ঢাকা ০৮:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এক বছরে এক বিসিএস: নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বড় রদবদলের পথে পিএসসি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৩:৫৪:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
  • / 100

পিএসসি

বিসিএস নিয়োগের দীর্ঘসূত্রতা ও অনিশ্চয়তা কমাতে নতুন কাঠামো নিয়ে এগোচ্ছে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। ‘ওয়ান বিসিএস, ওয়ান ইয়ার’ লক্ষ্য সামনে রেখে স্বচ্ছতা ও গতি—দুই দিকেই জোর দিচ্ছে সংস্থাটি।

বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) পরীক্ষায় বছরের পর বছর ধরে জমে থাকা জট, ধীরগতির প্রক্রিয়া এবং ফল প্রকাশে বিলম্ব—এই পুরোনো সমস্যাগুলোকে সামনে রেখেই বড় ধরনের সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে পিএসসি। সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিশেষ প্রতিবেদন উপস্থাপনের মাধ্যমে নতুন এই পরিকল্পনার রূপরেখা তুলে ধরা হয়।

২০২৪ সালের অক্টোবরে দায়িত্ব নেওয়া বর্তমান কমিশন তাদের প্রথম দিকের কাজ হিসেবেই নিয়োগ ব্যবস্থাকে পুনর্গঠনের দিকে নজর দিয়েছে। প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে—পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়ানো এবং সময় কমানোই এখন প্রধান অগ্রাধিকার।

সবচেয়ে আলোচিত প্রস্তাবটি হলো ‘ওয়ান বিসিএস, ওয়ান ইয়ার’। অর্থাৎ, একটি বিসিএস বিজ্ঞপ্তি থেকে চূড়ান্ত ফল—সবকিছু এক বছরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি বাস্তবায়ন করা গেলে নিয়োগ প্রক্রিয়ার দীর্ঘ অপেক্ষা অনেকটাই কমতে পারে—এমনটাই ধারণা করা হচ্ছে।

পরীক্ষা পদ্ধতিতেও পরিবর্তনের আভাস মিলেছে। মৌখিক পরীক্ষার নম্বর ১০০ কমিয়ে লিখিত পরীক্ষার ওপর গুরুত্ব বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা মেধা যাচাইয়ের পদ্ধতিতে একটি সূক্ষ্ম কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন নির্দেশ করে।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো বিতর্কিত ঘটনা ঠেকাতে পিএসসি নিজস্ব প্রেস স্থাপন এবং ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালুর কথাও জানিয়েছে। একই সঙ্গে পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়াকে ধাপে ধাপে অটোমেশনের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। আগে যেখানে খাতা মূল্যায়নে ছয় মাস পর্যন্ত সময় লেগে যেত, সেখানে এখন কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তা শেষ করার লক্ষ্য ধরা হয়েছে—যদিও এই সময়সীমা কতটা বাস্তবসম্মত, তা দেখার বিষয়।

পরীক্ষার্থীদের খরচের বিষয়টিও বিবেচনায় আনা হয়েছে। আবেদন ফি ৭০০ টাকা থেকে কমিয়ে ২০০ টাকায় নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা অনেক প্রার্থীর জন্য স্বস্তির কারণ হতে পারে।

পিএসসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোবাশ্বের মোনেম স্বীকার করেন, একসময় প্রতিষ্ঠানটি কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছিল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পুরোনো সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে একটি আধুনিক ও জনমুখী প্রতিষ্ঠান হিসেবে পিএসসিকে গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে। এতে যোগ্য প্রার্থীদের অপেক্ষার সময় কমবে—এমন প্রত্যাশা তিনি ব্যক্ত করেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এই সংস্কার শুধু বিসিএসের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। নন-ক্যাডারসহ অন্যান্য নিয়োগ পরীক্ষাতেও একই ধরনের গতি ও স্বচ্ছতা আনার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর মূল্যায়ন ও দ্রুত ফল প্রকাশের মাধ্যমে দীর্ঘ প্রতীক্ষার সংস্কৃতি ভাঙার ইঙ্গিত মিলছে।

দুর্নীতি প্রতিরোধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি, আইনি কাঠামো আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ চলছে—যাতে নিয়োগ প্রক্রিয়ার ফাঁকফোকরগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ করা যায়।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এক বছরে এক বিসিএস: নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বড় রদবদলের পথে পিএসসি

