ঢাকা ১০:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
দাবি বাণিজ্যমন্ত্রীর

যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নিয়ে উদ্বেগের কারণ নেই

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৫:১৯:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
  • / 56

বাণিজ্যমন্ত্রী

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে পণ্য ও সেবা রপ্তানি থেকে মোট ৬৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। গত অর্থবছরের তুলনায় ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে এই লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে শুল্ক আরোপ নিয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই বলেও মনে করেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

রোববার (২৬ জুলাই) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ-সংক্রান্ত সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে পণ্য রপ্তানি থেকে ৫৫ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার এবং সেবা খাত থেকে ৮ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার আয় করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পণ্য ও সেবা মিলিয়ে ৬৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার রপ্তানির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে পণ্য রপ্তানির লক্ষ্য ছিল ৫৫ বিলিয়ন এবং সেবা রপ্তানির লক্ষ্য ছিল ৮ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। তবে অর্থবছর শেষে মোট রপ্তানি আয় দাঁড়ায় ৫৫ বিলিয়ন ডলারে। এর মধ্যে পণ্য রপ্তানি থেকে আসে ৪৮ বিলিয়ন এবং সেবা খাত থেকে ৭ বিলিয়ন ডলার।

তিনি বলেন, গত কয়েক বছর ধরে রপ্তানি খাতে এক ধরনের স্থবিরতা বিরাজ করছে। তবে নতুন অর্থবছরে ব্যবসাবান্ধব নীতি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের মাধ্যমে এ পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠার আশা করছে সরকার।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, নতুন সরকারের বিভিন্ন ব্যবসাবান্ধব উদ্যোগ, ব্যবসা পরিচালনার প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং একাধিক দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) অগ্রগতির কারণে রপ্তানি খাতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হবে।

তিনি জানান, দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) সঙ্গে এফটিএও শিগগিরই সম্পন্ন হওয়ার আশা করা হচ্ছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে আরও চার থেকে পাঁচটি দেশের সঙ্গে এফটিএ আলোচনার কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের বৃহত্তম রপ্তানি বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা শুরুর প্রস্তুতিও চলছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান যুদ্ধ, উন্নত দেশগুলোতে ভোগ ও চাহিদা কমে যাওয়ার মতো প্রতিকূলতা থাকলেও সরকার রপ্তানিমুখী শিল্পকে উৎসাহিত করতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। ব্যবসা শুরু ও পরিচালনার প্রক্রিয়া আরও সহজ করা হচ্ছে, যার সুফল রপ্তানি খাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্ক প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের ওপর কার্যকর শুল্কের ক্ষেত্রে বাস্তবিক কোনো পরিবর্তন হয়নি। আগে ঘোষিত ৩৭ শতাংশ পারস্পরিক শুল্ক পরে ১৯ শতাংশে নামানো হলেও আদালতের রায়ের পর সেই সিদ্ধান্ত বাতিল হয়। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন আইনি কাঠামোর আওতায় বাংলাদেশসহ প্রায় ৬০টি দেশের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক বহাল রাখা হয়েছে।

তার ভাষ্য, নতুন এই ব্যবস্থায় বাংলাদেশের জন্য অতিরিক্ত কোনো শুল্ক আরোপ হয়নি। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রপ্তানির ওপর নতুন করে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা নেই।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

দাবি বাণিজ্যমন্ত্রীর

যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নিয়ে উদ্বেগের কারণ নেই

সর্বশেষ আপডেট ০৫:১৯:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে পণ্য ও সেবা রপ্তানি থেকে মোট ৬৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। গত অর্থবছরের তুলনায় ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে এই লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে শুল্ক আরোপ নিয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই বলেও মনে করেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

রোববার (২৬ জুলাই) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ-সংক্রান্ত সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে পণ্য রপ্তানি থেকে ৫৫ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার এবং সেবা খাত থেকে ৮ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার আয় করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পণ্য ও সেবা মিলিয়ে ৬৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার রপ্তানির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে পণ্য রপ্তানির লক্ষ্য ছিল ৫৫ বিলিয়ন এবং সেবা রপ্তানির লক্ষ্য ছিল ৮ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। তবে অর্থবছর শেষে মোট রপ্তানি আয় দাঁড়ায় ৫৫ বিলিয়ন ডলারে। এর মধ্যে পণ্য রপ্তানি থেকে আসে ৪৮ বিলিয়ন এবং সেবা খাত থেকে ৭ বিলিয়ন ডলার।

তিনি বলেন, গত কয়েক বছর ধরে রপ্তানি খাতে এক ধরনের স্থবিরতা বিরাজ করছে। তবে নতুন অর্থবছরে ব্যবসাবান্ধব নীতি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের মাধ্যমে এ পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠার আশা করছে সরকার।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, নতুন সরকারের বিভিন্ন ব্যবসাবান্ধব উদ্যোগ, ব্যবসা পরিচালনার প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং একাধিক দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) অগ্রগতির কারণে রপ্তানি খাতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হবে।

তিনি জানান, দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) সঙ্গে এফটিএও শিগগিরই সম্পন্ন হওয়ার আশা করা হচ্ছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে আরও চার থেকে পাঁচটি দেশের সঙ্গে এফটিএ আলোচনার কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের বৃহত্তম রপ্তানি বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা শুরুর প্রস্তুতিও চলছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান যুদ্ধ, উন্নত দেশগুলোতে ভোগ ও চাহিদা কমে যাওয়ার মতো প্রতিকূলতা থাকলেও সরকার রপ্তানিমুখী শিল্পকে উৎসাহিত করতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। ব্যবসা শুরু ও পরিচালনার প্রক্রিয়া আরও সহজ করা হচ্ছে, যার সুফল রপ্তানি খাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্ক প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের ওপর কার্যকর শুল্কের ক্ষেত্রে বাস্তবিক কোনো পরিবর্তন হয়নি। আগে ঘোষিত ৩৭ শতাংশ পারস্পরিক শুল্ক পরে ১৯ শতাংশে নামানো হলেও আদালতের রায়ের পর সেই সিদ্ধান্ত বাতিল হয়। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন আইনি কাঠামোর আওতায় বাংলাদেশসহ প্রায় ৬০টি দেশের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক বহাল রাখা হয়েছে।

তার ভাষ্য, নতুন এই ব্যবস্থায় বাংলাদেশের জন্য অতিরিক্ত কোনো শুল্ক আরোপ হয়নি। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রপ্তানির ওপর নতুন করে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা নেই।