ঢাকা ১২:১২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মর্যাদাপূর্ণ ভবিষ্যৎ গড়তে শাহীন কেয়ার্স ট্রাস্টের যাত্রা শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৯:৫১:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬
  • / 78

মর্যাদাপূর্ণ ভবিষ্যৎ গড়তে শাহীন কেয়ার্স ট্রাস্টের যাত্রা শুরু

‘গড়ি একসঙ্গে মর্যাদাপূর্ণ ভবিষ্যৎ’ স্লোগান সামনে রেখে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করেছে অলাভজনক ও জনকল্যাণমূলক সংস্থা শাহীন কেয়ার্স ট্রাস্ট (এসসিটি)। শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বনানী ক্লাব লিমিটেডের ব্যাংকুয়েট হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ট্রাস্টের উদ্বোধন ও যৌথ প্রকল্প বাস্তবায়নে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা হয়।

‘শিক্ষা, সংযম, শৃঙ্খলা’ মূলমন্ত্র ধারণ করে বিএএফ শাহীন কলেজ, তেজগাঁও, ঢাকার ১৯৮৯ সালের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে গঠিত হয়েছে এ ট্রাস্ট। প্রায় দুই বছর আলোচনা ও পরামর্শের পর সমাজের বৈষম্য দূর করা এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য মর্যাদাপূর্ণ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি যাত্রা শুরু করে। বাংলাদেশসহ উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ ও অস্ট্রেলিয়ায় ছড়িয়ে থাকা প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্ম হিসেবেও কাজ করবে ট্রাস্টটি।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াত করা হয়। পরে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরা ইশারা ভাষায় জাতীয় সংগীত পরিবেশন করে। ট্রাস্টের বোর্ড সদস্য সেলিন সুলতানা, ফাজল সালাউদ্দিন ও রোজানা রউফ অতিথিদের স্বাগত জানান।

স্বাগত বক্তব্যে ট্রাস্টের চেয়ারপারসন দাতা মাগফুর টেকসই উন্নয়ন, অংশীদারত্ব ও সামাজিক ক্ষমতায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি এ উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে আনন্দ প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতেও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।

অনুষ্ঠানে ‘জার্নি অব ৮৯’ পর্বে ট্রাস্ট গঠনের পেছনের গল্প তুলে ধরেন বোর্ড সদস্য শাহনাজ শারমীন। তিনি বলেন, শিক্ষাজীবন শেষে কর্মজীবনে প্রবেশের পর প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমাজ ও মানুষের জন্য কাজ করার তাগিদ তৈরি হয়। সেই ভাবনা থেকেই ট্রাস্ট গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ কাজে দেশ-বিদেশে থাকা বন্ধুদের নিঃস্বার্থ সহযোগিতার কথাও তিনি স্মরণ করেন। পরে ১৯৮৯ সালের স্মৃতি ও ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠার পথচলা নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

এরপর ট্রাস্টের উদ্বোধন ও আনুষ্ঠানিক ওয়েবসাইট www.shaheencares.org চালু করা হয়। এ সময় ট্রাস্টের ট্রাস্টিরা উপস্থিত ছিলেন।

ট্রাস্টের পাঁচটি প্রধান কর্মক্ষেত্র হলো বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের স্বনির্ভরতা অর্জনে সহায়তা, যুবকদের কর্মসংস্থান ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ, প্রবীণদের মর্যাদাপূর্ণ যত্ন, বেসরকারি সংস্থাগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও টেকসই উন্নয়ন এবং প্রাক্তন শিক্ষকসহ বৃহত্তর শাহীন পরিবারের সদস্যদের জরুরি প্রয়োজনে পাশে দাঁড়ানো। ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক সুমনা বিনতে মাসুদ এসব লক্ষ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

উদ্যোগটির প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে ঢাকার সাতারকূলে অবস্থিত সাতারকূল প্রতিবন্ধী উন্নয়ন সংস্থার (এসপিইউএস) সঙ্গে তিন বছর মেয়াদি একটি যৌথ প্রকল্পের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা হয়। ২০২৬ থেকে ২০২৯ সাল পর্যন্ত বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা এ প্রকল্পের আওতায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বনির্ভরতা অর্জনে কাজ করা হবে। শাহীন কেয়ার্স ট্রাস্টের পক্ষে সাধারণ সম্পাদক সুমনা বিনতে মাসুদ এবং এসপিইউএসের পক্ষে সাধারণ সম্পাদক উজ্জ্বলা বনিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

উজ্জ্বলা বনিক বলেন, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের কল্যাণে সবাই এগিয়ে এলে তাদের সমাজের মূলধারায় সম্পৃক্ত করা সহজ হবে। তিনি এ অংশীদারত্ব শিশুদের উন্নয়ন ও স্বনির্ভরতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

চুক্তি স্বাক্ষরের পর এসপিইউএসের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরা সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেয়। পরে উন্মুক্ত আলোচনা পর্বে ট্রাস্টের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ও বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে অতিথিদের প্রশ্নের উত্তর দেন বোর্ড সদস্য ব্যারিস্টার মাজেদুল ইসলাম ও অর্ণিবান আফতাব।

অনুষ্ঠানে বিএএফ শাহীন কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থী, সমাজকর্মী, বিশিষ্ট নাগরিক ও বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের সমাপ্তিতে ট্রাস্টের কোষাধ্যক্ষ আনিসুজ্জামান নাসের খান প্রাক্তন শাহীনদের এ জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান এবং অতিথিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

