বাজেটের স্বস্তি উধাও নিত্যপণ্যের বাজারে
- সর্বশেষ আপডেট ১২:০১:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
- / 21
জাতীয় বাজেটে বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমিয়ে সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তির বার্তা দেওয়া হলেও রাজধানীর বাস্তব বাজারে দেখা গেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। সপ্তাহের ছুটির দিনে বাজারগুলোতে সবজির দাম তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রণে ও স্থিতিশীল থাকলেও ডাল, ছোলা, চিনি এবং মুরগির বাজারে নতুন করে ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। নিত্যপণ্যের মূল্যের এই আকস্মিক বৃদ্ধির ফলে সাধারণ মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত ক্রেতাদের পারিবারিক বাজেটের ওপর নতুন করে বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে।
আজ শুক্রবার (১২ জুন) রাজধানীর বৃহত্তম পাইকারি ও খুচরা বাজার কারওয়ান বাজারসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি বাজার সরেজমিনে ঘুরে মূল্যবৃদ্ধির এই বাস্তব চিত্র দেখা গেছে। সকালে বাজারে আসা মাহমুদুর রহমান নামের এক চাকরিজীবী ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, সবজির দাম বর্তমানে কিছুটা সহনীয় পর্যায়ে থাকলেও ডাল আর মুরগির দাম যেভাবে বাড়ছে, তাতে সংসারের পুরো মাসিক বাজেট মেলানো অসম্ভব হয়ে পড়ছে। বাজারে একটি জিনিসের দাম কমলে অন্যটির দাম লাফিয়ে বাড়ছে, যার ফলে বাজেটের সুফল সাধারণ মানুষের পকেট পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছে না।
কারওয়ান বাজারের বর্তমান চিত্র অনুযায়ী, বেশিরভাগ সবজি এখন প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে কেনাবেচা হচ্ছে। তবে সালাদের অন্যতম উপাদান শসার দাম বাজারে এখন বেশ চড়া, প্রতি কেজি শসা বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়। এছাড়া অন্যান্য সবজির মধ্যে প্রতি কেজি বেগুন ৬০ থেকে ৭০ টাকা, লাউ ৬০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা, করলা ৫০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৪০ টাকা, পটোল ৪০ টাকা, কাঁকরোল ৫০ টাকা এবং ঝিঙে ৫০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
সবজি বিক্রেতা আনিস জানান, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বাজারে সবজির সরবরাহ স্বাভাবিক ও নিয়মিত রয়েছে, যার ফলে দাম খুব একটা বাড়েনি। তবে কোনো কারণে যদি ঢাকার প্রবেশপথে বা সরবরাহে সমস্যা তৈরি হয়, তাহলে দাম আবারও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি থাকলেও ডালের বাজারে তীব্র ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে। বাজারে প্রতি কেজি মোটা দানার মুগ ডাল এখন বিক্রি হচ্ছে ১০৫ টাকায়, যা কিছুদিন আগেও ছিল ৯০ টাকা। আর ভালো মানের চিকন দানার মুগ ডাল বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৭০ টাকায়, যার আগের দাম ছিল ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা।
অন্যান্য ডাল ও নিত্যপণ্যের দামের বর্তমান তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
- ছোলা: প্রতি কেজি ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৯৫ থেকে ১০০ টাকায়, যা সপ্তাহ ব্যবধানে কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
- মোটা দানার মসুর ডাল: প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়, যা আগে ছিল ৮০ থেকে ৮৫ টাকা।
- চিকন দানার মসুর ডাল: বাজারে বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকায়, যার পূর্বমূল্য ছিল ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা।
- খোলা চিনি: খোলা চিনির দাম কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়, যা আগে ছিল ১০৫ টাকা।
মুদি ব্যবসায়ী সোহেল রানা বাজারে মূল্যের এই অস্থিরতার বিষয়ে বলেন, পাইকারি বাজার থেকেই আমাদের বেশি দামে পণ্য কিনতে হচ্ছে। পাইকারিতে বাড়তি দামের যে চাপ তৈরি হয়েছে, তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারে। আমরা আড়ত থেকে বেশি দামে পণ্য কিনলে খুচরা পর্যায়ে সাধারণ ক্রেতাদের কাছে কম দামে বিক্রি করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
এদিকে মাংসের বাজারে বিশেষ করে মুরগির দামে এক ধরনের মিশ্র চিত্র দেখা গেছে। সাধারণ ক্রেতাদের পছন্দের ব্রয়লার মুরগির দাম গত সপ্তাহের মতোই পুরোপুরি স্থিতিশীল রয়েছে এবং বাজারে তা প্রতি কেজি ১৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে ব্রয়লারের দাম নিয়ন্ত্রণে থাকলেও সোনালি মুরগির দাম সপ্তাহ ব্যবধানে কেজিতে ৩০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত লাফিয়ে বেড়ে এখন ৩৫০ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। এর পাশাপাশি বাজারে প্রতি কেজি লেয়ার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৭০ থেকে ৩৮০ টাকা উচ্চমূল্যে।
মুরগি বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম বাজারে মাংসের এই দামের পার্থক্যের কারণ ব্যাখ্যা করে জানান, খামার বা প্রান্তিক উৎপাদন পর্যায়েই বর্তমানে সোনালি মুরগির দাম পাইকারিতে বেড়ে গেছে, যার কারণে খুচরা বাজারেও এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে। তবে বাজারে ব্রয়লার মুরগির পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় এর দাম ক্রেতাদের নাগালের মধ্যেই স্থিতিশীল রয়েছে।


































