ঢাকা ১১:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এয়ার অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে অনিশ্চয়তা

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০২:৩৫:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / 141

এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স নিয়ে অনিশ্চয়তা

লন্ডনে চিকিৎসার উদ্দেশে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে নিতে কাতার থেকে পাঠানোর কথা থাকা বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্স  পৌঁছানোর সম্ভাবনা কমে গেছে। জানা গেছে, কাতার সরকারের সমন্বয়ে যাত্রার ব্যবস্থা শেষ হলেও বিমানটি শেষ পর্যন্ত অন্য কোনো দেশ থেকে পাঠানো হতে পারে।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত কোনো ফ্লাইট সিডিউল, ল্যান্ডিং রিকোয়েস্ট বা পূর্ব নোটিফিকেশন—যা মেডিক্যাল ইভাকুয়েশন ফ্লাইটের জন্য বাধ্যতামূলক—তা জমা পড়েনি।

তিনি বলেন, “এখন পর্যন্ত কোনো এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ল্যান্ডিং সিডিউলের ব্যাপারে আবেদন করা হয়নি।” ফলে বেবিচক কিংবা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (এইচএসআইএ) কোনো প্রস্তুতিও নেওয়া হয়নি।

তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রোটোকল উইং কাতার সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে এবং চিকিৎসা যাত্রার সমন্বয় করছে। তবে বিমানটি কাতার নয়, অন্য কোনো দেশ থেকেও আসতে পারে বলে জানা গেছে।

বিমান চলাচল সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, অপারেটর পক্ষ থেকে জরুরি ভিত্তিতে ফ্লাইট প্ল্যান জমা না দিলে আজকের মধ্যে এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স আসার সম্ভাবনা ক্ষীণ।

শুক্রবার সকালে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, কাতারের আমির কর্তৃক প্রদত্ত বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি  এখনো ঢাকায় পৌঁছায়নি। কারিগরি সমস্যার কারণে এর আগমন বিলম্বিত হয়েছে।

তিনি বলেন, “সব ঠিক থাকলে শনিবার বিমানটি আসতে পারে। ম্যাডাম যদি যাত্রার উপযুক্ত হন এবং মেডিকেল বোর্ড অনুমতি দেয়, তাহলে ইনশাআল্লাহ রোববার (৭ ডিসেম্বর) তিনি উড়াল দেবেন।”

খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থাকে ঘিরে উদ্বেগের মধ্যে শুক্রবার সকালে ঢাকায় পৌঁছান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান। তিনি সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে বিমানের একটি ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।

এদিকে, বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাতার দূতাবাসে ‘নোট ভার্বাল’ পাঠিয়ে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা যাত্রায় সহযোগিতা চায়। কাতার দূতাবাস জবাবে জানায়, খালেদা জিয়া চিকিৎসাযোগ্য অবস্থায় আসলেই এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স পাঠাতে তারা প্রস্তুত।

বিএনপিও আলাদা এক চিঠিতে কাতার দূতাবাসের কাছে চিকিৎসায় সহায়তা চেয়েছে। কাতার জানায়, তাদের প্রস্তুতি সম্পন্ন, এখন শুধু খালেদা জিয়ার চিকিৎসকদের ‘মেডিক্যাল ক্লিয়ারেন্স’-এর অপেক্ষা।

এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সটি এলে এটি হবে খালেদা জিয়ার দ্বিতীয় চিকিৎসা যাত্রা একই কাতারি রয়্যাল এয়ার অ্যাম্বুলেন্স। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় বিষয়টি ঘিরে কূটনৈতিক যোগাযোগ ও রাজনৈতিক নজর বেড়েছে।

সূত্র: এভিয়েশন এক্সপ্রেস

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এয়ার অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে অনিশ্চয়তা

সর্বশেষ আপডেট ০২:৩৫:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২৫

লন্ডনে চিকিৎসার উদ্দেশে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে নিতে কাতার থেকে পাঠানোর কথা থাকা বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্স  পৌঁছানোর সম্ভাবনা কমে গেছে। জানা গেছে, কাতার সরকারের সমন্বয়ে যাত্রার ব্যবস্থা শেষ হলেও বিমানটি শেষ পর্যন্ত অন্য কোনো দেশ থেকে পাঠানো হতে পারে।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত কোনো ফ্লাইট সিডিউল, ল্যান্ডিং রিকোয়েস্ট বা পূর্ব নোটিফিকেশন—যা মেডিক্যাল ইভাকুয়েশন ফ্লাইটের জন্য বাধ্যতামূলক—তা জমা পড়েনি।

তিনি বলেন, “এখন পর্যন্ত কোনো এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ল্যান্ডিং সিডিউলের ব্যাপারে আবেদন করা হয়নি।” ফলে বেবিচক কিংবা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (এইচএসআইএ) কোনো প্রস্তুতিও নেওয়া হয়নি।

তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রোটোকল উইং কাতার সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে এবং চিকিৎসা যাত্রার সমন্বয় করছে। তবে বিমানটি কাতার নয়, অন্য কোনো দেশ থেকেও আসতে পারে বলে জানা গেছে।

বিমান চলাচল সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, অপারেটর পক্ষ থেকে জরুরি ভিত্তিতে ফ্লাইট প্ল্যান জমা না দিলে আজকের মধ্যে এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স আসার সম্ভাবনা ক্ষীণ।

শুক্রবার সকালে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, কাতারের আমির কর্তৃক প্রদত্ত বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি  এখনো ঢাকায় পৌঁছায়নি। কারিগরি সমস্যার কারণে এর আগমন বিলম্বিত হয়েছে।

তিনি বলেন, “সব ঠিক থাকলে শনিবার বিমানটি আসতে পারে। ম্যাডাম যদি যাত্রার উপযুক্ত হন এবং মেডিকেল বোর্ড অনুমতি দেয়, তাহলে ইনশাআল্লাহ রোববার (৭ ডিসেম্বর) তিনি উড়াল দেবেন।”

খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থাকে ঘিরে উদ্বেগের মধ্যে শুক্রবার সকালে ঢাকায় পৌঁছান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান। তিনি সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে বিমানের একটি ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।

এদিকে, বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাতার দূতাবাসে ‘নোট ভার্বাল’ পাঠিয়ে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা যাত্রায় সহযোগিতা চায়। কাতার দূতাবাস জবাবে জানায়, খালেদা জিয়া চিকিৎসাযোগ্য অবস্থায় আসলেই এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স পাঠাতে তারা প্রস্তুত।

বিএনপিও আলাদা এক চিঠিতে কাতার দূতাবাসের কাছে চিকিৎসায় সহায়তা চেয়েছে। কাতার জানায়, তাদের প্রস্তুতি সম্পন্ন, এখন শুধু খালেদা জিয়ার চিকিৎসকদের ‘মেডিক্যাল ক্লিয়ারেন্স’-এর অপেক্ষা।

এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সটি এলে এটি হবে খালেদা জিয়ার দ্বিতীয় চিকিৎসা যাত্রা একই কাতারি রয়্যাল এয়ার অ্যাম্বুলেন্স। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় বিষয়টি ঘিরে কূটনৈতিক যোগাযোগ ও রাজনৈতিক নজর বেড়েছে।

সূত্র: এভিয়েশন এক্সপ্রেস