ঢাকা ১২:৫০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ২৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছে খালেদা জিয়ার অবদান

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১০:২৮:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬
  • / 10

ছবি সংগৃহীত

শিক্ষাব্যবস্থার পাঠ্যসূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে সরকার। আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য মাধ্যমিক স্তরের ইতিহাস ও সংশ্লিষ্ট কিছু পাঠ্যবইয়ে নতুন বিষয় সংযোজন ও পরিমার্জনের অংশ হিসেবে নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকা অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা বইয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় নতুনভাবে যুক্ত করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে মহান মুক্তিযুদ্ধের সেক্টরভিত্তিক বিস্তারিত আলোচনা, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনা, পাশাপাশি নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে নতুন ব্যাখ্যা ও সংযোজন।

এছাড়া শিক্ষাক্রমে শুধু ইতিহাস নয়, শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক দক্ষতা ও আগ্রহ বাড়াতে আনন্দময় শিক্ষা, খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও কারিগরি শিক্ষার ওপর গুরুত্ব বাড়ানো হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ষষ্ঠ শ্রেণিতে নতুন আনন্দময় শিক্ষা বিষয় এবং চতুর্থ শ্রেণিতে ক্রীড়া ও সংস্কৃতি বিষয় সংযোজন করা হচ্ছে। কর্ম ও জীবনমুখী শিক্ষার বইয়েও কারিগরি শিক্ষার দিকগুলো নতুনভাবে তুলে ধরা হচ্ছে।

এনসিটিবির কর্মকর্তারা জানান, নিম্ন মাধ্যমিক স্তরের (৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণি) বইগুলোতে বিষয়গুলো সংক্ষেপে রাখা হলেও নবম শ্রেণির বইয়ে তুলনামূলকভাবে বিস্তারিত আলোচনা থাকবে। চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে এসব পরিবর্তন বিভিন্ন পর্যায়ে যাচাই-বাছাই করা হবে।

এনসিটিবির চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্বে) মো. মাহবুবুল হক পাটওয়ারী বলেন, পাঠ্যবই নিয়মিতই পরিমার্জন করা হয়। এবার রাজনৈতিক পরিবর্তন ও সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিকে বিবেচনায় নিয়ে পুনর্গঠনের কাজ চলছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগিতায় দেশজুড়ে শতাধিক শিক্ষক ও বিশেষজ্ঞ এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত রয়েছেন।

এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নতুন শিক্ষাক্রম থেকে সরে গিয়ে ২০১২ সালের কাঠামোর আলোকে পাঠ্যবই পরিমার্জনের কাজ শুরু হয়। একই সঙ্গে বিভিন্ন শ্রেণির বইয়ে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাসহ সমসাময়িক বিষয় সংযোজন করা হয়েছে।

সরকার প্রতিবছর প্রাক-প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত বিনামূল্যে পাঠ্যবই সরবরাহ করে থাকে। আগামী বছর প্রায় চার কোটি শিক্ষার্থীর জন্য প্রায় ৩০ কোটি বই ছাপানোর পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

এনসিটিবি আশা করছে, সব বই আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে ছাপিয়ে মাঠপর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছে খালেদা জিয়ার অবদান

সর্বশেষ আপডেট ১০:২৮:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

শিক্ষাব্যবস্থার পাঠ্যসূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে সরকার। আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য মাধ্যমিক স্তরের ইতিহাস ও সংশ্লিষ্ট কিছু পাঠ্যবইয়ে নতুন বিষয় সংযোজন ও পরিমার্জনের অংশ হিসেবে নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকা অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা বইয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় নতুনভাবে যুক্ত করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে মহান মুক্তিযুদ্ধের সেক্টরভিত্তিক বিস্তারিত আলোচনা, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনা, পাশাপাশি নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে নতুন ব্যাখ্যা ও সংযোজন।

এছাড়া শিক্ষাক্রমে শুধু ইতিহাস নয়, শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক দক্ষতা ও আগ্রহ বাড়াতে আনন্দময় শিক্ষা, খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও কারিগরি শিক্ষার ওপর গুরুত্ব বাড়ানো হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ষষ্ঠ শ্রেণিতে নতুন আনন্দময় শিক্ষা বিষয় এবং চতুর্থ শ্রেণিতে ক্রীড়া ও সংস্কৃতি বিষয় সংযোজন করা হচ্ছে। কর্ম ও জীবনমুখী শিক্ষার বইয়েও কারিগরি শিক্ষার দিকগুলো নতুনভাবে তুলে ধরা হচ্ছে।

এনসিটিবির কর্মকর্তারা জানান, নিম্ন মাধ্যমিক স্তরের (৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণি) বইগুলোতে বিষয়গুলো সংক্ষেপে রাখা হলেও নবম শ্রেণির বইয়ে তুলনামূলকভাবে বিস্তারিত আলোচনা থাকবে। চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে এসব পরিবর্তন বিভিন্ন পর্যায়ে যাচাই-বাছাই করা হবে।

এনসিটিবির চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্বে) মো. মাহবুবুল হক পাটওয়ারী বলেন, পাঠ্যবই নিয়মিতই পরিমার্জন করা হয়। এবার রাজনৈতিক পরিবর্তন ও সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিকে বিবেচনায় নিয়ে পুনর্গঠনের কাজ চলছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগিতায় দেশজুড়ে শতাধিক শিক্ষক ও বিশেষজ্ঞ এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত রয়েছেন।

এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নতুন শিক্ষাক্রম থেকে সরে গিয়ে ২০১২ সালের কাঠামোর আলোকে পাঠ্যবই পরিমার্জনের কাজ শুরু হয়। একই সঙ্গে বিভিন্ন শ্রেণির বইয়ে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাসহ সমসাময়িক বিষয় সংযোজন করা হয়েছে।

সরকার প্রতিবছর প্রাক-প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত বিনামূল্যে পাঠ্যবই সরবরাহ করে থাকে। আগামী বছর প্রায় চার কোটি শিক্ষার্থীর জন্য প্রায় ৩০ কোটি বই ছাপানোর পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

এনসিটিবি আশা করছে, সব বই আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে ছাপিয়ে মাঠপর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।