ঢাকা ০৬:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শরীয়তপুরে বিএনপি নেতাকে হুমকি দিলেন স্বেচ্ছাবেসক দল সভাপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক, শরীয়তপুর
  • সর্বশেষ আপডেট ০৩:২৭:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
  • / 25

শরীয়তপুরে বিএনপি নেতাকে হুমকি দিলেন স্বেচ্ছাবেসক দল সভাপতি

শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস জেলা শহরের কাছাকাছি স্থাপনের দাবিতে আন্দোলনকে কেন্দ্র করে শরীয়তপুরে বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে। সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব মোর্শেদ টিপু মাদবরকে ‘ঘাড় থেকে মাথা সরিয়ে দেওয়ার’ হুমকি দিয়েছেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আমিনুর রহমান আমান মাদবর। তাঁর দেওয়া হুমকির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

গত রোববার (১ নভেম্বর) সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে টিপু মাদবরের বিরুদ্ধে আয়োজিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে বক্তব্য দেওয়ার সময় এ হুমকি দেন আমান মাদবর। ওই সময় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা তাঁর পাশে ছিলেন।

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে আমান মাদবরকে সাংবাদিকদের সামনে বক্তব্য দিতে দেখা যায়। সেখানে তিনি বলেন, জাতীয় সংসদের হুইপ ও শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মিয়া নুরুদ্দিন আহমেদ অপুকে নিয়ে কটূক্তির প্রতিবাদে তাঁরা বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছেন। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে দল থেকে বহিষ্কার ও গ্রেপ্তারের দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা।

আমান মাদবরের ভাষ্য, জেলা বিএনপির নেতারা তাঁদের অবরোধ তুলে নিতে বলেছেন এবং দুই-এক দিনের মধ্যে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। এরপর তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, মিয়া নুরুদ্দিন আহমেদ অপুকে নিয়ে কোনো ষড়যন্ত্র হলে জড়িত ব্যক্তির যত শক্তিই থাকুক, তাঁর ঘাড় থেকে মাথা সরিয়ে দেওয়া হবে। তাঁকে শরীয়তপুরে অবাঞ্ছিতও ঘোষণা করা হবে।

জানা যায়, শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস জেলা শহরের কাছাকাছি স্থাপনের দাবিতে গত ২৮ অক্টোবর সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক টিপু মাদবরের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হয়। ওই কর্মসূচিতে জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহমেদ অপুকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীরা।

এর প্রতিবাদে ১ নভেম্বর জেলা যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের একাংশের নেতাকর্মীরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। পরে শহরের প্রধান সড়ক অবরোধ করে টিপু মাদবরের বহিষ্কার ও গ্রেপ্তারের দাবি জানান তাঁরা। এ সময় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সরদার এ কে এম নাসির উদ্দিন কালুর কাছে স্মারকলিপিও দেন বিক্ষোভকারীরা।

এদিকে, হুমকির ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পরদিন সোমবার (২ নভেম্বর) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস ঢাকা-শরীয়তপুর মহাসড়কের পাশে স্থাপনের দাবিতে আয়োজিত এক উঠান বৈঠকে বক্তব্য দেন টিপু মাদবর। সেখানে তিনি বলেন, বিভিন্ন জায়গায় তাঁর ছবি তৈরি করে পোড়ানো হচ্ছে এবং তাঁকে ঘিরে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। গত ১৭ বছর তিনি না থাকলে শরীয়তপুর শহরে কেউ মিছিল করার সাহস পেতেন না বলেও দাবি করেন তিনি।

২০১৮ সালে দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কর্মসূচির প্রসঙ্গ তুলে টিপু মাদবর বলেন, ওই সময় কয়েকজন নেতার বাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তিনি সাহসিকতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করে তাঁদের রক্ষা করেছিলেন। রাজনৈতিক সংগ্রামে জীবনের বড় একটি সময় পার করেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেউ যেন তাঁকে যুদ্ধের হুংকার না দেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস শহরের প্রাণকেন্দ্রে স্থাপনের দাবি জানিয়ে টিপু মাদবর বলেন, এ দাবির পেছনে তাঁর কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ নেই।

তবে হুমকির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আমিনুর রহমান আমান মাদবর। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি এ ধরনের বক্তব্য দিইনি। আপনারা ভালো করে শুনেন।’ এরপর তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

অন্যদিকে, টিপু মাদবর বলেন, তাঁকে উদ্দেশ করে দেওয়া হুমকির ভিডিও তিনি দেখেছেন। এ ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের স্থান নির্ধারণ নিয়ে আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতাকর্মীদের পাল্টাপাল্টি অবস্থান এবং প্রকাশ্যে হুমকির ঘটনায় শরীয়তপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

