ঢাকা ০৯:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিক্ষা প্রকৌশলের ‘ভক্ষক’

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০২:২৯:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬
  • / 133

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আসাদুজ্জামান।

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আসাদুজ্জামান; দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আধুনিকীকরণের দায়িত্বে রয়েছেন এই কর্মকর্তা। কিন্তু নিজের চেয়ারের প্রতি অবিচার করে এই প্রকৌশলী এখন ভক্ষকের ভূমিকায় অবর্তিন হয়েছেন। প্রায় ডজনখানেক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ বয়ে বেড়াচ্ছেন এই কর্মকর্তা। বারবার অভিযোগ এবং তদন্ত হলেও অদৃশ্য হাতের প্রভাবে তিনি বারবার থেকে যাচ্ছেন ধরাছোয়ার বাহিরে।

এই কর্মকর্তা বর্তমানে সংস্থাটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধিশাখা-১ এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর দায়িত্বে রয়েছেন। একদা ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত আসাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে নতুন করে পলাতক আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ট ঠিকাদারদের ‘অনৈতিক সুবিধা’ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের প্রায় ৩২ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ফাঁস করে ইলেকট্রো গ্লোব মিরন এন্টারপ্রাইজ নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানের মালিক যুবলীগ নেতা রাকিব হোসেন ৫ আগস্টের পর গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন।

একইভাবে রূপগঞ্জের পূর্বাচল মাধ্যমিক সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রায় ৩৫ কোটি টাকার কাজ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক কৃষি মন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাকের শ্বশুরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নূরানি কনস্ট্রাকশনকে পাইয়ে দিতে প্রাক্কলিত ব্যয় কমিয়ে ফাঁস করার অভিযোগও রয়েছে। এসব প্রকল্পের দরপত্র কমিটির সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন আসাদুজ্জামান।
ইইডি থেকে জানা যায়, বিদায়ী প্রধান প্রকৌশলী আলতাফ হোসেনের দুর্নীতির অর্থ বন্টনের ‘কথিত ক্যাশিয়ার’ ছিলেন আসাদুজ্জামান। তার নেতৃত্বেই পলাতক ঠিকাদার আওয়ামী নেতা লিয়াকত শিকদারকে কোটি টাকা বিল দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া তার নেতৃত্বেই দিনাজপুর পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহ আলমের মালিকানাধীন মেসার্স মা এন্টারপ্রাইজকে এখনো দেশের প্রায় প্রতিটি জেলায় একচেটিয়া কাজ দেওয়া হচ্ছে।

এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ- হুইপ ইকবালুর রহিমের ঘনিষ্ঠতা কাজে লাগিয়ে তারা লাইসেন্স ভাড়া বাবদ দুই শতাংশ টাকা আদায় করছেন।

কর্মজীবনের বিভিন্ন সময়ে রংপুর, নাটোর ও পটুয়াখালীসহ বিভিন্ন স্থানে দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে ঠিকাদারদের সঙ্গে বিরোধের ঘটনাও ঘটেছে বলে এই কর্মকর্তার একাধিক সহকর্মী জানান।

মো. আসাদুজ্জামান নাটোরে থাকাকালিন এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নাটোর সদর উপজেলার বিলমারিয়া দাখিল মাদ্রাসা ও বিলমারি উচ্চ বিদ্যালয়ের কাজ সম্পন্ন হওয়ার আগেই মেসার্স আবদুল মান্নান নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বিল পরিশোধ করেন। আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট ওই ঠিকাদার ৫ আগস্টের পর কাজ বন্ধ করে পালিয়ে যান।

একইভাবে নাটোরের লালপুরের বারঘরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই মেসার্স সিফাত এন্টারপ্রাইজকে বিলের অধিকাংশ অর্থ ছাড় করারও অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, ঠিকাদার ও প্রকৌশলী আসাদুজ্জামানের যোগসাজশে এসব বিল ভাগবাটোয়ারা হয়েছে।

নাটোরের আগে রংপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী ছিলেন আসাদুজ্জামান। ২০২০ সালের জুলাইয়ে রংপুরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০ কোটি টাকার কাজ ছাত্রলীগের এক নেতাকে পাইয়ে দিতে কারসাজি করার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এ নিয়ে ওই সময় ব্যাপক সমালোচনা হলেও ছাত্রলীগ নেতাদের চাপে ঘটনাটি ধামাচাপা পড়ে।

এসব অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে গত বছরের ২৩ অক্টোবর আসাদুজ্জামানসহ পাঁচ প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠণ করা হয়।

গত বছরের মে মাসে এই কর্মকর্তার পদোন্নতি হয়। সেই পদোন্নতি ঘিরেও নানা প্রশ্ন রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, আসাদুজ্জামান তার বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন (এসিআর)-এ নেতিবাচক মন্তব্য থাকা সত্ত্বেও তা গোপন রেখে বা পরিবর্তন করে পদোন্নতি নেওয়া হয়েছে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আসাদুজ্জামানের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করেও তার মন্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

