ঢাকা ০১:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিরঙ্কুশ জয় পেল বিএনপি

কে এম জাহেদ, নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ১১:৩৬:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 192

দুই-তৃতীয়াংশের কাছাকাছি আসনে জয় পেয়ে এককভাবে সরকার গঠনের অবস্থান নিশ্চিত করেছে দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি। এর ফলে দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানই হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী।

অন্যদিকে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের আসনে বসতে যাচ্ছে। আজ শুক্রবার সকাল পর্যন্ত কেন্দ্রগুলো থেকে প্রাপ্ত বেসরকারি ফলাফলে এ চিত্র উঠে এসেছে।

ঘোষিত ফল অনুযায়ী, বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ২১০টি আসনে জয়লাভ করেছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীরা ৭২টি আসনে জয়ী হয়েছেন। এছাড়াও অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সাতটি আসনে জয় পেয়েছেন।

জাতীয় সংসদের ৩শ আসনের মধ্যে ১৫১টি আসন পেলেই সরকার গঠন করা যায়। এই হিসাবেই দুই-তৃতীয়াংশ আসন নিয়ে সগৌরবেই এবারও দলটি সংসদে যাচ্ছে।

সর্বশেষ ২০০১ সালের নির্বাচনে জয় পেয়ে সরকার গঠন করেছিল বিএনপি। সে সময়ও একক সংখ্যাগরিষ্টতা পেলেও চার দলীয় জোটের নেতৃত্বে সরকার গঠন করা হয়েছিল। ওই নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক জয় পেয়েছিল ১৯৫টি আসনে।

ইসির যুগ্ম সচিব মো. মঈন উদ্দিন খান জানান, খুব দ্রুতই নির্বাচনী ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করা হবে। কেননা, যত দ্রুত গেজেট প্রকাশ করা হবে, তত দ্রুত নির্বাচিতদের সংসদ সদস্য শপথ হবে এবং সংসদ বসবে।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ভোটে ২শ ৯৯টি আসনে নির্বাচন হয়েছে। শেরপুর-৩ আসনে একজন বৈধ প্রার্থী শেষ দিকে মৃত্যুবরণ করায় সেই আসনের ভোট স্থগিত রেখেছে ইসি। এই আসনের এখন নতুন তফসিল দিয়ে ভোট করতে হবে।

ইসি ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসন থেকে জয়লাভ করেছেন। এ ছাড়াও বিএনপির শীর্ষ নেতারা সবাইকে জয়লাভ করেছেন বিভিন্ন আসনে। জামায়াত আমির নির্বাচিত হয়েছেন ঢাকা-১৫ আসন থেকে। এনসিপির প্রধান নাহিদ ইসলাম জয় পেয়েছেন ঢাকা-১১ আসনে।

২৯৯ আসনের ভোটে ৬০টি নিবন্ধিত দলের মধ্যে ৫০টি দল অংশ নেয়। দলের প্রার্থী এক হাজার ৭৫৫ জন। স্বতন্ত্র ২৭৩ জন। নারী প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা ৮৩ জন। এর মধ্যে দলীয় প্রার্থীর সংখ্যা ৬৩ জন। বাকি ২০ জন হচ্ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী। ভোটের পুরুষ প্রার্থীর সংখ্যা এক হাজার ৯৪৬ জন। এর মধ্যে এক হাজার ৬৯২ জন দলীয় প্রার্থী। পুরুষদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৫৩ জন।

নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি। ২৯০ জন প্রতিদ্বন্দ্বী রয়েছেন এই দলের। জামায়াতে রয়েছেন ২২৭ জন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ২৫৭ জন, জাতীয় পার্টির (জাপা) ২শ জন, এনসিপির ৩২ জন, গণঅধিকার পরিষদের ৯৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী রয়েছেন।

নির্বাচনে দেশে মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে নারী ছয় কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২শ, পুরুষ ছয় কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ এবং তৃতীয় লিঙ্গের এক হাজার ২৩২ জন।

এবারের নির্বাচনে ৬০ দশমিক ৬৯ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে নিশ্চিত করেছে নির্বাচন কমিশন। পোস্টাল ব্যালটে ভোট পড়েছে ৮০ দশমিক ১১ শতাংশ। এর মধ্যে ১০ শতাংশ ভোট বাতিলও হয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