শরীয়তপুরে বিএনপি নেতাকে হুমকি দিলেন স্বেচ্ছাবেসক দল সভাপতি

সর্বশেষ আপডেট ০৩:২৭:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস জেলা শহরের কাছাকাছি স্থাপনের দাবিতে আন্দোলনকে কেন্দ্র করে শরীয়তপুরে বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে। সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব মোর্শেদ টিপু মাদবরকে ‘ঘাড় থেকে মাথা সরিয়ে দেওয়ার’ হুমকি দিয়েছেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আমিনুর রহমান আমান মাদবর। তাঁর দেওয়া হুমকির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

গত রোববার (১ নভেম্বর) সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে টিপু মাদবরের বিরুদ্ধে আয়োজিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে বক্তব্য দেওয়ার সময় এ হুমকি দেন আমান মাদবর। ওই সময় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা তাঁর পাশে ছিলেন।

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে আমান মাদবরকে সাংবাদিকদের সামনে বক্তব্য দিতে দেখা যায়। সেখানে তিনি বলেন, জাতীয় সংসদের হুইপ ও শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মিয়া নুরুদ্দিন আহমেদ অপুকে নিয়ে কটূক্তির প্রতিবাদে তাঁরা বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছেন। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে দল থেকে বহিষ্কার ও গ্রেপ্তারের দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা।

আমান মাদবরের ভাষ্য, জেলা বিএনপির নেতারা তাঁদের অবরোধ তুলে নিতে বলেছেন এবং দুই-এক দিনের মধ্যে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। এরপর তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, মিয়া নুরুদ্দিন আহমেদ অপুকে নিয়ে কোনো ষড়যন্ত্র হলে জড়িত ব্যক্তির যত শক্তিই থাকুক, তাঁর ঘাড় থেকে মাথা সরিয়ে দেওয়া হবে। তাঁকে শরীয়তপুরে অবাঞ্ছিতও ঘোষণা করা হবে।

জানা যায়, শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস জেলা শহরের কাছাকাছি স্থাপনের দাবিতে গত ২৮ অক্টোবর সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক টিপু মাদবরের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হয়। ওই কর্মসূচিতে জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহমেদ অপুকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীরা।

এর প্রতিবাদে ১ নভেম্বর জেলা যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের একাংশের নেতাকর্মীরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। পরে শহরের প্রধান সড়ক অবরোধ করে টিপু মাদবরের বহিষ্কার ও গ্রেপ্তারের দাবি জানান তাঁরা। এ সময় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সরদার এ কে এম নাসির উদ্দিন কালুর কাছে স্মারকলিপিও দেন বিক্ষোভকারীরা।

এদিকে, হুমকির ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পরদিন সোমবার (২ নভেম্বর) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস ঢাকা-শরীয়তপুর মহাসড়কের পাশে স্থাপনের দাবিতে আয়োজিত এক উঠান বৈঠকে বক্তব্য দেন টিপু মাদবর। সেখানে তিনি বলেন, বিভিন্ন জায়গায় তাঁর ছবি তৈরি করে পোড়ানো হচ্ছে এবং তাঁকে ঘিরে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। গত ১৭ বছর তিনি না থাকলে শরীয়তপুর শহরে কেউ মিছিল করার সাহস পেতেন না বলেও দাবি করেন তিনি।

২০১৮ সালে দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কর্মসূচির প্রসঙ্গ তুলে টিপু মাদবর বলেন, ওই সময় কয়েকজন নেতার বাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তিনি সাহসিকতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করে তাঁদের রক্ষা করেছিলেন। রাজনৈতিক সংগ্রামে জীবনের বড় একটি সময় পার করেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেউ যেন তাঁকে যুদ্ধের হুংকার না দেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস শহরের প্রাণকেন্দ্রে স্থাপনের দাবি জানিয়ে টিপু মাদবর বলেন, এ দাবির পেছনে তাঁর কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ নেই।

তবে হুমকির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আমিনুর রহমান আমান মাদবর। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি এ ধরনের বক্তব্য দিইনি। আপনারা ভালো করে শুনেন।’ এরপর তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

অন্যদিকে, টিপু মাদবর বলেন, তাঁকে উদ্দেশ করে দেওয়া হুমকির ভিডিও তিনি দেখেছেন। এ ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের স্থান নির্ধারণ নিয়ে আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতাকর্মীদের পাল্টাপাল্টি অবস্থান এবং প্রকাশ্যে হুমকির ঘটনায় শরীয়তপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।