ঢাকা ০৪:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চরফ্যাশনে বিদ্যালয়ে তালা, পাঠদান বন্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক, চরফ্যাশন (ভোলা)
  • সর্বশেষ আপডেট ১২:৪৮:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬
  • / 14

চরফ্যাশনে বিদ্যালয়ে তালা, পাঠদান বন্ধ

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার নুরাবাদ ইসলামিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা নেওয়ার পর চাকরি না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে। পাওনা টাকা ফেরত না পাওয়ায় বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষক ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। এতে বিদ্যালয়টির পাঠদান বন্ধ রয়েছে, বিপাকে পড়েছে শিক্ষার্থীরা।

গত ৩ অক্টোবর শনিবার সকালে বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা দেওয়া হয়। এরপর থেকে বিদ্যালয়ের সব শ্রেণির পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, নাজিম নামের এক শিক্ষক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই বিনা বেতনে শিক্ষকতা করে আসছিলেন। তাঁকে স্থায়ীভাবে নিয়োগ দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান বিভিন্ন সময়ে ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা নেন। তবে পরে নাজিমকে নিয়োগ না দিয়ে ওই পদে অন্য একজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি সমাধানে শিক্ষক সমন্বয় পরিষদের নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিশ বৈঠক হয়। বৈঠকে জানানো হয়, নাজিমের বিপিএড সনদ না থাকায় কারিগরি কারণে তাঁকে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার দাবি করে সালিশি বোর্ড নাজিমকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১৫ লাখ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। টাকা পরিশোধের জন্য প্রধান শিক্ষককে তিন মাস সময় দেওয়া হয়েছিল।

ভুক্তভোগী নাজিম ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা ৮ অক্টোবর স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে অভিযোগ করেন, নির্ধারিত সময় পার হলেও প্রধান শিক্ষক টাকা ফেরত দেননি। বরং তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে এবং তিনি এলাকায় নেই। টাকা ফেরতের বিষয়ে সমাধান না পেয়ে তাঁরা বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা দেন।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল খায়ের জানান, প্রধান শিক্ষকের পক্ষ থেকে তাঁরা একটি লিখিত আবেদন পেয়েছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখে বিদ্যালয়ের তালা খুলে দ্রুত পাঠদান স্বাভাবিক করা এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

এদিকে কয়েক দিন ধরে বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ থাকায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহল। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দ্রুত বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম চালুর জন্য উপজেলা প্রশাসন ও শিক্ষা বিভাগের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

চরফ্যাশনে বিদ্যালয়ে তালা, পাঠদান বন্ধ

সর্বশেষ আপডেট ১২:৪৮:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার নুরাবাদ ইসলামিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা নেওয়ার পর চাকরি না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে। পাওনা টাকা ফেরত না পাওয়ায় বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষক ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। এতে বিদ্যালয়টির পাঠদান বন্ধ রয়েছে, বিপাকে পড়েছে শিক্ষার্থীরা।

গত ৩ অক্টোবর শনিবার সকালে বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা দেওয়া হয়। এরপর থেকে বিদ্যালয়ের সব শ্রেণির পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, নাজিম নামের এক শিক্ষক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই বিনা বেতনে শিক্ষকতা করে আসছিলেন। তাঁকে স্থায়ীভাবে নিয়োগ দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান বিভিন্ন সময়ে ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা নেন। তবে পরে নাজিমকে নিয়োগ না দিয়ে ওই পদে অন্য একজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি সমাধানে শিক্ষক সমন্বয় পরিষদের নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিশ বৈঠক হয়। বৈঠকে জানানো হয়, নাজিমের বিপিএড সনদ না থাকায় কারিগরি কারণে তাঁকে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার দাবি করে সালিশি বোর্ড নাজিমকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১৫ লাখ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। টাকা পরিশোধের জন্য প্রধান শিক্ষককে তিন মাস সময় দেওয়া হয়েছিল।

ভুক্তভোগী নাজিম ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা ৮ অক্টোবর স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে অভিযোগ করেন, নির্ধারিত সময় পার হলেও প্রধান শিক্ষক টাকা ফেরত দেননি। বরং তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে এবং তিনি এলাকায় নেই। টাকা ফেরতের বিষয়ে সমাধান না পেয়ে তাঁরা বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা দেন।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল খায়ের জানান, প্রধান শিক্ষকের পক্ষ থেকে তাঁরা একটি লিখিত আবেদন পেয়েছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখে বিদ্যালয়ের তালা খুলে দ্রুত পাঠদান স্বাভাবিক করা এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

এদিকে কয়েক দিন ধরে বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ থাকায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহল। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দ্রুত বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম চালুর জন্য উপজেলা প্রশাসন ও শিক্ষা বিভাগের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।