ঢাকা ০৪:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মেকারফিল্ডে বার্নহ্যামের জয়

স্টারমারের প্রধানমন্ত্রিত্ব বড় চ্যালেঞ্জে

অন্তার্জাতিক ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০১:২১:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
  • / 9

উপনির্বাচনে বার্নহ্যামের বড় জয়

যুক্তরাজ্যের উত্তরাঞ্চলের মেকারফিল্ড আসনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপনির্বাচনে বিশাল ব্যবধানে জয় পেয়েছেন ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির প্রার্থী এবং গ্রেটার ম্যানচেস্টারের জনপ্রিয় মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। শুক্রবার ভোরে ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, তিনি অভিবাসনবিরোধী দল ‘রিফর্ম ইউকে’-এর প্রার্থী রবার্ট কেনিয়নকে অনায়াসে পরাজিত করেছেন। আল জাজিরার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, হাউজ অব কমন্সের এই আসনটিতে জয়ের মাধ্যমে বার্নহ্যামের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার লড়াইয়ে নামার প্রধান শর্তটি পূরণ হলো, যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানানোর পথ সুগম করেছে।

নির্বাচনে বার্নহ্যাম ২৪ হাজার ৯২৭ ভোট পেয়ে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কেনিয়নকে ৯ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে হারিয়েছেন। এই নির্বাচনে ‘রেস্টোর ব্রিটেন’ দলের রেবেকা শেফার্ড তৃতীয় স্থান অর্জন করেন এবং কনজারভেটিভ পার্টি, গ্রিন পার্টি ও লিবারেল ডেমোক্র্যাটসের প্রার্থীরা বেশ পিছিয়ে ছিলেন।

বিজয়ী ভাষণে অ্যান্ডি বার্নহ্যাম বলেন, “সবাই বুঝতে পারছেন যে বর্তমান রাজনীতি কাজ করছে না। সবাই অনুভব করতে পারছেন দেশ যেখানে থাকার কথা ছিল, সেখানে নেই। আজকের রাতটি একটি পরিবর্তনের সূচনা হতে পারে।” লন্ডনের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক নীতির কড়া সমালোচক বার্নহ্যাম আরও যোগ করেন যে, মেকারফিল্ড আসনটি হবে তাঁর রাজনীতির মূল ভিত্তি এবং ওয়েস্টমিনস্টার যেসব এলাকাকে অবহেলা করেছে, এখন থেকে তারা ন্যায্য অধিকার পাবে।

স্টারমারের বিদায় ঘণ্টা? সমীক্ষায় বার্নহ্যাম অনেক এগিয়ে:

  • নেতৃত্ব বদলের সুযোগ: যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক ব্যবস্থা অনুযায়ী, নতুন করে সাধারণ নির্বাচন ছাড়াই কেবল ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্যদের (এমপি) ভোটের মাধ্যমে নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করা সম্ভব। বার্নহ্যাম যদি স্টারমারের স্থলাভিষিক্ত হন, তবে ২০১৬ সালের ব্রেক্সিট ভোটের পর তিনি হবেন যুক্তরাজ্যের সপ্তম প্রধানমন্ত্রী।
  • জনপ্রিয়তায় ধস: ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে লেবার পার্টি বিশাল জয় পেলেও সাম্প্রতিক সময়ে স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে সাধারণ মানুষের অসন্তোষ তুঙ্গে। ‘ইপসোস’-এর সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, ২৫ শতাংশ ব্রিটিশ নাগরিক বার্নহ্যামকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান, যেখানে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী স্টারমারের পক্ষে সমর্থন মাত্র ১২ শতাংশ।
  • সরকারে অস্থিরতা: গত মে মাসে স্থানীয় ও আঞ্চলিক নির্বাচনে দলের শোচনীয় পরাজয়ের পর থেকে স্টারমারের পদত্যাগের দাবি জোরালো হচ্ছে। এছাড়া দুই বছরেরও কম সময়ে স্টারমার সরকারের ২০ জন মন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন, যাদের প্রায় অর্ধেকই তাঁর নেতৃত্বের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করেছিলেন। তবে স্টারমার পদত্যাগের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, তিনি যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করবেন।

উত্তরাঞ্চলের মানুষের কাছে তৃণমূল স্তরে তুমুল জনপ্রিয়তার কারণে অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে ‘কিং অব দ্য নর্থ’ বা উত্তরাঞ্চলের রাজা বলা হয়। ২০১৭ সালে প্রথমবার গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর ২০২১ ও ২০২৪ সালেও তিনি পুনর্নির্বাচিত হন। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার ও গর্ডন ব্রাউনের অধীনে একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও সামলেছেন। উল্লেখ্য, লেবার পার্টির এমপি জশ সাইমন্স গত মাসে মেকারফিল্ড আসন থেকে পদত্যাগ করেন, যাতে বার্নহ্যাম এই উপনির্বাচনে অংশ নিয়ে স্টারমারকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেন। এই উপনির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল ৫৮.৭৫ শতাংশ, যা ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনের চেয়েও বেশি।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

