ঢাকা ০৪:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠার রায় স্থগিত

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০২:৩৩:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬
  • / 10

সুপ্রিম কোর্ট

আগামী তিন মাসের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের জন্য একটি পৃথক ও সম্পূর্ণ স্বাধীন সচিবালয় গঠন করার নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছিলেন, তা স্থগিত করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। আজ মঙ্গলবার (৯ জুন) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের বিশেষ বেঞ্চ এই স্থগিতাদেশ প্রদান করেন।

এর আগে গত ২১ মে, বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের এই রায়ের কার্যকারিতা চ্যালেঞ্জ করে রাষ্ট্রপক্ষের তরফ থেকে আপিল আবেদন দাখিল করা হয়েছিল। দীর্ঘ শুনানির পর আজ উচ্চ আদালত এই স্থগিতাদেশ দিলেন। উল্লেখ্য, গত ৭ এপ্রিল, মঙ্গলবার ১৮৫ পৃষ্ঠার এই পূর্ণাঙ্গ হাইকোর্টের রায়টি প্রকাশ করা হয়েছিল। তারও আগে বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই ঐতিহাসিক রায়টি ঘোষণা করেছিলেন।

হাইকোর্ট তাঁদের রায়ে, দেশের অধস্তন আদালতে দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (যার মধ্যে কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতি প্রদান ও ছুটি মঞ্জুরিসহ যাবতীয় বিষয় অন্তর্ভুক্ত) এবং তাদের শৃঙ্খলা বিধানের মূল দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত থাকা সংক্রান্ত সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের বর্তমান বিধানটি বাতিল ঘোষণা করেছিলেন।

হাইকোর্টের ওই রায়ের ফলে অধস্তন আদালতের ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা বিধানের পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ব সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত হয়েছিল। একই সঙ্গে অধস্তন আদালতের বিচারকদের জন্য ২০১৭ সালে তৈরি করা জুডিশিয়াল সার্ভিস শৃঙ্খলাবিধিমালাটিও বাতিল করে দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। তবে আপিল বিভাগের আজকের আদেশের ফলে হাইকোর্টের সেই পুরো সিদ্ধান্তটিই আপাতত স্থগিত হয়ে গেল।

আদালতে আজ রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন বিশিষ্ট আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। মামলার গুরুত্বপূর্ণ আইনি সহায়তায় অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট শরীফ ভূইঁয়া। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে এই আইনি লড়াই পরিচালনা করেছিলেন তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।

মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট সংবিধানের বিদ্যমান ১১৬ অনুচ্ছেদ এবং ২০১৭ সালের জুডিশিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের সাতজন আইনজীবী হাইকোর্টে এই রিট পিটিশনটি দায়ের করেন। রিটে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার স্বার্থে একটি পৃথক বিচার বিভাগীয় সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে একই বছরের ২৭ অক্টোবর হাইকোর্ট এই বিষয়ে রুল জারি করেন।

রিটকারীদের আইনজীবীদের মূল যুক্তি ছিল, সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত থাকা এই দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে মূলত রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগের সরাসরি হস্তক্ষেপ ও প্রভাব দেখা যায়, যা বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে মারাত্মকভাবে খর্ব করে। যদিও ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানে অধস্তন আদালতের ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা বিধানের এই একক দায়িত্ব সুপ্রিম কোর্টের ওপরই ন্যস্ত ছিল।

পরবর্তীতে ১৯৭৪ সালে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে এই ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে ন্যস্ত করা হয়। এরপর পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে ‘সুপ্রিম কোর্টের সহিত পরামর্শক্রমে’ শব্দগুলো যুক্ত করা হলেও ২০১১ সালের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ১১৬ অনুচ্ছেদের বর্তমান রূপটিই সংবিধানে বহাল রাখা হয়, যা আজ আপিল বিভাগের স্থগিতাদেশের মাধ্যমে আবারও নতুন মোড় নিল।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠার রায় স্থগিত

