পারিবারিক বিরোধ নিষ্পত্তিতে সালিশী প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী করার আহ্বান
- সর্বশেষ আপডেট ১১:৪৭:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬
- / 36
পারিবারিক বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে সালিশী কার্যক্রমকে আরও গঠনমূলক, গ্রহণযোগ্য ও আইনানুগ পদ্ধতিতে পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
শনিবার (৯ মে) বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এক কর্মশালায় বক্তারা নারী ও কন্যার প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে সালিশী নীতিমালার যথাযথ অনুসরণের দাবি জানান। তারা বলেন, আদালতের দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া এড়িয়ে স্বল্প সময়ে বিচার পেতে এই পদ্ধতি অত্যন্ত কার্যকর।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের আনোয়ারা বেগম-মুনিরা খান মিলনায়তনে আয়োজিত এই কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি সাহানা কবির। তিনি বলেন, পারিবারিক বিরোধ নিষ্পত্তি করার ক্ষেত্রে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে মধ্যস্থতা বা সালিশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রক্রিয়া।
বক্তারা সালিশ পরিচালনার সময় দালিলিক কাজ, অভিযোগ গ্রহণ এবং আইনী কাঠামোর মধ্যে সিদ্ধান্তগুলো লিখিত আকারে সংরক্ষণের ওপর বিশেষ জোর দেন। মূলত যথাযথ নথিপত্র না থাকলে সালিশের স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু জানান, নারী ও কন্যার প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ করা মানবাধিকার রক্ষার অন্যতম পূর্বশর্ত। তিনি উল্লেখ করেন যে, আদালতের ব্যয়বহুল ও দীর্ঘ পথ এড়িয়ে পারিবারিক বিরোধ নিষ্পত্তি করতে সালিশী কার্যক্রম বড় ভূমিকা রাখছে।
তবে এ ক্ষেত্রে দেনমোহর আদায় এবং ভরণপোষণ নিশ্চিত করার জন্য সঠিক নিয়ম ও রসিদ প্রদান বাধ্যতামূলক করা উচিত। বর্তমানে অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এই কাজ করলেও ডকুমেন্টেশনের অভাবে আইনী জটিলতা তৈরি হচ্ছে।
কর্মশালায় অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ ফউজুল আজিম সালিশী বৈঠকের লিখন পদ্ধতি ও মূলনীতি নিয়ে আলোচনা করেন। এছাড়া অধিবেশনে মানসিক সহায়তা বা কাউন্সেলিং, জিডি বা এফআইআর করার পদ্ধতি এবং নথিপত্র সংরক্ষণ বিষয়ে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
দ্বিতীয় অধিবেশনে জেলা শাখা থেকে আগত নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর দলীয় কাজ সম্পন্ন করেন। পরিশেষে বলা যায়, পারিবারিক বিরোধ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিক করলে সমাজে নারীর প্রতি সহিংসতা ও বঞ্চনা অনেকাংশে হ্রাস পাবে।





































