গসিকের সব কার্যালয়ে তামাকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতের উদ্যোগ
- সর্বশেষ আপডেট ০৬:০৫:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
- / 19
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের (গসিক) সব কার্যালয়ে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫-এর সংশোধিত ২০২৬ সালের বিধান যথাযথভাবে কার্যকর করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সমন্বয়ে ধারাবাহিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) গাজীপুর নগর ভবনের সভাকক্ষে গসিক ও ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন অব দ্য রুরাল পুওর (ডর্প) আয়োজিত তামাক নিয়ন্ত্রণবিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে গসিকের প্রশাসক মো. শওকত হোসেন সরকার এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, গসিকের সব কার্যালয়ে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে ধারাবাহিকভাবে উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইন ও বিধিবিধানের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা হবে।
সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডর্পের তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের সমন্বয়কারী জেবা আফরোজা। তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিপুলসংখ্যক প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার করেন। একই সঙ্গে কর্মক্ষেত্র, জনসমাগমস্থল ও গণপরিবহনে অনেক মানুষ পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হচ্ছেন।
গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে (জিএটিএস) ২০১৭-এর তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, দেশে প্রায় ৩ কোটি ৭৮ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার করেন। প্রায় ৩ কোটি ৮৪ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক কর্মক্ষেত্রসহ বিভিন্ন পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহনে পরোক্ষ ধূমপানের সংস্পর্শে আসেন। জরিপ অনুযায়ী, কর্মক্ষেত্রের অভ্যন্তরীণ এলাকায় ৪২ দশমিক ৭ শতাংশ, গণপরিবহনে ৪৪ শতাংশ এবং রেস্তোরাঁয় প্রায় ৪৯ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হয়েছেন।
জেবা আফরোজা বলেন, প্রত্যক্ষ ধূমপানের মতো পরোক্ষ ধূমপানও স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। ২০২৩ সালে পরোক্ষ ধূমপানের কারণে বিশ্বে প্রায় ১৭ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে দ্য ল্যানসেট-এর একটি গবেষণায় উঠে এসেছে। তাই কর্মক্ষেত্র ও জনসমাগমস্থলকে তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষিত রাখা জরুরি।
তিনি আরও বলেন, তামাক ব্যবহারের কারণে দেশে প্রতিবছর প্রায় ২ লাখ মানুষের অকাল মৃত্যু ঘটে। তামাকজনিত রোগের চিকিৎসা ব্যয়, উৎপাদনশীলতা হ্রাসসহ সামগ্রিক অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ বছরে প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় গসিকের তামাকমুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিতের উদ্যোগ অন্যান্য সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্যও দৃষ্টান্ত হতে পারে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন গসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (যুগ্মসচিব) মিজ তানজিলা খানম। তিনি বলেন, শিশু-কিশোর ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তামাক ও নিকোটিনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষিত রাখতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। পাবলিক প্লেস ও গণপরিবহনে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার নিষিদ্ধ করাও সেই উদ্যোগের অংশ।
সভায় বক্তারা বলেন, তামাকমুক্ত ও স্বাস্থ্যকর কর্মপরিবেশ গড়ে তুলতে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি গসিকের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। একই সঙ্গে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন ও বিধিবিধানের কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।
ডর্পের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গসিকের সব কার্যালয়ে তামাকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে গণবিজ্ঞপ্তি, সতর্কীকরণ সাইনবোর্ডসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ স্থাপনে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য স্বাস্থ্যকর, নিরাপদ ও তামাকমুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে ধারাবাহিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
সভায় গসিকের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং ডর্পের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।






























