ঢাকা ১০:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইমরান-মাশরাফি, দুই কিংবদন্তির জন্মদিন

ক্রীড়া প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৬:৪৯:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
  • / 17

ইমরান-মাশরাফি, দুই কিংবদন্তির জন্মদিন

৫ অক্টোবর; ক্রিকেটের ইতিহাসে বাংলাদেশের মাশরাফি বিন মুর্তজা ও পাকিস্তানের ইমরান খানের জন্মদিন। একই দিনে জন্ম নেওয়া দুই দেশের এই দুই কিংবদন্তির ক্রিকেট ক্যারিয়ারে রয়েছে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য মিল। দুজনই নিজ নিজ দেশের জনপ্রিয় অধিনায়ক, বিশ্বকাপে দলকে নেতৃত্ব দিয়ে সর্বোচ্চ সাফল্য এনে দিয়েছেন এবং গুরুতর চোটের মধ্যেও ক্রিকেট চালিয়ে গেছেন। ক্রিকেটের বাইরে দুজনই পরবর্তী সময়ে রাজনীতিতে যুক্ত হন।

১৯৮৩ সালের ৫ অক্টোবর নড়াইলে জন্ম মাশরাফি বিন মুর্তজার। ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ ছিল তার। ক্রিকেটে মনোযোগ দেওয়ার পর দ্রুতই পেস বোলার হিসেবে নিজের প্রতিভার জানান দেন। ২০০১ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় তার। এরপর দীর্ঘ ক্যারিয়ারে বাংলাদেশকে তিন সংস্করণেই প্রতিনিধিত্ব করেছেন ডানহাতি এই পেসার।

মাশরাফির ক্যারিয়ারের সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায় ওয়ানডে ক্রিকেট। খেলোয়াড় হিসেবে দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হওয়ার পাশাপাশি অধিনায়ক হিসেবেও বাংলাদেশকে এনে দিয়েছেন বেশ কিছু স্মরণীয় সাফল্য। তার নেতৃত্বেই ২০১৫ বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে বাংলাদেশ।

২০১৫ সালে দেশের মাটিতে পাকিস্তান, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়েও মাশরাফির নেতৃত্ব ছিল গুরুত্বপূর্ণ। তার অধিনায়কত্বের সময় বাংলাদেশ ওয়ানডে ক্রিকেটে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করে। কঠিন পরিস্থিতিতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া, সতীর্থদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানো এবং দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখার কারণে ক্রিকেটার ও সমর্থকদের কাছে আলাদা গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করেন তিনি।

ক্যারিয়ারে একাধিকবার গুরুতর চোটে পড়েছেন মাশরাফি। তবে প্রতিবারই লড়াই করে মাঠে ফিরেছেন। চোটের কারণে তার টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ার তুলনামূলকভাবে আগেই থেমে যায়। ২০২০ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায় নেন তিনি।

ক্রিকেট ছাড়ার পরও মাশরাফির জনপ্রিয়তা কমেনি। নড়াইলের মানুষের কাছে তিনি ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’ নামে পরিচিত। মাঠে সাফল্যের পাশাপাশি চোটের সঙ্গে লড়াই করে বারবার ফিরে আসার মানসিকতা এবং নেতৃত্বগুণ তাকে বাংলাদেশের ক্রিকেটে বিশেষ অবস্থানে নিয়ে গেছে।

অন্যদিকে, পাকিস্তানের ১৯৯২ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইমরান খানেরও জন্ম ৫ অক্টোবর। ১৯৫২ সালে জন্ম নেওয়া ইমরান খান পাকিস্তানের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘ ২১ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে তিনি পাকিস্তানকে নেতৃত্ব দিয়ে ১৯৯২ সালে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জেতান।

ইমরান খান ৮৮টি টেস্ট ও ১৭৫টি ওয়ানডে খেলেছেন। টেস্টে ৩৬২ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি করেছেন ৩ হাজার ৮০৭ রান। ওয়ানডেতে তার সংগ্রহ ১৮২ উইকেট ও ৩ হাজার ৭০৯ রান। অলরাউন্ড নৈপুণ্য, নেতৃত্বগুণ ও প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দলকে এগিয়ে নেওয়ার সক্ষমতার কারণে তিনি পাকিস্তানের ক্রিকেটে কিংবদন্তির মর্যাদা পেয়েছেন।

মাশরাফি ও ইমরানের মধ্যে আরেকটি বড় মিল হলো, ক্রিকেটের পর দুজনই রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ইমরান খান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীও নির্বাচিত হন। অন্যদিকে মাশরাফি বাংলাদেশে সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

ক্রিকেটের মাঠে দুই দেশের হয়ে নেতৃত্বের অনন্য নজির তৈরি করা এই দুই তারকা এখন ভিন্ন বাস্তবতায় রয়েছেন। ইমরান খান বর্তমানে কারাবন্দি। আর ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর থেকে জনসম্মুখে মাশরাফির উপস্থিতি অনেকটাই সীমিত।

একই দিনে জন্ম নেওয়া ইমরান খান ও মাশরাফি বিন মুর্তজার ক্রিকেট ক্যারিয়ারের সময়কাল, প্রেক্ষাপট ও অর্জন ভিন্ন হলেও নেতৃত্ব, লড়াই এবং নিজ নিজ দেশের ক্রিকেটে প্রভাবের জায়গায় দুজনের মধ্যে রয়েছে উল্লেখযোগ্য মিল। তাই ৫ অক্টোবর শুধু তাদের জন্মদিন নয়, দুই দেশের ক্রিকেট ইতিহাসের দুই আলোচিত অধিনায়ককে স্মরণ করারও একটি দিন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ইমরান-মাশরাফি, দুই কিংবদন্তির জন্মদিন

