ঢাকা ১০:০৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কেবিনেটের বাইরে হতো অন্তর্বর্তী সরকারের বড় সিদ্ধান্ত: সাবেক উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ১২:২৮:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 205

সাবেক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন

অন্তর্বর্তী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো আনুষ্ঠানিক কেবিনেট বৈঠকে নয়, বরং বাইরে নির্ধারিত হতো—এমন অভিযোগ তুলেছেন সাবেক উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন।

দায়িত্ব ছাড়ার পর এক বেসরকারি টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অস্ত্র লুট, নির্বাচন ও বিদেশি প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন।

সাখাওয়াত হোসেনের দাবি, যারা ভিন্নমত পোষণ করতেন তাদের মতামত সাধারণত ছোটখাটো বিষয়ে সীমাবদ্ধ থাকত—যেমন কোনো সূচি বাদ দেওয়া। কিন্তু নীতিগত বড় সিদ্ধান্ত কেবিনেটে হতো না। তার ভাষায়, “দুর্ভাগ্যজনকভাবে বড় সিদ্ধান্তগুলো কেবিনেটের বাইরে আলোচনা হতো।”

সব সরকারেরই একটি অনানুষ্ঠানিক ‘কিচেন কেবিনেট’ থাকে—এমন মন্তব্য শোনা যায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেখানে কারা ছিলেন তা তিনি নিশ্চিত নন। তবে স্পষ্ট করেন, তিনি সেই পরিসরে ছিলেন না। হয়তো তাকে এমন একজন হিসেবে দেখা হয়েছিল, যিনি সহজে একমত হবেন না। সংশ্লিষ্টদের তিনি ব্যক্তিগতভাবে চিনতেন বলেও জানান।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, পুলিশের পুনর্গঠনই ছিল তার প্রধান লক্ষ্য। সে সময় বহু থানা লুট ও অগ্নিসংযোগের শিকার হয়, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ছিল নাজুক। পুলিশ মাঠে নামতে অনীহা দেখায়, ট্রাফিক পুলিশও দায়িত্ব নিতে চাইছিল না। আলোচনার মাধ্যমে তাদের কাজে ফেরানো হয় বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি জানান, প্রায় চার হাজার রাইফেল লুট হয়েছিল। কিছু উদ্ধার হলেও এক হাজারের বেশি রাইফেল ও পিস্তল নিখোঁজ ছিল। এসব অস্ত্র বর্তমান সরকারের জন্য বড় ঝুঁকি হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

দায়িত্ব থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া প্রসঙ্গে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, তার কিছু বক্তব্য প্রেক্ষাপট ছাড়া প্রচারিত হয়েছিল। তিনি দায়িত্ব ছাড়তে চাইলেও মুহাম্মদ ইউনূস তাকে তাৎক্ষণিকভাবে সরে যেতে দেননি; কয়েকদিন থেকে যেতে বলা হয়েছিল যাতে নেতিবাচক বার্তা না যায়।

৭.৬২ বুলেট ও চাইনিজ টাইপ-৩৯ রাইফেল ব্যবহারের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কিছু ভিডিওতে পুলিশের অস্ত্র দিয়ে গুলি চালানোর দৃশ্য দেখা গেছে। এসব অস্ত্র সাধারণত সামরিক ব্যবহারের—পুলিশের কাছে কেন ছিল, তা তদন্ত হওয়া উচিত ছিল বলে মত দেন তিনি। দায়িত্বে না থাকায় উদ্যোগ নিতে পারেননি।

তার কাছে কিছু সন্দেহজনক ছবি রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি, যেখানে কয়েকজনকে স্থানীয়দের মতো মনে হয়নি এবং কিছু ব্যক্তিকে হেলিকপ্টারে ওঠাতে দেখা গেছে।

নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোনো নির্বাচনই শতভাগ নিখুঁত হয় না। দেশে টানা তিনটি নির্বাচনে মানুষ ভোট দিতে পারেনি বলেও মন্তব্য করেন। সাম্প্রতিক নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৭৭টি আসন পাওয়াকে তিনি বড় রাজনৈতিক ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেন।

বিভিন্ন চুক্তি নিয়ে তিনি বলেন, গোপন চুক্তির অভিযোগ সঠিক নয়। সাধারণত এসব চুক্তি বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও পিপিপি অথরিটি বাংলাদেশ–এর মাধ্যমে সম্পন্ন হয় এবং তাতে ‘নন-ডিসক্লোজার’ ধারা থাকে। একটি মার্কিন কোম্পানির শ্রমিক কল্যাণ তহবিলের পাঁচ শতাংশ নিয়ে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে তার মতবিরোধ হয়েছিল বলেও জানান।

বিদেশি প্রভাব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সব ক্ষেত্রে নয়, তবে কিছু বিষয়ে চাপ ছিল—বিশেষ করে বাণিজ্য আলোচনায়। অতীতে নীতিনির্ধারণ অনেকটা দিল্লিকেন্দ্রিক ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