মেকারফিল্ডে বার্নহ্যামের জয়

স্টারমারের প্রধানমন্ত্রিত্ব বড় চ্যালেঞ্জে

সর্বশেষ আপডেট ০১:২১:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

যুক্তরাজ্যের উত্তরাঞ্চলের মেকারফিল্ড আসনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপনির্বাচনে বিশাল ব্যবধানে জয় পেয়েছেন ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির প্রার্থী এবং গ্রেটার ম্যানচেস্টারের জনপ্রিয় মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। শুক্রবার ভোরে ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, তিনি অভিবাসনবিরোধী দল ‘রিফর্ম ইউকে’-এর প্রার্থী রবার্ট কেনিয়নকে অনায়াসে পরাজিত করেছেন। আল জাজিরার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, হাউজ অব কমন্সের এই আসনটিতে জয়ের মাধ্যমে বার্নহ্যামের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার লড়াইয়ে নামার প্রধান শর্তটি পূরণ হলো, যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানানোর পথ সুগম করেছে।

নির্বাচনে বার্নহ্যাম ২৪ হাজার ৯২৭ ভোট পেয়ে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কেনিয়নকে ৯ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে হারিয়েছেন। এই নির্বাচনে ‘রেস্টোর ব্রিটেন’ দলের রেবেকা শেফার্ড তৃতীয় স্থান অর্জন করেন এবং কনজারভেটিভ পার্টি, গ্রিন পার্টি ও লিবারেল ডেমোক্র্যাটসের প্রার্থীরা বেশ পিছিয়ে ছিলেন।

বিজয়ী ভাষণে অ্যান্ডি বার্নহ্যাম বলেন, “সবাই বুঝতে পারছেন যে বর্তমান রাজনীতি কাজ করছে না। সবাই অনুভব করতে পারছেন দেশ যেখানে থাকার কথা ছিল, সেখানে নেই। আজকের রাতটি একটি পরিবর্তনের সূচনা হতে পারে।” লন্ডনের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক নীতির কড়া সমালোচক বার্নহ্যাম আরও যোগ করেন যে, মেকারফিল্ড আসনটি হবে তাঁর রাজনীতির মূল ভিত্তি এবং ওয়েস্টমিনস্টার যেসব এলাকাকে অবহেলা করেছে, এখন থেকে তারা ন্যায্য অধিকার পাবে।

স্টারমারের বিদায় ঘণ্টা? সমীক্ষায় বার্নহ্যাম অনেক এগিয়ে:

  • নেতৃত্ব বদলের সুযোগ: যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক ব্যবস্থা অনুযায়ী, নতুন করে সাধারণ নির্বাচন ছাড়াই কেবল ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্যদের (এমপি) ভোটের মাধ্যমে নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করা সম্ভব। বার্নহ্যাম যদি স্টারমারের স্থলাভিষিক্ত হন, তবে ২০১৬ সালের ব্রেক্সিট ভোটের পর তিনি হবেন যুক্তরাজ্যের সপ্তম প্রধানমন্ত্রী।
  • জনপ্রিয়তায় ধস: ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে লেবার পার্টি বিশাল জয় পেলেও সাম্প্রতিক সময়ে স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে সাধারণ মানুষের অসন্তোষ তুঙ্গে। ‘ইপসোস’-এর সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, ২৫ শতাংশ ব্রিটিশ নাগরিক বার্নহ্যামকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান, যেখানে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী স্টারমারের পক্ষে সমর্থন মাত্র ১২ শতাংশ।
  • সরকারে অস্থিরতা: গত মে মাসে স্থানীয় ও আঞ্চলিক নির্বাচনে দলের শোচনীয় পরাজয়ের পর থেকে স্টারমারের পদত্যাগের দাবি জোরালো হচ্ছে। এছাড়া দুই বছরেরও কম সময়ে স্টারমার সরকারের ২০ জন মন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন, যাদের প্রায় অর্ধেকই তাঁর নেতৃত্বের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করেছিলেন। তবে স্টারমার পদত্যাগের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, তিনি যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করবেন।

উত্তরাঞ্চলের মানুষের কাছে তৃণমূল স্তরে তুমুল জনপ্রিয়তার কারণে অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে ‘কিং অব দ্য নর্থ’ বা উত্তরাঞ্চলের রাজা বলা হয়। ২০১৭ সালে প্রথমবার গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর ২০২১ ও ২০২৪ সালেও তিনি পুনর্নির্বাচিত হন। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার ও গর্ডন ব্রাউনের অধীনে একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও সামলেছেন। উল্লেখ্য, লেবার পার্টির এমপি জশ সাইমন্স গত মাসে মেকারফিল্ড আসন থেকে পদত্যাগ করেন, যাতে বার্নহ্যাম এই উপনির্বাচনে অংশ নিয়ে স্টারমারকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেন। এই উপনির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল ৫৮.৭৫ শতাংশ, যা ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনের চেয়েও বেশি।