ঢাকা ০৫:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামে ঘরে ঢুকে মা-মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
  • সর্বশেষ আপডেট ১১:১৪:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
  • / 102

মা-মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় গভীর রাতে এক বসতবাড়িতে ঢুকে মা ও তাঁর কিশোরী মেয়েকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে অজ্ঞাত পরিচয় দুর্বৃত্তরা। গতকাল শনিবার রাতের দিকে উপজেলার পরৈকোড়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে এই নৃশংস জোড়া খুনের ঘটনাটি ঘটে।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন— আনোয়ারা উপজেলার পূর্ব কন্যারা গ্রামের চেনামতি বড়ুয়া পাড়ার সুজন বড়ুয়ার স্ত্রী এনি বড়ুয়া (৪০) এবং তাঁদের ষোলো বছর বয়সী কন্যা প্রিয়ন্তী বড়ুয়া (১৬)।

চট্টগ্রাম জেলার সহকারী পুলিশ সুপার (আনোয়ারা সার্কেল) মাহমুদুল হাসান এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের তথ্য নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানান, ‘‘রাতের আধারে অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিরা ওই ঘরে জোরপূর্বক প্রবেশ করে এনি বড়ুয়া ও তাঁর মেয়ে প্রিয়ন্তীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে গভীর রাতেই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মা-মেয়ের রক্তাক্ত ও ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ উদ্ধার করে।’’

পুলিশ আরও জানিয়েছে, দুর্বৃত্তদের এই বর্বরোচিত হামলার সময় ঘরে থাকা এনি বড়ুয়ার মাত্র পাঁচ বছর বয়সী ছোট ছেলেও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে জখম হয়েছে। তবে সৌভাগ্যবশত শিশুটির আঘাত গুরুতর নয় বলে নিশ্চিত করেছেন সহকারী পুলিশ সুপার।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিহত এনি বড়ুয়ার স্বামী সুজন বড়ুয়া জীবিকার তাগিদে চট্টগ্রাম শহরে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তাকর্মী (সিকিউরিটি গার্ড) হিসেবে কর্মরত আছেন। ফলে সুজন বড়ুয়া বেশিরভাগ সময় শহরেই থাকতেন এবং এনি বড়ুয়া তাঁর এই দুই ছেলেমেয়েকে নিয়ে আনোয়ারার গ্রামের বাড়িতে বসবাস করতেন।

হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে চাইলে সহকারী পুলিশ সুপার মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘‘প্রাথমিক অনুসন্ধানে আমরা জানতে পেরেছি, বিভিন্ন পারিবারিক ও ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে সুজনের এক নিকটাত্মীয়র সঙ্গে নিহত এনির পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে তীব্র ঝামেলা ও বিরোধ চলছিল। সেই পুরোনো শত্রুতা ও বিরোধের জেরে এই মা-মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে তাঁদের অন্য স্বজন ও পরিবারের সদস্যরা জোরালো সন্দেহ প্রকাশ করছেন।’’

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও স্পষ্ট করেন যে, জেলা পুলিশ ও অপরাধ তদন্ত বিভাগ ইতিমধ্যে এই নৃশংস জোড়া খুনের ঘটনাটি নিয়ে সব ধরনের আইনি ও ছায়া তদন্ত শুরু করেছে। হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত মূল আসামিদের এবং সন্দেহভাজন ওই নিকটাত্মীয়কে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

চট্টগ্রামে ঘরে ঢুকে মা-মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা

সর্বশেষ আপডেট ১১:১৪:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় গভীর রাতে এক বসতবাড়িতে ঢুকে মা ও তাঁর কিশোরী মেয়েকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে অজ্ঞাত পরিচয় দুর্বৃত্তরা। গতকাল শনিবার রাতের দিকে উপজেলার পরৈকোড়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে এই নৃশংস জোড়া খুনের ঘটনাটি ঘটে।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন— আনোয়ারা উপজেলার পূর্ব কন্যারা গ্রামের চেনামতি বড়ুয়া পাড়ার সুজন বড়ুয়ার স্ত্রী এনি বড়ুয়া (৪০) এবং তাঁদের ষোলো বছর বয়সী কন্যা প্রিয়ন্তী বড়ুয়া (১৬)।

চট্টগ্রাম জেলার সহকারী পুলিশ সুপার (আনোয়ারা সার্কেল) মাহমুদুল হাসান এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের তথ্য নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানান, ‘‘রাতের আধারে অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিরা ওই ঘরে জোরপূর্বক প্রবেশ করে এনি বড়ুয়া ও তাঁর মেয়ে প্রিয়ন্তীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে গভীর রাতেই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মা-মেয়ের রক্তাক্ত ও ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ উদ্ধার করে।’’

পুলিশ আরও জানিয়েছে, দুর্বৃত্তদের এই বর্বরোচিত হামলার সময় ঘরে থাকা এনি বড়ুয়ার মাত্র পাঁচ বছর বয়সী ছোট ছেলেও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে জখম হয়েছে। তবে সৌভাগ্যবশত শিশুটির আঘাত গুরুতর নয় বলে নিশ্চিত করেছেন সহকারী পুলিশ সুপার।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিহত এনি বড়ুয়ার স্বামী সুজন বড়ুয়া জীবিকার তাগিদে চট্টগ্রাম শহরে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তাকর্মী (সিকিউরিটি গার্ড) হিসেবে কর্মরত আছেন। ফলে সুজন বড়ুয়া বেশিরভাগ সময় শহরেই থাকতেন এবং এনি বড়ুয়া তাঁর এই দুই ছেলেমেয়েকে নিয়ে আনোয়ারার গ্রামের বাড়িতে বসবাস করতেন।

হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে চাইলে সহকারী পুলিশ সুপার মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘‘প্রাথমিক অনুসন্ধানে আমরা জানতে পেরেছি, বিভিন্ন পারিবারিক ও ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে সুজনের এক নিকটাত্মীয়র সঙ্গে নিহত এনির পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে তীব্র ঝামেলা ও বিরোধ চলছিল। সেই পুরোনো শত্রুতা ও বিরোধের জেরে এই মা-মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে তাঁদের অন্য স্বজন ও পরিবারের সদস্যরা জোরালো সন্দেহ প্রকাশ করছেন।’’

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও স্পষ্ট করেন যে, জেলা পুলিশ ও অপরাধ তদন্ত বিভাগ ইতিমধ্যে এই নৃশংস জোড়া খুনের ঘটনাটি নিয়ে সব ধরনের আইনি ও ছায়া তদন্ত শুরু করেছে। হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত মূল আসামিদের এবং সন্দেহভাজন ওই নিকটাত্মীয়কে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।