সর্বশেষ আপডেট ০৬:৪৯:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

৫ অক্টোবর; ক্রিকেটের ইতিহাসে বাংলাদেশের মাশরাফি বিন মুর্তজা ও পাকিস্তানের ইমরান খানের জন্মদিন। একই দিনে জন্ম নেওয়া দুই দেশের এই দুই কিংবদন্তির ক্রিকেট ক্যারিয়ারে রয়েছে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য মিল। দুজনই নিজ নিজ দেশের জনপ্রিয় অধিনায়ক, বিশ্বকাপে দলকে নেতৃত্ব দিয়ে সর্বোচ্চ সাফল্য এনে দিয়েছেন এবং গুরুতর চোটের মধ্যেও ক্রিকেট চালিয়ে গেছেন। ক্রিকেটের বাইরে দুজনই পরবর্তী সময়ে রাজনীতিতে যুক্ত হন।

১৯৮৩ সালের ৫ অক্টোবর নড়াইলে জন্ম মাশরাফি বিন মুর্তজার। ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ ছিল তার। ক্রিকেটে মনোযোগ দেওয়ার পর দ্রুতই পেস বোলার হিসেবে নিজের প্রতিভার জানান দেন। ২০০১ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় তার। এরপর দীর্ঘ ক্যারিয়ারে বাংলাদেশকে তিন সংস্করণেই প্রতিনিধিত্ব করেছেন ডানহাতি এই পেসার।

মাশরাফির ক্যারিয়ারের সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায় ওয়ানডে ক্রিকেট। খেলোয়াড় হিসেবে দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হওয়ার পাশাপাশি অধিনায়ক হিসেবেও বাংলাদেশকে এনে দিয়েছেন বেশ কিছু স্মরণীয় সাফল্য। তার নেতৃত্বেই ২০১৫ বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে বাংলাদেশ।

২০১৫ সালে দেশের মাটিতে পাকিস্তান, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়েও মাশরাফির নেতৃত্ব ছিল গুরুত্বপূর্ণ। তার অধিনায়কত্বের সময় বাংলাদেশ ওয়ানডে ক্রিকেটে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করে। কঠিন পরিস্থিতিতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া, সতীর্থদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানো এবং দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখার কারণে ক্রিকেটার ও সমর্থকদের কাছে আলাদা গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করেন তিনি।

ক্যারিয়ারে একাধিকবার গুরুতর চোটে পড়েছেন মাশরাফি। তবে প্রতিবারই লড়াই করে মাঠে ফিরেছেন। চোটের কারণে তার টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ার তুলনামূলকভাবে আগেই থেমে যায়। ২০২০ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায় নেন তিনি।

ক্রিকেট ছাড়ার পরও মাশরাফির জনপ্রিয়তা কমেনি। নড়াইলের মানুষের কাছে তিনি ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’ নামে পরিচিত। মাঠে সাফল্যের পাশাপাশি চোটের সঙ্গে লড়াই করে বারবার ফিরে আসার মানসিকতা এবং নেতৃত্বগুণ তাকে বাংলাদেশের ক্রিকেটে বিশেষ অবস্থানে নিয়ে গেছে।

অন্যদিকে, পাকিস্তানের ১৯৯২ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইমরান খানেরও জন্ম ৫ অক্টোবর। ১৯৫২ সালে জন্ম নেওয়া ইমরান খান পাকিস্তানের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘ ২১ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে তিনি পাকিস্তানকে নেতৃত্ব দিয়ে ১৯৯২ সালে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জেতান।

ইমরান খান ৮৮টি টেস্ট ও ১৭৫টি ওয়ানডে খেলেছেন। টেস্টে ৩৬২ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি করেছেন ৩ হাজার ৮০৭ রান। ওয়ানডেতে তার সংগ্রহ ১৮২ উইকেট ও ৩ হাজার ৭০৯ রান। অলরাউন্ড নৈপুণ্য, নেতৃত্বগুণ ও প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দলকে এগিয়ে নেওয়ার সক্ষমতার কারণে তিনি পাকিস্তানের ক্রিকেটে কিংবদন্তির মর্যাদা পেয়েছেন।

মাশরাফি ও ইমরানের মধ্যে আরেকটি বড় মিল হলো, ক্রিকেটের পর দুজনই রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ইমরান খান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীও নির্বাচিত হন। অন্যদিকে মাশরাফি বাংলাদেশে সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

ক্রিকেটের মাঠে দুই দেশের হয়ে নেতৃত্বের অনন্য নজির তৈরি করা এই দুই তারকা এখন ভিন্ন বাস্তবতায় রয়েছেন। ইমরান খান বর্তমানে কারাবন্দি। আর ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর থেকে জনসম্মুখে মাশরাফির উপস্থিতি অনেকটাই সীমিত।

একই দিনে জন্ম নেওয়া ইমরান খান ও মাশরাফি বিন মুর্তজার ক্রিকেট ক্যারিয়ারের সময়কাল, প্রেক্ষাপট ও অর্জন ভিন্ন হলেও নেতৃত্ব, লড়াই এবং নিজ নিজ দেশের ক্রিকেটে প্রভাবের জায়গায় দুজনের মধ্যে রয়েছে উল্লেখযোগ্য মিল। তাই ৫ অক্টোবর শুধু তাদের জন্মদিন নয়, দুই দেশের ক্রিকেট ইতিহাসের দুই আলোচিত অধিনায়ককে স্মরণ করারও একটি দিন।