শাপলা চত্বরে হত্যা মামলা
শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ
- সর্বশেষ আপডেট ১১:৪৪:৩৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
- / 64
২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র (ফরমাল চার্জ) দাখিল করেছে প্রসিকিউশন।
সোমবার সকাল প্রায় পৌনে ১১টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারের কাছে অভিযোগপত্র জমা দেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন।
অভিযোগপত্রে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একই দিনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চে এ মামলার ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
মামলাটিতে বর্তমানে নয়জন আসামি গ্রেপ্তার অবস্থায় রয়েছেন। তারা হলেন—সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহিদুল হক, সাবেক উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোল্যা নজরুল ইসলাম, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা পরিষদের সভাপতি শাহরিয়ার কবির, সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল, সাংবাদিক ফারজানা রুপা এবং মোজাম্মেল বাবু।
অন্যদিকে শেখ হাসিনা, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদসহ একাধিক আসামি পলাতক রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদনও ট্রাইব্যুনালে করেছে প্রসিকিউশন।
প্রসিকিউশনের দাবি, শাপলা চত্বরকে কেন্দ্র করে ঢাকাসহ দেশের চারটি স্থানে সংঘটিত সহিংসতায় মোট ৬১ জন নিহত হন। তদন্তে এ পর্যন্ত ৫৮ জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকায় ৩২ জন, নারায়ণগঞ্জে ২০ জন, চট্টগ্রামে ৫ জন এবং কুমিল্লায় একজন নিহত হয়েছেন বলে তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে গত ১৯ জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা এ মামলার খসড়া তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। পরে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানান, খসড়া প্রতিবেদনে শেখ হাসিনা, সাবেক পুলিশপ্রধান বেনজীর আহমেদ, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদসহ আরও কয়েকজনের নাম এসেছে। যাচাই-বাছাই শেষে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র চূড়ান্ত করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনার জন্য হেফাজতে ইসলামের একটি প্রতিনিধি দল চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে যায়। প্রতিনিধি দলে সংগঠনটির সিনিয়র নায়েবে আমির আব্দুল হামিদ, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক, মুফতি হারুন ইজহার, মুফতি মীর ইদ্রিসসহ শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে মাওলানা মামুনুল হক দাবি করেন, শুরু থেকেই তারা নিহতের প্রকৃত সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়ে বেশি বলে দাবি করে আসছেন। তার অভিযোগ, ওই সময় রাষ্ট্রীয়ভাবে মরদেহ গুমের চেষ্টা হয়েছিল, যার কারণে অনেক তথ্য তদন্ত প্রতিবেদনে স্থান পায়নি। তবে তাদের সংরক্ষিত তথ্য-প্রমাণ অনুযায়ী অন্তত ৬১ জন নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত বলে দাবি করেন তিনি।


