সর্বশেষ আপডেট ০২:৩৩:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

আগামী তিন মাসের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের জন্য একটি পৃথক ও সম্পূর্ণ স্বাধীন সচিবালয় গঠন করার নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছিলেন, তা স্থগিত করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। আজ মঙ্গলবার (৯ জুন) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের বিশেষ বেঞ্চ এই স্থগিতাদেশ প্রদান করেন।

এর আগে গত ২১ মে, বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের এই রায়ের কার্যকারিতা চ্যালেঞ্জ করে রাষ্ট্রপক্ষের তরফ থেকে আপিল আবেদন দাখিল করা হয়েছিল। দীর্ঘ শুনানির পর আজ উচ্চ আদালত এই স্থগিতাদেশ দিলেন। উল্লেখ্য, গত ৭ এপ্রিল, মঙ্গলবার ১৮৫ পৃষ্ঠার এই পূর্ণাঙ্গ হাইকোর্টের রায়টি প্রকাশ করা হয়েছিল। তারও আগে বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই ঐতিহাসিক রায়টি ঘোষণা করেছিলেন।

হাইকোর্ট তাঁদের রায়ে, দেশের অধস্তন আদালতে দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (যার মধ্যে কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতি প্রদান ও ছুটি মঞ্জুরিসহ যাবতীয় বিষয় অন্তর্ভুক্ত) এবং তাদের শৃঙ্খলা বিধানের মূল দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত থাকা সংক্রান্ত সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের বর্তমান বিধানটি বাতিল ঘোষণা করেছিলেন।

হাইকোর্টের ওই রায়ের ফলে অধস্তন আদালতের ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা বিধানের পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ব সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত হয়েছিল। একই সঙ্গে অধস্তন আদালতের বিচারকদের জন্য ২০১৭ সালে তৈরি করা জুডিশিয়াল সার্ভিস শৃঙ্খলাবিধিমালাটিও বাতিল করে দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। তবে আপিল বিভাগের আজকের আদেশের ফলে হাইকোর্টের সেই পুরো সিদ্ধান্তটিই আপাতত স্থগিত হয়ে গেল।

আদালতে আজ রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন বিশিষ্ট আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। মামলার গুরুত্বপূর্ণ আইনি সহায়তায় অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট শরীফ ভূইঁয়া। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে এই আইনি লড়াই পরিচালনা করেছিলেন তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।

মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট সংবিধানের বিদ্যমান ১১৬ অনুচ্ছেদ এবং ২০১৭ সালের জুডিশিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের সাতজন আইনজীবী হাইকোর্টে এই রিট পিটিশনটি দায়ের করেন। রিটে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার স্বার্থে একটি পৃথক বিচার বিভাগীয় সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে একই বছরের ২৭ অক্টোবর হাইকোর্ট এই বিষয়ে রুল জারি করেন।

রিটকারীদের আইনজীবীদের মূল যুক্তি ছিল, সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত থাকা এই দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে মূলত রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগের সরাসরি হস্তক্ষেপ ও প্রভাব দেখা যায়, যা বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে মারাত্মকভাবে খর্ব করে। যদিও ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানে অধস্তন আদালতের ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা বিধানের এই একক দায়িত্ব সুপ্রিম কোর্টের ওপরই ন্যস্ত ছিল।

পরবর্তীতে ১৯৭৪ সালে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে এই ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে ন্যস্ত করা হয়। এরপর পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে ‘সুপ্রিম কোর্টের সহিত পরামর্শক্রমে’ শব্দগুলো যুক্ত করা হলেও ২০১১ সালের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ১১৬ অনুচ্ছেদের বর্তমান রূপটিই সংবিধানে বহাল রাখা হয়, যা আজ আপিল বিভাগের স্থগিতাদেশের মাধ্যমে আবারও নতুন মোড় নিল।