শিক্ষা প্রকৌশলের ‘ভক্ষক’

সর্বশেষ আপডেট ০২:২৯:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আসাদুজ্জামান; দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আধুনিকীকরণের দায়িত্বে রয়েছেন এই কর্মকর্তা। কিন্তু নিজের চেয়ারের প্রতি অবিচার করে এই প্রকৌশলী এখন ভক্ষকের ভূমিকায় অবর্তিন হয়েছেন। প্রায় ডজনখানেক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ বয়ে বেড়াচ্ছেন এই কর্মকর্তা। বারবার অভিযোগ এবং তদন্ত হলেও অদৃশ্য হাতের প্রভাবে তিনি বারবার থেকে যাচ্ছেন ধরাছোয়ার বাহিরে।

এই কর্মকর্তা বর্তমানে সংস্থাটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধিশাখা-১ এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর দায়িত্বে রয়েছেন। একদা ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত আসাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে নতুন করে পলাতক আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ট ঠিকাদারদের ‘অনৈতিক সুবিধা’ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের প্রায় ৩২ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ফাঁস করে ইলেকট্রো গ্লোব মিরন এন্টারপ্রাইজ নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানের মালিক যুবলীগ নেতা রাকিব হোসেন ৫ আগস্টের পর গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন।

একইভাবে রূপগঞ্জের পূর্বাচল মাধ্যমিক সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রায় ৩৫ কোটি টাকার কাজ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক কৃষি মন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাকের শ্বশুরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নূরানি কনস্ট্রাকশনকে পাইয়ে দিতে প্রাক্কলিত ব্যয় কমিয়ে ফাঁস করার অভিযোগও রয়েছে। এসব প্রকল্পের দরপত্র কমিটির সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন আসাদুজ্জামান।
ইইডি থেকে জানা যায়, বিদায়ী প্রধান প্রকৌশলী আলতাফ হোসেনের দুর্নীতির অর্থ বন্টনের ‘কথিত ক্যাশিয়ার’ ছিলেন আসাদুজ্জামান। তার নেতৃত্বেই পলাতক ঠিকাদার আওয়ামী নেতা লিয়াকত শিকদারকে কোটি টাকা বিল দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া তার নেতৃত্বেই দিনাজপুর পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহ আলমের মালিকানাধীন মেসার্স মা এন্টারপ্রাইজকে এখনো দেশের প্রায় প্রতিটি জেলায় একচেটিয়া কাজ দেওয়া হচ্ছে।

এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ- হুইপ ইকবালুর রহিমের ঘনিষ্ঠতা কাজে লাগিয়ে তারা লাইসেন্স ভাড়া বাবদ দুই শতাংশ টাকা আদায় করছেন।

কর্মজীবনের বিভিন্ন সময়ে রংপুর, নাটোর ও পটুয়াখালীসহ বিভিন্ন স্থানে দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে ঠিকাদারদের সঙ্গে বিরোধের ঘটনাও ঘটেছে বলে এই কর্মকর্তার একাধিক সহকর্মী জানান।

মো. আসাদুজ্জামান নাটোরে থাকাকালিন এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নাটোর সদর উপজেলার বিলমারিয়া দাখিল মাদ্রাসা ও বিলমারি উচ্চ বিদ্যালয়ের কাজ সম্পন্ন হওয়ার আগেই মেসার্স আবদুল মান্নান নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বিল পরিশোধ করেন। আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট ওই ঠিকাদার ৫ আগস্টের পর কাজ বন্ধ করে পালিয়ে যান।

একইভাবে নাটোরের লালপুরের বারঘরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই মেসার্স সিফাত এন্টারপ্রাইজকে বিলের অধিকাংশ অর্থ ছাড় করারও অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, ঠিকাদার ও প্রকৌশলী আসাদুজ্জামানের যোগসাজশে এসব বিল ভাগবাটোয়ারা হয়েছে।

নাটোরের আগে রংপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী ছিলেন আসাদুজ্জামান। ২০২০ সালের জুলাইয়ে রংপুরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০ কোটি টাকার কাজ ছাত্রলীগের এক নেতাকে পাইয়ে দিতে কারসাজি করার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এ নিয়ে ওই সময় ব্যাপক সমালোচনা হলেও ছাত্রলীগ নেতাদের চাপে ঘটনাটি ধামাচাপা পড়ে।

এসব অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে গত বছরের ২৩ অক্টোবর আসাদুজ্জামানসহ পাঁচ প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠণ করা হয়।

গত বছরের মে মাসে এই কর্মকর্তার পদোন্নতি হয়। সেই পদোন্নতি ঘিরেও নানা প্রশ্ন রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, আসাদুজ্জামান তার বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন (এসিআর)-এ নেতিবাচক মন্তব্য থাকা সত্ত্বেও তা গোপন রেখে বা পরিবর্তন করে পদোন্নতি নেওয়া হয়েছে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আসাদুজ্জামানের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করেও তার মন্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।