কেবিনেটের বাইরে হতো অন্তর্বর্তী সরকারের বড় সিদ্ধান্ত: সাবেক উপদেষ্টা

সর্বশেষ আপডেট ১২:২৮:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

অন্তর্বর্তী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো আনুষ্ঠানিক কেবিনেট বৈঠকে নয়, বরং বাইরে নির্ধারিত হতো—এমন অভিযোগ তুলেছেন সাবেক উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন।

দায়িত্ব ছাড়ার পর এক বেসরকারি টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অস্ত্র লুট, নির্বাচন ও বিদেশি প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন।

সাখাওয়াত হোসেনের দাবি, যারা ভিন্নমত পোষণ করতেন তাদের মতামত সাধারণত ছোটখাটো বিষয়ে সীমাবদ্ধ থাকত—যেমন কোনো সূচি বাদ দেওয়া। কিন্তু নীতিগত বড় সিদ্ধান্ত কেবিনেটে হতো না। তার ভাষায়, “দুর্ভাগ্যজনকভাবে বড় সিদ্ধান্তগুলো কেবিনেটের বাইরে আলোচনা হতো।”

সব সরকারেরই একটি অনানুষ্ঠানিক ‘কিচেন কেবিনেট’ থাকে—এমন মন্তব্য শোনা যায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেখানে কারা ছিলেন তা তিনি নিশ্চিত নন। তবে স্পষ্ট করেন, তিনি সেই পরিসরে ছিলেন না। হয়তো তাকে এমন একজন হিসেবে দেখা হয়েছিল, যিনি সহজে একমত হবেন না। সংশ্লিষ্টদের তিনি ব্যক্তিগতভাবে চিনতেন বলেও জানান।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, পুলিশের পুনর্গঠনই ছিল তার প্রধান লক্ষ্য। সে সময় বহু থানা লুট ও অগ্নিসংযোগের শিকার হয়, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ছিল নাজুক। পুলিশ মাঠে নামতে অনীহা দেখায়, ট্রাফিক পুলিশও দায়িত্ব নিতে চাইছিল না। আলোচনার মাধ্যমে তাদের কাজে ফেরানো হয় বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি জানান, প্রায় চার হাজার রাইফেল লুট হয়েছিল। কিছু উদ্ধার হলেও এক হাজারের বেশি রাইফেল ও পিস্তল নিখোঁজ ছিল। এসব অস্ত্র বর্তমান সরকারের জন্য বড় ঝুঁকি হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

দায়িত্ব থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া প্রসঙ্গে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, তার কিছু বক্তব্য প্রেক্ষাপট ছাড়া প্রচারিত হয়েছিল। তিনি দায়িত্ব ছাড়তে চাইলেও মুহাম্মদ ইউনূস তাকে তাৎক্ষণিকভাবে সরে যেতে দেননি; কয়েকদিন থেকে যেতে বলা হয়েছিল যাতে নেতিবাচক বার্তা না যায়।

৭.৬২ বুলেট ও চাইনিজ টাইপ-৩৯ রাইফেল ব্যবহারের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কিছু ভিডিওতে পুলিশের অস্ত্র দিয়ে গুলি চালানোর দৃশ্য দেখা গেছে। এসব অস্ত্র সাধারণত সামরিক ব্যবহারের—পুলিশের কাছে কেন ছিল, তা তদন্ত হওয়া উচিত ছিল বলে মত দেন তিনি। দায়িত্বে না থাকায় উদ্যোগ নিতে পারেননি।

তার কাছে কিছু সন্দেহজনক ছবি রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি, যেখানে কয়েকজনকে স্থানীয়দের মতো মনে হয়নি এবং কিছু ব্যক্তিকে হেলিকপ্টারে ওঠাতে দেখা গেছে।

নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোনো নির্বাচনই শতভাগ নিখুঁত হয় না। দেশে টানা তিনটি নির্বাচনে মানুষ ভোট দিতে পারেনি বলেও মন্তব্য করেন। সাম্প্রতিক নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৭৭টি আসন পাওয়াকে তিনি বড় রাজনৈতিক ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেন।

বিভিন্ন চুক্তি নিয়ে তিনি বলেন, গোপন চুক্তির অভিযোগ সঠিক নয়। সাধারণত এসব চুক্তি বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও পিপিপি অথরিটি বাংলাদেশ–এর মাধ্যমে সম্পন্ন হয় এবং তাতে ‘নন-ডিসক্লোজার’ ধারা থাকে। একটি মার্কিন কোম্পানির শ্রমিক কল্যাণ তহবিলের পাঁচ শতাংশ নিয়ে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে তার মতবিরোধ হয়েছিল বলেও জানান।

বিদেশি প্রভাব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সব ক্ষেত্রে নয়, তবে কিছু বিষয়ে চাপ ছিল—বিশেষ করে বাণিজ্য আলোচনায়। অতীতে নীতিনির্ধারণ অনেকটা দিল্লিকেন্দ্রিক ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।