ঢাকা ১০:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারত থেকে বিদ্যুৎ আনতে গুনতে হবে বাড়তি টাকা

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:২৪:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬
  • / 18

ভারত থেকে বিদ্যুৎ আনতে গুনতে হবে বাড়তি টাকা

ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানির ক্ষেত্রে নতুন একটি চার্জ দিতে হবে বাংলাদেশকে। প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের জন্য ০.০০৫ ভারতীয় রুপি হারে এই চার্জ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পরিমাণে কম হলেও দীর্ঘমেয়াদে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ আমদানির কারণে এর আর্থিক প্রভাব পড়তে পারে।

নতুন এই চার্জ আদায়ের জন্য ভারতের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এনটিপিসি বিদ্যুৎ ব্যাপার নিগম লিমিটেড (এনভিভিএন) ও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) মধ্যে সেটেলমেন্ট নোডাল এজেন্সি (এসএনএ) চুক্তি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে মতামত চেয়ে গত ১৮ আগস্ট অর্থ বিভাগে চিঠি দিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, চুক্তি সম্পন্ন করতে দেরি হলে এনভিভিএনের মাধ্যমে ১ হাজার ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানিতে জটিলতা তৈরি হতে পারে।

প্রতি ইউনিটে ০.০০৫ রুপি চার্জ

বিদ্যুৎ বিভাগের চিঠি অনুযায়ী, ভারতের কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রক সংস্থা (সিইআরসি) আন্তঃসীমান্ত বিদ্যুৎ বাণিজ্যের ক্ষেত্রে প্রতি ইউনিটে প্রথমে ০.০১ ভারতীয় রুপি চার্জ নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছিল। পরে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের আবেদনের পরিমাণ অর্ধেক কমিয়ে ০.০০৫ রুপি করা হয়।

ভারত থেকে নেপাল ও ভুটানে বিদ্যুৎ বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও একই হারে এসএনএ চার্জ নেওয়া হচ্ছে।

ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আন্তঃসীমান্ত বিদ্যুৎ সরবরাহের শিডিউল তৈরি, মিটার থেকে বিদ্যুৎ ব্যবহারের তথ্য সংগ্রহ, সরবরাহ ও ব্যবহারের হিসাব সমন্বয় এবং গ্রিড পরিচালনাসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের ব্যয় মেটাতে এই চার্জ নেওয়া হবে।

ভারতীয় বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে

বিভিন্ন চুক্তির আওতায় ভারত থেকে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৬৫৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের। এর মধ্যে এনভিভিএনের মাধ্যমে এনটিপিসি থেকে ২৫০ মেগাওয়াট, দামোদর ভ্যালি করপোরেশন (ডিভিসি) থেকে ৩০০ মেগাওয়াট এবং ত্রিপুরা স্টেট ইলেকট্রিসিটি করপোরেশন থেকে ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির ব্যবস্থা রয়েছে।

এ ছাড়া পিটিসি ইন্ডিয়ার মাধ্যমে সেম্বকর্প এনার্জি ইন্ডিয়ার একটি কেন্দ্র থেকে ২০০ মেগাওয়াট এবং সেম্বকর্প থেকে সরাসরি আরও ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির চুক্তি রয়েছে। সব মিলিয়ে এনভিভিএনের মাধ্যমে ১ হাজার ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির জন্য এসএনএ চুক্তি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে ভারতের আদানি পাওয়ারের ঝাড়খণ্ডের গড্ডা কেন্দ্র থেকে ১ হাজার ৪৯৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির চুক্তি রয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির মধ্যেই এ ধরনের চার্জের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকায় এ বিদ্যুতের জন্য আলাদা এসএনএ চুক্তির প্রয়োজন হবে না।

বছরে বিদ্যুৎ আমদানিতে ব্যয় ১৭ হাজার কোটি টাকা

বিদ্যুৎ আমদানিতে বাংলাদেশের ব্যয় শুধু বিদ্যুতের মূল দামের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে কোথাও হুইলিং বা সঞ্চালন চার্জও দিতে হয়। এবার যুক্ত হচ্ছে এসএনএ চার্জ।

২০২৪-২৫ অর্থবছরের হিসাব অনুযায়ী, আদানি পাওয়ার, এনভিভিএন, পিটিসি ইন্ডিয়া ও সেম্বকর্প; এই চার উৎস থেকে বাংলাদেশ প্রায় ১ হাজার ৬৪১ কোটি ইউনিট বিদ্যুৎ আমদানি করেছে। এর মূল মূল্য বাবদ পরিশোধ করা হয়েছে ১৬ হাজার ৯৯৯ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।

এর মধ্যে আদানি পাওয়ারের বিদ্যুৎ আমদানিতে ব্যয় হয়েছে ১১ হাজার ৯৩৩ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। এনভিভিএনের বিদ্যুতের জন্য ৩ হাজার ৪৫৭ কোটি ৮২ লাখ, পিটিসি ইন্ডিয়ার জন্য ১ হাজার ৬৫১ কোটি ৩২ লাখ এবং সেম্বকর্পের জন্য ১ হাজার ৯৫৭ কোটি ৫৬ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।

এনভিভিএনের বিদ্যুতের জন্য আরও ২১১ কোটি ৭১ লাখ টাকা হুইলিং চার্জ দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে ওই চার উৎস থেকে বিদ্যুৎ আমদানিতে মোট ব্যয় হয়েছে ১৭ হাজার ২১১ কোটি ৪৬ লাখ টাকা।

