শিশু হাসপাতালে সিট না পেয়ে মায়ের কোলে শিশুদের হাহাকার
- সর্বশেষ আপডেট ১২:৩২:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬
- / 42
দেশে আশঙ্কাজনকভাবে হামের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে। রাজধানী ঢাকা শিশু হাসপাতালে প্রতি ঘণ্টায় গড়ে ১৩ জন শিশু রোগী হামের উপসর্গ নিয়ে আসছে। তবে সিট সংকটের কারণে অনেক মুমূর্ষু শিশুকে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ফলে উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে হাহাকার করছেন।
রাত তখন ১২টা ২২ মিনিট। যশোর থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে এক বছরের শিশু আয়মান সাদিককে নিয়ে আসা হয় শিশু হাসপাতালে। শিশুটি নিশ্বাসের সঙ্গে লড়াই করছিল। আসলে তার অবস্থা ছিল অত্যন্ত সংকটাপন্ন। কিন্তু মাত্র ৩৩ মিনিটের মাথায় তাকে হাসপাতাল থেকে বের করে নিয়ে যেতে হয়। কারণ হাসপাতালে কোনো সিট খালি নেই।
হাসপাতালের গেটে দায়িত্বরত আনসার সদস্যরা জানান, রাত ১০টার পর থেকেই জ্বর ও হাম নিয়ে অসংখ্য শিশু আসছে। মূলত সিট না থাকায় অনেক অভিভাবক কাঁদতে কাঁদতে অন্য হাসপাতালের দিকে ছুটে যাচ্ছেন। যাত্রাবাড়ী থেকে আসা দুই বছরের রায়হানের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছে। ২৮ মিনিট অপেক্ষা করেও সিট না পেয়ে তার মা-বাবা সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে হাম পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে আরও একজন। গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১৪৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তাছাড়া দেশে বর্তমানে হাম শনাক্ত হওয়া শিশুর সংখ্যা ২ হাজার ২৪১ জনে দাঁড়িয়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে হামে মৃত্যুর হার আগে ছিল ১০ লাখে ১ শতাংশ। বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ দশমিক ৮ শতাংশে। সংক্রমণের মূল কারণ হিসেবে শিশুদের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতার অভাবকে দায়ী করা হচ্ছে। বিশেষ করে গত দুই বছরে যারা হামের টিকা পায়নি, তারাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ ও স্বাস্থ্য পরামর্শ
এক থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের জন্য হাম বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। কারণ এই বয়সে শিশুরা গুরুতর জটিলতার ঝুঁকিতে থাকে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক সাইফ উল্লাহ মুন্সী জানান, হামের ভাইরাস হাঁচি ও কাশির মাধ্যমে বাতাসে ছড়ায়। ফলে গণপরিবহন বা আবদ্ধ স্থানে দ্রুত সংক্রমণ ঘটে। তবে টিকা নেওয়া মায়েরা তাদের সন্তানদের মধ্যে কিছুটা প্রতিরোধ ক্ষমতা স্থানান্তর করতে পারেন।
অধ্যাপক মুহাম্মদ তাওফিক জানান, হামের প্রধান লক্ষণ হলো জ্বর, সর্দি এবং শরীরে র্যাশ ওঠা। সাধারণত জ্বর ১০১-১০২ ডিগ্রি পর্যন্ত হতে পারে। এরপর কানের পাশ থেকে র্যাশ শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে। র্যাশ ওঠার আগে মুখের ভেতরে ছোট সাদা দাগও দেখা দিতে পারে। তাই কোনো সন্দেহজনক লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
দেশের এই সংকটের জন্য টিকার অভাবকে দায়ী করছেন অনেকে। আসলে বিগত সরকারের সময় টিকা ক্রয়ে গাফিলতি ছিল বলে বর্তমান সরকার দাবি করছে। বর্তমানে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে থেকে আসা শিশুদের চাপে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতালগুলো। তদুপরি সিট ফাঁকা না থাকায় জরুরি বিভাগের ডাক্তাররা রোগীদের ডিএনসিসি বা অন্য হাসপাতালে রেফার করছেন। অবশেষে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত গণটিকাদান কর্মসূচি জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।





































