ঢাকা ১১:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ডেন ডোমের নেতৃত্বে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১০:০০:২৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 143

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শরিফুল এম. খান। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে বহুল আলোচিত ‘গোল্ডেন ডোম’ (Golden Dome) ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা কর্মসূচির নেতৃত্ব পেয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এক মার্কিন কর্মকর্তা। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শরিফুল এম. খান– নামের ওই কর্মকর্ত সম্প্রতি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। এর পরই মূলত তাকে এই দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে মার্কিন বিমানবাহিনীর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।

 

পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও টিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, কৌশলগত এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা কর্মসূচির পরিচালক হিসেবে জেনারেল খান নীতি, কৌশল এবং প্রযুক্তি উন্নয়নের সবকিছু দেখাশোনা করবেন। এ প্রকল্প যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে আরও উন্নত করবে।

 

গত জুনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামরিক বাহিনীর বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে মেজর জেনারেল ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদে পদোন্নতির জন্য মনোনীত করেন। সেই তালিকায় ছিলেন শরিফুল এম. খানও।

 

পরবর্তীতে গত ২০ আগস্ট তার নতুন পদে অভিষেক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিশ্চিত করেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত এম. ওসমান সিদ্দিক।

 

১৯৯৭ সালে ইউএস এয়ার ফোর্স একাডেমি থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন শরিফুল এম. খান। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি মহাকাশ প্রযুক্তি, স্যাটেলাইট অপারেশন এবং জাতীয় গোয়েন্দা অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যে বিভিন্ন দায়িত্ব পালনকালে অর্জন করেছেন একাধিক সামরিক সম্মাননা।

 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৫ সালের মে মাসে এই প্রকল্পের ঘোষণা দেন। প্রায় ১৭৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে ২–৩ বছরের মধ্যে এটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। ইসরায়েলের তৈরি আয়রন ডোমের মডেল অনুসরণে গড়ে উঠলেও, যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রকল্পের পরিধি ও ব্যয় অনেক বড়।

 

প্রকল্পের অংশ হিসেবে Long Range Discrimination Radar (LRDR)-এর সফল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে আলাস্কায়। এই রাডার ভবিষ্যতে ‘গোল্ডেন ডোম’-এর প্রধান সেন্সর হিসেবে কাজ করবে। একই সঙ্গে, মহাকাশভিত্তিক সেন্সর, স্যাটেলাইট এবং বিদ্যমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা—যেমন Patriot, THAAD ও GMD—এর সঙ্গে সমন্বিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

 

প্রকল্পটি নিয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর কঠোর গোপনীয়তা বজায় রাখছে। টাইম ম্যাগাজিনের এক রিপোর্ট অনুযায়ী, এর বেশিরভাগ নকশা ও কৌশল গোপন রাখা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে ঘোষিত সময়ের তুলনায় বেশি সময় লাগতে পারে।

 

প্রাথমিকভাবে ২৫ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দেওয়া হলেও, পুরো প্রকল্পের ব্যয় ২০ বছরে ৫০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ নিয়ে মার্কিন কংগ্রেস ও প্রতিরক্ষা মহলে তীব্র বিতর্ক চলছে।

 

প্রতিরক্ষা দপ্তরের দাবি, ২০২৮ সালের মধ্যে প্রকল্পের পরীক্ষামূলক সক্ষমতা চালু হবে এবং ২০২৯ সালের মধ্যে পূর্ণ কার্যকারিতা অর্জন করবে। এতে যুক্ত হবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যা একযোগে ড্রোন, স্বল্প-পাল্লার রকেট এমনকি ভবিষ্যতের হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম হবে।

Tag :

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ডেন ডোমের নেতৃত্বে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত

সর্বশেষ আপডেট ১০:০০:২৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে বহুল আলোচিত ‘গোল্ডেন ডোম’ (Golden Dome) ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা কর্মসূচির নেতৃত্ব পেয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এক মার্কিন কর্মকর্তা। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শরিফুল এম. খান– নামের ওই কর্মকর্ত সম্প্রতি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। এর পরই মূলত তাকে এই দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে মার্কিন বিমানবাহিনীর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।

 

পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও টিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, কৌশলগত এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা কর্মসূচির পরিচালক হিসেবে জেনারেল খান নীতি, কৌশল এবং প্রযুক্তি উন্নয়নের সবকিছু দেখাশোনা করবেন। এ প্রকল্প যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে আরও উন্নত করবে।

 

গত জুনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামরিক বাহিনীর বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে মেজর জেনারেল ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদে পদোন্নতির জন্য মনোনীত করেন। সেই তালিকায় ছিলেন শরিফুল এম. খানও।

 

পরবর্তীতে গত ২০ আগস্ট তার নতুন পদে অভিষেক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিশ্চিত করেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত এম. ওসমান সিদ্দিক।

 

১৯৯৭ সালে ইউএস এয়ার ফোর্স একাডেমি থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন শরিফুল এম. খান। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি মহাকাশ প্রযুক্তি, স্যাটেলাইট অপারেশন এবং জাতীয় গোয়েন্দা অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যে বিভিন্ন দায়িত্ব পালনকালে অর্জন করেছেন একাধিক সামরিক সম্মাননা।

 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৫ সালের মে মাসে এই প্রকল্পের ঘোষণা দেন। প্রায় ১৭৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে ২–৩ বছরের মধ্যে এটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। ইসরায়েলের তৈরি আয়রন ডোমের মডেল অনুসরণে গড়ে উঠলেও, যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রকল্পের পরিধি ও ব্যয় অনেক বড়।

 

প্রকল্পের অংশ হিসেবে Long Range Discrimination Radar (LRDR)-এর সফল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে আলাস্কায়। এই রাডার ভবিষ্যতে ‘গোল্ডেন ডোম’-এর প্রধান সেন্সর হিসেবে কাজ করবে। একই সঙ্গে, মহাকাশভিত্তিক সেন্সর, স্যাটেলাইট এবং বিদ্যমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা—যেমন Patriot, THAAD ও GMD—এর সঙ্গে সমন্বিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

 

প্রকল্পটি নিয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর কঠোর গোপনীয়তা বজায় রাখছে। টাইম ম্যাগাজিনের এক রিপোর্ট অনুযায়ী, এর বেশিরভাগ নকশা ও কৌশল গোপন রাখা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে ঘোষিত সময়ের তুলনায় বেশি সময় লাগতে পারে।

 

প্রাথমিকভাবে ২৫ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দেওয়া হলেও, পুরো প্রকল্পের ব্যয় ২০ বছরে ৫০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ নিয়ে মার্কিন কংগ্রেস ও প্রতিরক্ষা মহলে তীব্র বিতর্ক চলছে।

 

প্রতিরক্ষা দপ্তরের দাবি, ২০২৮ সালের মধ্যে প্রকল্পের পরীক্ষামূলক সক্ষমতা চালু হবে এবং ২০২৯ সালের মধ্যে পূর্ণ কার্যকারিতা অর্জন করবে। এতে যুক্ত হবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যা একযোগে ড্রোন, স্বল্প-পাল্লার রকেট এমনকি ভবিষ্যতের হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম হবে।