নিরঙ্কুশ জয় পেল বিএনপি

সর্বশেষ আপডেট ১১:৩৬:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দুই-তৃতীয়াংশের কাছাকাছি আসনে জয় পেয়ে এককভাবে সরকার গঠনের অবস্থান নিশ্চিত করেছে দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি। এর ফলে দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানই হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী।

অন্যদিকে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের আসনে বসতে যাচ্ছে। আজ শুক্রবার সকাল পর্যন্ত কেন্দ্রগুলো থেকে প্রাপ্ত বেসরকারি ফলাফলে এ চিত্র উঠে এসেছে।

ঘোষিত ফল অনুযায়ী, বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ২১০টি আসনে জয়লাভ করেছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীরা ৭২টি আসনে জয়ী হয়েছেন। এছাড়াও অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সাতটি আসনে জয় পেয়েছেন।

জাতীয় সংসদের ৩শ আসনের মধ্যে ১৫১টি আসন পেলেই সরকার গঠন করা যায়। এই হিসাবেই দুই-তৃতীয়াংশ আসন নিয়ে সগৌরবেই এবারও দলটি সংসদে যাচ্ছে।

সর্বশেষ ২০০১ সালের নির্বাচনে জয় পেয়ে সরকার গঠন করেছিল বিএনপি। সে সময়ও একক সংখ্যাগরিষ্টতা পেলেও চার দলীয় জোটের নেতৃত্বে সরকার গঠন করা হয়েছিল। ওই নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক জয় পেয়েছিল ১৯৫টি আসনে।

ইসির যুগ্ম সচিব মো. মঈন উদ্দিন খান জানান, খুব দ্রুতই নির্বাচনী ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করা হবে। কেননা, যত দ্রুত গেজেট প্রকাশ করা হবে, তত দ্রুত নির্বাচিতদের সংসদ সদস্য শপথ হবে এবং সংসদ বসবে।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ভোটে ২শ ৯৯টি আসনে নির্বাচন হয়েছে। শেরপুর-৩ আসনে একজন বৈধ প্রার্থী শেষ দিকে মৃত্যুবরণ করায় সেই আসনের ভোট স্থগিত রেখেছে ইসি। এই আসনের এখন নতুন তফসিল দিয়ে ভোট করতে হবে।

ইসি ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসন থেকে জয়লাভ করেছেন। এ ছাড়াও বিএনপির শীর্ষ নেতারা সবাইকে জয়লাভ করেছেন বিভিন্ন আসনে। জামায়াত আমির নির্বাচিত হয়েছেন ঢাকা-১৫ আসন থেকে। এনসিপির প্রধান নাহিদ ইসলাম জয় পেয়েছেন ঢাকা-১১ আসনে।

২৯৯ আসনের ভোটে ৬০টি নিবন্ধিত দলের মধ্যে ৫০টি দল অংশ নেয়। দলের প্রার্থী এক হাজার ৭৫৫ জন। স্বতন্ত্র ২৭৩ জন। নারী প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা ৮৩ জন। এর মধ্যে দলীয় প্রার্থীর সংখ্যা ৬৩ জন। বাকি ২০ জন হচ্ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী। ভোটের পুরুষ প্রার্থীর সংখ্যা এক হাজার ৯৪৬ জন। এর মধ্যে এক হাজার ৬৯২ জন দলীয় প্রার্থী। পুরুষদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৫৩ জন।

নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি। ২৯০ জন প্রতিদ্বন্দ্বী রয়েছেন এই দলের। জামায়াতে রয়েছেন ২২৭ জন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ২৫৭ জন, জাতীয় পার্টির (জাপা) ২শ জন, এনসিপির ৩২ জন, গণঅধিকার পরিষদের ৯৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী রয়েছেন।

নির্বাচনে দেশে মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে নারী ছয় কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২শ, পুরুষ ছয় কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ এবং তৃতীয় লিঙ্গের এক হাজার ২৩২ জন।

এবারের নির্বাচনে ৬০ দশমিক ৬৯ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে নিশ্চিত করেছে নির্বাচন কমিশন। পোস্টাল ব্যালটে ভোট পড়েছে ৮০ দশমিক ১১ শতাংশ। এর মধ্যে ১০ শতাংশ ভোট বাতিলও হয়েছে।