ঢাকা ০৬:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লেবাননে হামলা বন্ধ না হলে যুদ্ধ বিরতি আলোচনা বয়কটের ডাক ইরানের

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৩:০৯:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬
  • / 32

যুদ্ধ বন্ধে যেকোনো আলোচনার আগে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে কার্যকর যুদ্ধবিরতির নিশ্চয়তা চাইছে ইরান। তেহরানের ভাষ্য, এ শর্ত পূরণ না হলে আলোচনায় বসার প্রশ্নই ওঠে না।

বৃহস্পতিবার এক ব্রিফিংয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি লেবাননে ইসরায়েলি হামলার তীব্র নিন্দা জানান।

নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন তিনি। একই সঙ্গে লেবাননের জনগণের প্রতিরোধকে ‘অসাধারণ’ আখ্যা দিয়ে ইরানিদের প্রতি তাদের সংহতির কথাও তুলে ধরেন।

যুদ্ধবিরতি প্রসঙ্গে বাকায়ি বলেন, পাকিস্তানের প্রস্তাবিত সমঝোতার অংশ হিসেবেই লেবাননে সংঘাত থামানো জরুরি। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র সব ফ্রন্টে যুদ্ধ থামাতে সম্মত হয়েছে—এ প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ হলে তা সরাসরি অঙ্গীকার না রাখার শামিল হবে।

সম্ভাব্য আলোচনা নিয়ে প্রশ্নে তিনি জানান, পাকিস্তান উভয় পক্ষকে ইসলামাবাদে আমন্ত্রণ জানিয়েছে।

বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা দরকার। প্রতিনিধি দল নিয়েও এখনো আনুষ্ঠানিক কিছু জানানো হয়নি।

এর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ সাইয়্যেদ আলি খামেনিসহ শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের হত্যাকাণ্ডের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালায় তেহরান। পাল্টা হামলায় ইরান উল্লেখযোগ্য সক্ষমতা দেখিয়েছে বলে দেশটির দাবি।

পরবর্তী সময়ে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এ সময়ের মধ্যে সমাধানের পথ খোঁজার কথা রয়েছে ইসলামাবাদে।

আলোচনার ভিত্তি হিসেবে ইরান একটি ১০ দফা প্রস্তাব দিয়েছে, যেখানে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণের বিষয়গুলো রয়েছে।

৮ এপ্রিল ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল জানায়, সাম্প্রতিক সংঘাত দেশটির জন্য ‘ঐতিহাসিক সাফল্য’ এনে দিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে আলোচনায় বসতে বাধ্য করেছে।

তবে তেহরানের অবস্থান স্পষ্ট—এই আলোচনা যুদ্ধের সমাপ্তি নয়, বরং কূটনৈতিক পরিসরে তারই ধারাবাহিকতা।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

লেবাননে হামলা বন্ধ না হলে যুদ্ধ বিরতি আলোচনা বয়কটের ডাক ইরানের

সর্বশেষ আপডেট ০৩:০৯:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬

যুদ্ধ বন্ধে যেকোনো আলোচনার আগে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে কার্যকর যুদ্ধবিরতির নিশ্চয়তা চাইছে ইরান। তেহরানের ভাষ্য, এ শর্ত পূরণ না হলে আলোচনায় বসার প্রশ্নই ওঠে না।

বৃহস্পতিবার এক ব্রিফিংয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি লেবাননে ইসরায়েলি হামলার তীব্র নিন্দা জানান।

নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন তিনি। একই সঙ্গে লেবাননের জনগণের প্রতিরোধকে ‘অসাধারণ’ আখ্যা দিয়ে ইরানিদের প্রতি তাদের সংহতির কথাও তুলে ধরেন।

যুদ্ধবিরতি প্রসঙ্গে বাকায়ি বলেন, পাকিস্তানের প্রস্তাবিত সমঝোতার অংশ হিসেবেই লেবাননে সংঘাত থামানো জরুরি। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র সব ফ্রন্টে যুদ্ধ থামাতে সম্মত হয়েছে—এ প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ হলে তা সরাসরি অঙ্গীকার না রাখার শামিল হবে।

সম্ভাব্য আলোচনা নিয়ে প্রশ্নে তিনি জানান, পাকিস্তান উভয় পক্ষকে ইসলামাবাদে আমন্ত্রণ জানিয়েছে।

বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা দরকার। প্রতিনিধি দল নিয়েও এখনো আনুষ্ঠানিক কিছু জানানো হয়নি।

এর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ সাইয়্যেদ আলি খামেনিসহ শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের হত্যাকাণ্ডের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালায় তেহরান। পাল্টা হামলায় ইরান উল্লেখযোগ্য সক্ষমতা দেখিয়েছে বলে দেশটির দাবি।

পরবর্তী সময়ে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এ সময়ের মধ্যে সমাধানের পথ খোঁজার কথা রয়েছে ইসলামাবাদে।

আলোচনার ভিত্তি হিসেবে ইরান একটি ১০ দফা প্রস্তাব দিয়েছে, যেখানে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণের বিষয়গুলো রয়েছে।

৮ এপ্রিল ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল জানায়, সাম্প্রতিক সংঘাত দেশটির জন্য ‘ঐতিহাসিক সাফল্য’ এনে দিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে আলোচনায় বসতে বাধ্য করেছে।

তবে তেহরানের অবস্থান স্পষ্ট—এই আলোচনা যুদ্ধের সমাপ্তি নয়, বরং কূটনৈতিক পরিসরে তারই ধারাবাহিকতা।