মাসরুজ্জামান বলেন, অনেক সময় সংবাদমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোই সাংবাদিকদের উপর এমন চাপ সৃষ্টি করে, যা পেশাগত নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে দাঁড়ায়। তিনি বলেন, স্বাধীন সাংবাদিকতা টিকিয়ে রাখতে রাষ্ট্র, প্রতিষ্ঠান ও সাংবাদিক- সব পক্ষেরই দায়িত্ব রয়েছে।
শারমীন রিনভী বলেন, নতুন ধরণের সোশ্যাল মিডিয়া ও ইউটিউবভিত্তিক সাংবাদিকতার নামে অনিয়ন্ত্রিত চর্চা বাড়ছে, যা অনেক ক্ষেত্রে নৈতিকতার প্রশ্ন তুলছে। এসবকে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালার আওতায় আনার প্রয়োজন রয়েছে।
খায়রুজ্জামান কামাল জানান, সাংবাদিকদের সুরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিত করতে আইন প্রণয়ন ও ডাটাবেইস তৈরির প্রস্তাব সরকারের কাছে দেওয়া হয়েছে। তিনি গণমাধ্যমের জন্য একটি নিরাপদ ও জবাবদিহিমূলক কাঠামোর প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।





