মর্যাদাপূর্ণ ভবিষ্যৎ গড়তে শাহীন কেয়ার্স ট্রাস্টের যাত্রা শুরু

সর্বশেষ আপডেট ০৯:৫১:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

‘গড়ি একসঙ্গে মর্যাদাপূর্ণ ভবিষ্যৎ’ স্লোগান সামনে রেখে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করেছে অলাভজনক ও জনকল্যাণমূলক সংস্থা শাহীন কেয়ার্স ট্রাস্ট (এসসিটি)। শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বনানী ক্লাব লিমিটেডের ব্যাংকুয়েট হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ট্রাস্টের উদ্বোধন ও যৌথ প্রকল্প বাস্তবায়নে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা হয়।

‘শিক্ষা, সংযম, শৃঙ্খলা’ মূলমন্ত্র ধারণ করে বিএএফ শাহীন কলেজ, তেজগাঁও, ঢাকার ১৯৮৯ সালের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে গঠিত হয়েছে এ ট্রাস্ট। প্রায় দুই বছর আলোচনা ও পরামর্শের পর সমাজের বৈষম্য দূর করা এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য মর্যাদাপূর্ণ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি যাত্রা শুরু করে। বাংলাদেশসহ উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ ও অস্ট্রেলিয়ায় ছড়িয়ে থাকা প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্ম হিসেবেও কাজ করবে ট্রাস্টটি।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াত করা হয়। পরে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরা ইশারা ভাষায় জাতীয় সংগীত পরিবেশন করে। ট্রাস্টের বোর্ড সদস্য সেলিন সুলতানা, ফাজল সালাউদ্দিন ও রোজানা রউফ অতিথিদের স্বাগত জানান।

স্বাগত বক্তব্যে ট্রাস্টের চেয়ারপারসন দাতা মাগফুর টেকসই উন্নয়ন, অংশীদারত্ব ও সামাজিক ক্ষমতায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি এ উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে আনন্দ প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতেও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।

অনুষ্ঠানে ‘জার্নি অব ৮৯’ পর্বে ট্রাস্ট গঠনের পেছনের গল্প তুলে ধরেন বোর্ড সদস্য শাহনাজ শারমীন। তিনি বলেন, শিক্ষাজীবন শেষে কর্মজীবনে প্রবেশের পর প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমাজ ও মানুষের জন্য কাজ করার তাগিদ তৈরি হয়। সেই ভাবনা থেকেই ট্রাস্ট গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ কাজে দেশ-বিদেশে থাকা বন্ধুদের নিঃস্বার্থ সহযোগিতার কথাও তিনি স্মরণ করেন। পরে ১৯৮৯ সালের স্মৃতি ও ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠার পথচলা নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

এরপর ট্রাস্টের উদ্বোধন ও আনুষ্ঠানিক ওয়েবসাইট www.shaheencares.org চালু করা হয়। এ সময় ট্রাস্টের ট্রাস্টিরা উপস্থিত ছিলেন।

ট্রাস্টের পাঁচটি প্রধান কর্মক্ষেত্র হলো বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের স্বনির্ভরতা অর্জনে সহায়তা, যুবকদের কর্মসংস্থান ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ, প্রবীণদের মর্যাদাপূর্ণ যত্ন, বেসরকারি সংস্থাগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও টেকসই উন্নয়ন এবং প্রাক্তন শিক্ষকসহ বৃহত্তর শাহীন পরিবারের সদস্যদের জরুরি প্রয়োজনে পাশে দাঁড়ানো। ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক সুমনা বিনতে মাসুদ এসব লক্ষ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

উদ্যোগটির প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে ঢাকার সাতারকূলে অবস্থিত সাতারকূল প্রতিবন্ধী উন্নয়ন সংস্থার (এসপিইউএস) সঙ্গে তিন বছর মেয়াদি একটি যৌথ প্রকল্পের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা হয়। ২০২৬ থেকে ২০২৯ সাল পর্যন্ত বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা এ প্রকল্পের আওতায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বনির্ভরতা অর্জনে কাজ করা হবে। শাহীন কেয়ার্স ট্রাস্টের পক্ষে সাধারণ সম্পাদক সুমনা বিনতে মাসুদ এবং এসপিইউএসের পক্ষে সাধারণ সম্পাদক উজ্জ্বলা বনিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

উজ্জ্বলা বনিক বলেন, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের কল্যাণে সবাই এগিয়ে এলে তাদের সমাজের মূলধারায় সম্পৃক্ত করা সহজ হবে। তিনি এ অংশীদারত্ব শিশুদের উন্নয়ন ও স্বনির্ভরতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

চুক্তি স্বাক্ষরের পর এসপিইউএসের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরা সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেয়। পরে উন্মুক্ত আলোচনা পর্বে ট্রাস্টের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ও বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে অতিথিদের প্রশ্নের উত্তর দেন বোর্ড সদস্য ব্যারিস্টার মাজেদুল ইসলাম ও অর্ণিবান আফতাব।

অনুষ্ঠানে বিএএফ শাহীন কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থী, সমাজকর্মী, বিশিষ্ট নাগরিক ও বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের সমাপ্তিতে ট্রাস্টের কোষাধ্যক্ষ আনিসুজ্জামান নাসের খান প্রাক্তন শাহীনদের এ জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান এবং অতিথিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।