ঢাকা ০৪:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বরখাস্তের পর সংবাদ সম্মেলন

নতুন বিতর্কে চরফ্যাশনের প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক, চরফ্যাশন (ভোলা)
  • সর্বশেষ আপডেট ০৩:১২:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
  • / 7

নতুন বিতর্কে চরফ্যাশনের প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা

সরকারি চাকরিতে থাকা অবস্থায় রাজনৈতিক দলের কমিটিতে পদ পাওয়ার অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন ভোলার চরফ্যাশনের উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. সফিউল্লাহ জগলু। তবে বরখাস্তের আদেশের পর সংবাদ সম্মেলন করায় সরকারি কর্মচারীদের আচরণবিধি লঙ্ঘনের প্রশ্নে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মো. শাহজামান খানের স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এর কিছুক্ষণ পর সন্ধ্যায় চরফ্যাশন প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।

বিভাগীয় আদেশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ অক্টোবর ঘোষিত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চরফ্যাশন উপজেলা আহ্বায়ক কমিটিতে সফিউল্লাহ জগলুকে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক পদ দেওয়া হয়। সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯-এর ২৫(১) বিধি অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারীদের রাজনৈতিক দলের সদস্য হওয়া বা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে। এ বিধি লঙ্ঘনের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করে লালমোহন উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে।

তবে সফিউল্লাহ জগলুর দাবি, ভোলা জেলা এনসিপির কমিটি গঠনের সময় একই নামের একাধিক ব্যক্তি থাকায় ভুলবশত তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এ ক্ষেত্রে তাঁর কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। চাকরির মেয়াদ আর মাত্র ছয় মাস বাকি রয়েছে উল্লেখ করে বরখাস্তের সিদ্ধান্তকে পরিবারের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে বর্ণনা করেন এই কর্মকর্তা।

এনসিপির ভোলা জেলা আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. জিয়াউর রহমানও গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ভুলবশত সফিউল্লাহ জগলুর নাম কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। পরে কমিটি সংশোধন করা হয়েছে। বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিতে বিবেচনার জন্য প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

এদিকে, বরখাস্তের পর সংবাদ সম্মেলন করায় সরকারি কর্মচারীদের আচরণবিধির আরেকটি দিক নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯-এর ২২ নম্বর বিধিতে বিভাগীয় প্রধানের পূর্বানুমতি ছাড়া নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে বেতার, টেলিভিশন বা সংবাদপত্রের মাধ্যমে বক্তব্য প্রকাশের ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে। তবে এই বিধির আওতায় সংবাদ সম্মেলনের বিষয়টি কীভাবে প্রযোজ্য হবে, তা নির্দিষ্ট পরিস্থিতি ও বিধির ব্যাখ্যার ওপর নির্ভরশীল।

উল্লেখ্য, গত ৫ অক্টোবর এনসিপির ভোলা জেলা আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. জিয়াউর রহমান ও সদস্যসচিব শরীফ হাওলাদার সাগরের যৌথ স্বাক্ষরে ছয় মাসের জন্য দলটির চরফ্যাশন উপজেলা আহ্বায়ক কমিটির আংশিক অনুমোদন দেওয়া হয়। সাত সদস্যের ওই কমিটিতে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে সরকারি কর্মকর্তা সফিউল্লাহ জগলুর নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

বরখাস্তের পর সংবাদ সম্মেলন

নতুন বিতর্কে চরফ্যাশনের প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা

সর্বশেষ আপডেট ০৩:১২:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

সরকারি চাকরিতে থাকা অবস্থায় রাজনৈতিক দলের কমিটিতে পদ পাওয়ার অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন ভোলার চরফ্যাশনের উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. সফিউল্লাহ জগলু। তবে বরখাস্তের আদেশের পর সংবাদ সম্মেলন করায় সরকারি কর্মচারীদের আচরণবিধি লঙ্ঘনের প্রশ্নে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মো. শাহজামান খানের স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এর কিছুক্ষণ পর সন্ধ্যায় চরফ্যাশন প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।

বিভাগীয় আদেশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ অক্টোবর ঘোষিত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চরফ্যাশন উপজেলা আহ্বায়ক কমিটিতে সফিউল্লাহ জগলুকে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক পদ দেওয়া হয়। সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯-এর ২৫(১) বিধি অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারীদের রাজনৈতিক দলের সদস্য হওয়া বা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে। এ বিধি লঙ্ঘনের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করে লালমোহন উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে।

তবে সফিউল্লাহ জগলুর দাবি, ভোলা জেলা এনসিপির কমিটি গঠনের সময় একই নামের একাধিক ব্যক্তি থাকায় ভুলবশত তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এ ক্ষেত্রে তাঁর কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। চাকরির মেয়াদ আর মাত্র ছয় মাস বাকি রয়েছে উল্লেখ করে বরখাস্তের সিদ্ধান্তকে পরিবারের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে বর্ণনা করেন এই কর্মকর্তা।

এনসিপির ভোলা জেলা আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. জিয়াউর রহমানও গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ভুলবশত সফিউল্লাহ জগলুর নাম কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। পরে কমিটি সংশোধন করা হয়েছে। বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিতে বিবেচনার জন্য প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

এদিকে, বরখাস্তের পর সংবাদ সম্মেলন করায় সরকারি কর্মচারীদের আচরণবিধির আরেকটি দিক নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯-এর ২২ নম্বর বিধিতে বিভাগীয় প্রধানের পূর্বানুমতি ছাড়া নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে বেতার, টেলিভিশন বা সংবাদপত্রের মাধ্যমে বক্তব্য প্রকাশের ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে। তবে এই বিধির আওতায় সংবাদ সম্মেলনের বিষয়টি কীভাবে প্রযোজ্য হবে, তা নির্দিষ্ট পরিস্থিতি ও বিধির ব্যাখ্যার ওপর নির্ভরশীল।

উল্লেখ্য, গত ৫ অক্টোবর এনসিপির ভোলা জেলা আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. জিয়াউর রহমান ও সদস্যসচিব শরীফ হাওলাদার সাগরের যৌথ স্বাক্ষরে ছয় মাসের জন্য দলটির চরফ্যাশন উপজেলা আহ্বায়ক কমিটির আংশিক অনুমোদন দেওয়া হয়। সাত সদস্যের ওই কমিটিতে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে সরকারি কর্মকর্তা সফিউল্লাহ জগলুর নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল।