নীলফামারীতে সড়ক দুর্ঘটনায় যুবকের মৃত্যু, হত্যা নাকি আত্মহত্যা ?
- সর্বশেষ আপডেট ১০:৩১:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
- / 23
নীলফামারী শহরের মাধার মোড় এলাকায় ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে আল আমিন (২৩) নামে এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ মে) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আল আমিন বগুড়া জেলার কাহালু উপজেলার কচুয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং একটি মিনি ট্রাকের সহকারী চালক ছিলেন।
ঘটনাটি ঘিরে এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এটি নিছক সড়ক দুর্ঘটনা, নাকি আত্মহত্যা কিংবা অন্য কোনো রহস্যজনক ঘটনা—তা নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ডোমার উপজেলার সোনাহার এলাকা থেকে কাঁচা মরিচ বোঝাই একটি মিনি ট্রাক ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। ট্রাকটির চালক ছিলেন শাহাদাত হোসেন এবং সহকারী চালক ছিলেন আল আমিন। ট্রাকটি নীলফামারী শহরের মাধার মোড় এলাকায় পৌঁছালে চালক শাহাদাত মোবাইল রিচার্জ করার জন্য আল আমিনকে গাড়ি থেকে নামতে বলেন।
এসময় আল আমিন হঠাৎই ট্রাকে থাকা একটি ধারালো ছোড়া দিয়ে নিজের বাম হাতে চারটি স্থানে এবং গলার বাম পাশে আঘাত করেন বলে দাবি করেন চালক ও কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত রিকশাযোগে নীলফামারী সদর হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
কিন্তু পথিমধ্যে মাধার মোড় এলাকায় পৌঁছালে আল আমিন হঠাৎ পঞ্চগড় থেকে ঢাকাগামী বালুবাহী একটি ট্রাকের সামনে ঝাঁপ দেন বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা। এতে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। ঘাতক ট্রাকটির নম্বর ঢাকা মেট্রো-ট ১২-৭২৯৬।
ঘটনার পরপরই এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে নীলফামারী সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
নীলফামারী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জিল্লুর রহমান জানান, “ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুইটি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে এবং দুই চালককে আটক রাখা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।”
পুলিশ জানিয়েছে, নিহত যুবকের আচরণ, শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাত এবং পরে চলন্ত ট্রাকের সামনে ঝাঁপ দেওয়ার ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে এটি পরিকল্পিত কিছু কি না, নাকি মানসিক অস্থিরতা থেকে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত—সেসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় রয়েছে।





































