ঢাকা ০৭:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাদ্রাসায় ১০৯ শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ১১:০১:০৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
  • / 52

মাদ্রাসায় ১০৯ শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার

মাদ্রাসায় নিরাপদ পরিবেশে শিক্ষাগ্রহণের প্রত্যাশা নিয়ে সন্তানদের পাঠান অভিভাবকেরা। কিন্তু সেখানেই শিশুদের যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ার ঘটনা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। মানবাধিকার সংস্থা জাস্টিস মেকার্স বাংলাদেশ ফ্রান্সের (জেএমবিএফ) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম নয় মাসে দেশের বিভিন্ন মাদ্রাসায় ৭২টি ঘটনায় অন্তত ১০৯ শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এসব ঘটনায় মামলা হলেও বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নানা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

চলতি বছরের মে মাসে রাজধানীর বনশ্রীর একটি মাদ্রাসা থেকে ১০ বছর বয়সী শিক্ষার্থী আবদুল্লাহর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। যৌন নির্যাতন ও আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে তার মা মামলা করেন। এ ঘটনায় একই মাদ্রাসার এক জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করা হলেও প্রায় সাত মাস পেরিয়ে যাওয়ার পরও বিচারপ্রক্রিয়ায় দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

জেএমবিএফের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে ছেলে শিশুদের ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টার অন্তত ১৩১টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এসব ঘটনায় ভুক্তভোগীর সংখ্যা ১৭১। এর মধ্যে ১৬১ শিশু ধর্ষণের শিকার এবং ১০ শিশু ধর্ষণচেষ্টার শিকার হয়েছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, নথিভুক্ত ঘটনাগুলোর বড় অংশই ঘটেছে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতনের ঘটনায় অপরাধ প্রমাণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বাধা হলো যথাযথভাবে আলামত সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান বলেন, ছেলে শিশুদের নির্যাতনের অভিযোগে শারীরিক পরীক্ষা, নমুনা সংগ্রহ ও সংরক্ষণ এবং ফরেনসিক পরীক্ষার ফলাফল প্রস্তুতের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট মানসম্মত পরিচালন পদ্ধতি (এসওপি) বা নির্দেশনার ঘাটতি রয়েছে। এতে মেডিকেল ও ডিএনএ পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ আদালতে যথাযথভাবে উপস্থাপন করা কঠিন হয়ে পড়ে, যা অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করার পথে বাধা সৃষ্টি করে।

অন্যদিকে, সামাজিক লজ্জা ও ভয়ের কারণে ছেলে শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতনের অনেক ঘটনা প্রকাশ্যে আসে না। এতে ভুক্তভোগীরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তা থেকেও বঞ্চিত হতে পারে।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় শুধু অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করাই নয়, নির্যাতন প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন অধিকারকর্মীরা। মানবাধিকারকর্মী অ্যাডভোকেট ফাওজিয়া করিম বলেন, মাদ্রাসাসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের ‘গুড টাচ’ ও ‘ব্যাড টাচ’ সম্পর্কে সচেতন করতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষক ও অভিভাবকদের প্রশিক্ষণ, পেশাদার কাউন্সেলিং এবং শিশুদের নির্ভয়ে অভিযোগ জানানোর পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশু সুরক্ষা নীতিমালা কার্যকর করা, অভিযোগ জানানোর নিরাপদ ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। এসব উদ্যোগের পাশাপাশি অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা না গেলে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

মাদ্রাসায় ১০৯ শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার

সর্বশেষ আপডেট ১১:০১:০৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

মাদ্রাসায় নিরাপদ পরিবেশে শিক্ষাগ্রহণের প্রত্যাশা নিয়ে সন্তানদের পাঠান অভিভাবকেরা। কিন্তু সেখানেই শিশুদের যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ার ঘটনা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। মানবাধিকার সংস্থা জাস্টিস মেকার্স বাংলাদেশ ফ্রান্সের (জেএমবিএফ) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম নয় মাসে দেশের বিভিন্ন মাদ্রাসায় ৭২টি ঘটনায় অন্তত ১০৯ শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এসব ঘটনায় মামলা হলেও বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নানা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

চলতি বছরের মে মাসে রাজধানীর বনশ্রীর একটি মাদ্রাসা থেকে ১০ বছর বয়সী শিক্ষার্থী আবদুল্লাহর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। যৌন নির্যাতন ও আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে তার মা মামলা করেন। এ ঘটনায় একই মাদ্রাসার এক জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করা হলেও প্রায় সাত মাস পেরিয়ে যাওয়ার পরও বিচারপ্রক্রিয়ায় দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

জেএমবিএফের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে ছেলে শিশুদের ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টার অন্তত ১৩১টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এসব ঘটনায় ভুক্তভোগীর সংখ্যা ১৭১। এর মধ্যে ১৬১ শিশু ধর্ষণের শিকার এবং ১০ শিশু ধর্ষণচেষ্টার শিকার হয়েছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, নথিভুক্ত ঘটনাগুলোর বড় অংশই ঘটেছে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতনের ঘটনায় অপরাধ প্রমাণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বাধা হলো যথাযথভাবে আলামত সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান বলেন, ছেলে শিশুদের নির্যাতনের অভিযোগে শারীরিক পরীক্ষা, নমুনা সংগ্রহ ও সংরক্ষণ এবং ফরেনসিক পরীক্ষার ফলাফল প্রস্তুতের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট মানসম্মত পরিচালন পদ্ধতি (এসওপি) বা নির্দেশনার ঘাটতি রয়েছে। এতে মেডিকেল ও ডিএনএ পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ আদালতে যথাযথভাবে উপস্থাপন করা কঠিন হয়ে পড়ে, যা অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করার পথে বাধা সৃষ্টি করে।

অন্যদিকে, সামাজিক লজ্জা ও ভয়ের কারণে ছেলে শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতনের অনেক ঘটনা প্রকাশ্যে আসে না। এতে ভুক্তভোগীরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তা থেকেও বঞ্চিত হতে পারে।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় শুধু অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করাই নয়, নির্যাতন প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন অধিকারকর্মীরা। মানবাধিকারকর্মী অ্যাডভোকেট ফাওজিয়া করিম বলেন, মাদ্রাসাসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের ‘গুড টাচ’ ও ‘ব্যাড টাচ’ সম্পর্কে সচেতন করতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষক ও অভিভাবকদের প্রশিক্ষণ, পেশাদার কাউন্সেলিং এবং শিশুদের নির্ভয়ে অভিযোগ জানানোর পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশু সুরক্ষা নীতিমালা কার্যকর করা, অভিযোগ জানানোর নিরাপদ ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। এসব উদ্যোগের পাশাপাশি অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা না গেলে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হবে।