সর্বশেষ আপডেট ০৩:৫৪:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

বিসিএস নিয়োগের দীর্ঘসূত্রতা ও অনিশ্চয়তা কমাতে নতুন কাঠামো নিয়ে এগোচ্ছে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। ‘ওয়ান বিসিএস, ওয়ান ইয়ার’ লক্ষ্য সামনে রেখে স্বচ্ছতা ও গতি—দুই দিকেই জোর দিচ্ছে সংস্থাটি।

বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) পরীক্ষায় বছরের পর বছর ধরে জমে থাকা জট, ধীরগতির প্রক্রিয়া এবং ফল প্রকাশে বিলম্ব—এই পুরোনো সমস্যাগুলোকে সামনে রেখেই বড় ধরনের সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে পিএসসি। সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিশেষ প্রতিবেদন উপস্থাপনের মাধ্যমে নতুন এই পরিকল্পনার রূপরেখা তুলে ধরা হয়।

২০২৪ সালের অক্টোবরে দায়িত্ব নেওয়া বর্তমান কমিশন তাদের প্রথম দিকের কাজ হিসেবেই নিয়োগ ব্যবস্থাকে পুনর্গঠনের দিকে নজর দিয়েছে। প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে—পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়ানো এবং সময় কমানোই এখন প্রধান অগ্রাধিকার।

সবচেয়ে আলোচিত প্রস্তাবটি হলো ‘ওয়ান বিসিএস, ওয়ান ইয়ার’। অর্থাৎ, একটি বিসিএস বিজ্ঞপ্তি থেকে চূড়ান্ত ফল—সবকিছু এক বছরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি বাস্তবায়ন করা গেলে নিয়োগ প্রক্রিয়ার দীর্ঘ অপেক্ষা অনেকটাই কমতে পারে—এমনটাই ধারণা করা হচ্ছে।

পরীক্ষা পদ্ধতিতেও পরিবর্তনের আভাস মিলেছে। মৌখিক পরীক্ষার নম্বর ১০০ কমিয়ে লিখিত পরীক্ষার ওপর গুরুত্ব বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা মেধা যাচাইয়ের পদ্ধতিতে একটি সূক্ষ্ম কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন নির্দেশ করে।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো বিতর্কিত ঘটনা ঠেকাতে পিএসসি নিজস্ব প্রেস স্থাপন এবং ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালুর কথাও জানিয়েছে। একই সঙ্গে পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়াকে ধাপে ধাপে অটোমেশনের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। আগে যেখানে খাতা মূল্যায়নে ছয় মাস পর্যন্ত সময় লেগে যেত, সেখানে এখন কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তা শেষ করার লক্ষ্য ধরা হয়েছে—যদিও এই সময়সীমা কতটা বাস্তবসম্মত, তা দেখার বিষয়।

পরীক্ষার্থীদের খরচের বিষয়টিও বিবেচনায় আনা হয়েছে। আবেদন ফি ৭০০ টাকা থেকে কমিয়ে ২০০ টাকায় নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা অনেক প্রার্থীর জন্য স্বস্তির কারণ হতে পারে।

পিএসসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোবাশ্বের মোনেম স্বীকার করেন, একসময় প্রতিষ্ঠানটি কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছিল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পুরোনো সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে একটি আধুনিক ও জনমুখী প্রতিষ্ঠান হিসেবে পিএসসিকে গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে। এতে যোগ্য প্রার্থীদের অপেক্ষার সময় কমবে—এমন প্রত্যাশা তিনি ব্যক্ত করেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এই সংস্কার শুধু বিসিএসের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। নন-ক্যাডারসহ অন্যান্য নিয়োগ পরীক্ষাতেও একই ধরনের গতি ও স্বচ্ছতা আনার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর মূল্যায়ন ও দ্রুত ফল প্রকাশের মাধ্যমে দীর্ঘ প্রতীক্ষার সংস্কৃতি ভাঙার ইঙ্গিত মিলছে।

দুর্নীতি প্রতিরোধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি, আইনি কাঠামো আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ চলছে—যাতে নিয়োগ প্রক্রিয়ার ফাঁকফোকরগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ করা যায়।