দেশজুড়ে লোডশেডিং, সামনে আরও সংকট
- সর্বশেষ আপডেট ১১:৫১:৪৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 23
তীব্র গরমে দিনে-রাতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বেড়েছে লোডশেডিং। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত বিদ্যুৎ না থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ার পাশাপাশি জ্বালানি সংকটও পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উৎপাদন সক্ষমতা না বাড়ালে এ সংকট থেকে দ্রুত উত্তরণের সুযোগ নেই। পাশাপাশি ভবিষ্যতে বিদ্যুতের চাহিদা যে হারে বাড়বে, সে অনুযায়ী প্রস্তুতিও যথেষ্ট নয়।
প্রতি বছর তীব্র গরমে বিদ্যুতের বাড়তি চাহিদা সামাল দিতে গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিং করে রাজধানী ও শিল্পাঞ্চলে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হয়। তবে এবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকাতেও নিয়মিত লোডশেডিং হচ্ছে।
রাজধানীর বাড্ডা, খিলগাঁও, তেজগাঁও, মগবাজার, মোহাম্মদপুর ও শ্যামলীসহ বিভিন্ন এলাকায় দিনে ও রাতে একাধিকবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যেও প্রভাব পড়ছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, কখনও দুই ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকে না। শিশুদের পড়াশোনার সময় কিংবা সন্ধ্যার পর বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় দুর্ভোগ বাড়ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজে সংরক্ষিত খাবার ও আইসক্রিম নষ্ট হওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। মধ্যবিত্ত পরিবারের অনেকের জেনারেটর চালানোর সক্ষমতা না থাকায় লোডশেডিংয়ের এই পরিস্থিতিতে তাদের দুর্ভোগ আরও বেশি।
পিডিবির তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ আগস্ট রাত ১টায় দেশে লোডশেডিং হয়েছিল ৩ হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াট, যা চলতি বছরের সর্বোচ্চ। এক মাস পর ১০ সেপ্টেম্বর লোডশেডিং হয়েছে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার মেগাওয়াট। ওই দিন একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আদানি পাওয়ারের সরবরাহও প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছিল।
পিডিবির তথ্য বলছে, চলতি বছর কোনো কোনো দিনে পিক আওয়ারে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ১৭ হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছেছে। তবে এলএনজি সংকট, টার্মিনালে ত্রুটি, কয়লা ও তেলের ঘাটতি এবং আদানি পাওয়ারের সরবরাহ কমে যাওয়াসহ বিভিন্ন কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রকৃত বিদ্যুতের চাহিদা সরকারি হিসাবের চেয়েও বেশি হতে পারে।
আইইইএফএয়ের প্রধান জ্বালানি বিশ্লেষক শফিকুল আলম বলেন, বিদ্যুতের চাহিদা ইতোমধ্যে ১৯ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে। গ্রীষ্মকালও আগের তুলনায় দীর্ঘ হচ্ছে। সেপ্টেম্বরেও তীব্র গরম থাকায় বিদ্যুতের চাহিদা কমছে না। এর সঙ্গে জ্বালানির দামের অস্থিরতাসহ নানা বিষয় যুক্ত হয়েছে। ফলে পরিস্থিতি সামাল দিতে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান সংকট মোকাবিলায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয় ও সিস্টেম লস কমানোর পাশাপাশি আগামী বছরের জন্য বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা নিতে হবে। পাওয়ার সেলের সাবেক মহাপরিচালক বি. ডি. রহমতউল্লাহ বলেন, সরকারের বিদ্যুৎ খাতে কার্যকর পরিকল্পনার ঘাটতি রয়েছে। দ্রুত কম রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ে চালু করা সম্ভব এমন বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভবিষ্যতে সংকট এড়াতে দ্রুত নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি দেশের নিজস্ব গ্যাস উত্তোলন বাড়াতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি বাড়তি চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে এখন থেকেই বিদ্যুৎ উৎপাদন ও জ্বালানি সরবরাহের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।




































