ঢাকা ০৭:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গণতন্ত্র ও উন্নয়ন নিয়ে চিফ হুইপ-যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি বৈঠক

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৫:২৮:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
  • / 14

গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম। যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এসব কথা বলেন।

চিফ হুইপের কার্যালয়ে মঙ্গলবার এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্র মিশনের উপপ্রধান মেগান বলডিনসহ প্রতিনিধি দলের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনায় অংশ নেন রাজনৈতিক উপদেষ্টা এরিক গিলান এবং রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ ফিরোজ আহমেদও।

বৈঠকে দুই দেশের সংসদীয় গণতন্ত্র, রাজনৈতিক অগ্রগতি, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং বাণিজ্যিক সম্পর্কসহ বিস্তৃত বিষয় উঠে আসে। জাতীয় সংসদের কার্যক্রম ও সংসদ ভবনের ঐতিহাসিক গুরুত্ব নিয়েও মতবিনিময় হয়।

চিফ হুইপ বলেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রায় যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে পাশে রয়েছে। তৈরি পোশাক খাতের বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারনির্ভর উল্লেখ করে তিনি জানান, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কর্মসংস্থান বাড়ানোর পরিকল্পনায় উন্নত প্রযুক্তির সহযোগিতা প্রয়োজন।

বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, সরকার অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রান্তিক মানুষের সহায়তায় ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং কৃষিঋণ মওকুফের মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এসব উদ্যোগ কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য গণতান্ত্রিক পরিবেশ অপরিহার্য বলে তিনি মত দেন।

তার ভাষায়, সংসদই গণতন্ত্রের মূল কেন্দ্র। লুই আই কানের নকশায় নির্মিত জাতীয় সংসদ ভবনকে তিনি গণতন্ত্রের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন এবং এর স্থপতিকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করার কথা বলেন।

যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি দলের উপপ্রধান মেগান বলডিন বলেন, সংসদ ভবন দুই দেশের বন্ধুত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক প্রতীক। মার্কিন স্থাপত্য শিক্ষার্থীদের কাছেও এটি বিশেষ আগ্রহের জায়গা হিসেবে বিবেচিত হয়। তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র সবসময় স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্বকে গুরুত্ব দেয়।

বৈঠকে শ্রম আইন সংস্কার নিয়েও আলোচনা হয়। প্রতিনিধি দল এ খাতে বাংলাদেশের অগ্রগতির প্রশংসা করে এবং ওয়াশিংটনে এর ইতিবাচক মূল্যায়নের কথা জানায়।

এছাড়া, দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তিতে দুর্নীতি দমন, পরিবেশ সুরক্ষা এবং বন্যপ্রাণী পাচার রোধের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে জানানো হয়। সংক্রামক রোগ মোকাবিলায় স্বাস্থ্যখাতে আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ৯০ মিলিয়ন ডলারের সহায়তার বিষয়টিও আলোচনায় আসে।

সাক্ষাতে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

গণতন্ত্র ও উন্নয়ন নিয়ে চিফ হুইপ-যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি বৈঠক

সর্বশেষ আপডেট ০৫:২৮:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম। যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এসব কথা বলেন।

চিফ হুইপের কার্যালয়ে মঙ্গলবার এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্র মিশনের উপপ্রধান মেগান বলডিনসহ প্রতিনিধি দলের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনায় অংশ নেন রাজনৈতিক উপদেষ্টা এরিক গিলান এবং রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ ফিরোজ আহমেদও।

বৈঠকে দুই দেশের সংসদীয় গণতন্ত্র, রাজনৈতিক অগ্রগতি, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং বাণিজ্যিক সম্পর্কসহ বিস্তৃত বিষয় উঠে আসে। জাতীয় সংসদের কার্যক্রম ও সংসদ ভবনের ঐতিহাসিক গুরুত্ব নিয়েও মতবিনিময় হয়।

চিফ হুইপ বলেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রায় যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে পাশে রয়েছে। তৈরি পোশাক খাতের বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারনির্ভর উল্লেখ করে তিনি জানান, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কর্মসংস্থান বাড়ানোর পরিকল্পনায় উন্নত প্রযুক্তির সহযোগিতা প্রয়োজন।

বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, সরকার অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রান্তিক মানুষের সহায়তায় ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং কৃষিঋণ মওকুফের মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এসব উদ্যোগ কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য গণতান্ত্রিক পরিবেশ অপরিহার্য বলে তিনি মত দেন।

তার ভাষায়, সংসদই গণতন্ত্রের মূল কেন্দ্র। লুই আই কানের নকশায় নির্মিত জাতীয় সংসদ ভবনকে তিনি গণতন্ত্রের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন এবং এর স্থপতিকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করার কথা বলেন।

যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি দলের উপপ্রধান মেগান বলডিন বলেন, সংসদ ভবন দুই দেশের বন্ধুত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক প্রতীক। মার্কিন স্থাপত্য শিক্ষার্থীদের কাছেও এটি বিশেষ আগ্রহের জায়গা হিসেবে বিবেচিত হয়। তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র সবসময় স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্বকে গুরুত্ব দেয়।

বৈঠকে শ্রম আইন সংস্কার নিয়েও আলোচনা হয়। প্রতিনিধি দল এ খাতে বাংলাদেশের অগ্রগতির প্রশংসা করে এবং ওয়াশিংটনে এর ইতিবাচক মূল্যায়নের কথা জানায়।

এছাড়া, দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তিতে দুর্নীতি দমন, পরিবেশ সুরক্ষা এবং বন্যপ্রাণী পাচার রোধের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে জানানো হয়। সংক্রামক রোগ মোকাবিলায় স্বাস্থ্যখাতে আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ৯০ মিলিয়ন ডলারের সহায়তার বিষয়টিও আলোচনায় আসে।

সাক্ষাতে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।