এর সঙ্গে এখন যোগ হবে নতুন এসএনএ চার্জ। প্রতি ইউনিটে ০.০০৫ ভারতীয় রুপি হিসেবে অঙ্কটি তুলনামূলকভাবে ছোট হলেও প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ আমদানির কারণে দীর্ঘমেয়াদে ব্যয় বাড়বে। দেশে গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হলে আমদানিনির্ভরতা আরও বাড়তে পারে। ফলে বিদ্যুৎ আমদানির পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এসএনএ চার্জ বাবদ ব্যয়ও বাড়বে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ভারত থেকে বিদ্যুৎ আনতে গুনতে হবে বাড়তি টাকা

সর্বশেষ আপডেট ০৮:২৪:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানির ক্ষেত্রে নতুন একটি চার্জ দিতে হবে বাংলাদেশকে। প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের জন্য ০.০০৫ ভারতীয় রুপি হারে এই চার্জ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পরিমাণে কম হলেও দীর্ঘমেয়াদে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ আমদানির কারণে এর আর্থিক প্রভাব পড়তে পারে।

নতুন এই চার্জ আদায়ের জন্য ভারতের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এনটিপিসি বিদ্যুৎ ব্যাপার নিগম লিমিটেড (এনভিভিএন) ও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) মধ্যে সেটেলমেন্ট নোডাল এজেন্সি (এসএনএ) চুক্তি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে মতামত চেয়ে গত ১৮ আগস্ট অর্থ বিভাগে চিঠি দিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, চুক্তি সম্পন্ন করতে দেরি হলে এনভিভিএনের মাধ্যমে ১ হাজার ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানিতে জটিলতা তৈরি হতে পারে।

প্রতি ইউনিটে ০.০০৫ রুপি চার্জ

বিদ্যুৎ বিভাগের চিঠি অনুযায়ী, ভারতের কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রক সংস্থা (সিইআরসি) আন্তঃসীমান্ত বিদ্যুৎ বাণিজ্যের ক্ষেত্রে প্রতি ইউনিটে প্রথমে ০.০১ ভারতীয় রুপি চার্জ নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছিল। পরে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের আবেদনের পরিমাণ অর্ধেক কমিয়ে ০.০০৫ রুপি করা হয়।

ভারত থেকে নেপাল ও ভুটানে বিদ্যুৎ বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও একই হারে এসএনএ চার্জ নেওয়া হচ্ছে।

ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আন্তঃসীমান্ত বিদ্যুৎ সরবরাহের শিডিউল তৈরি, মিটার থেকে বিদ্যুৎ ব্যবহারের তথ্য সংগ্রহ, সরবরাহ ও ব্যবহারের হিসাব সমন্বয় এবং গ্রিড পরিচালনাসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের ব্যয় মেটাতে এই চার্জ নেওয়া হবে।

ভারতীয় বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে

বিভিন্ন চুক্তির আওতায় ভারত থেকে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৬৫৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের। এর মধ্যে এনভিভিএনের মাধ্যমে এনটিপিসি থেকে ২৫০ মেগাওয়াট, দামোদর ভ্যালি করপোরেশন (ডিভিসি) থেকে ৩০০ মেগাওয়াট এবং ত্রিপুরা স্টেট ইলেকট্রিসিটি করপোরেশন থেকে ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির ব্যবস্থা রয়েছে।

এ ছাড়া পিটিসি ইন্ডিয়ার মাধ্যমে সেম্বকর্প এনার্জি ইন্ডিয়ার একটি কেন্দ্র থেকে ২০০ মেগাওয়াট এবং সেম্বকর্প থেকে সরাসরি আরও ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির চুক্তি রয়েছে। সব মিলিয়ে এনভিভিএনের মাধ্যমে ১ হাজার ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির জন্য এসএনএ চুক্তি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে ভারতের আদানি পাওয়ারের ঝাড়খণ্ডের গড্ডা কেন্দ্র থেকে ১ হাজার ৪৯৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির চুক্তি রয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির মধ্যেই এ ধরনের চার্জের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকায় এ বিদ্যুতের জন্য আলাদা এসএনএ চুক্তির প্রয়োজন হবে না।

বছরে বিদ্যুৎ আমদানিতে ব্যয় ১৭ হাজার কোটি টাকা

বিদ্যুৎ আমদানিতে বাংলাদেশের ব্যয় শুধু বিদ্যুতের মূল দামের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে কোথাও হুইলিং বা সঞ্চালন চার্জও দিতে হয়। এবার যুক্ত হচ্ছে এসএনএ চার্জ।

২০২৪-২৫ অর্থবছরের হিসাব অনুযায়ী, আদানি পাওয়ার, এনভিভিএন, পিটিসি ইন্ডিয়া ও সেম্বকর্প; এই চার উৎস থেকে বাংলাদেশ প্রায় ১ হাজার ৬৪১ কোটি ইউনিট বিদ্যুৎ আমদানি করেছে। এর মূল মূল্য বাবদ পরিশোধ করা হয়েছে ১৬ হাজার ৯৯৯ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।

এর মধ্যে আদানি পাওয়ারের বিদ্যুৎ আমদানিতে ব্যয় হয়েছে ১১ হাজার ৯৩৩ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। এনভিভিএনের বিদ্যুতের জন্য ৩ হাজার ৪৫৭ কোটি ৮২ লাখ, পিটিসি ইন্ডিয়ার জন্য ১ হাজার ৬৫১ কোটি ৩২ লাখ এবং সেম্বকর্পের জন্য ১ হাজার ৯৫৭ কোটি ৫৬ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।

এনভিভিএনের বিদ্যুতের জন্য আরও ২১১ কোটি ৭১ লাখ টাকা হুইলিং চার্জ দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে ওই চার উৎস থেকে বিদ্যুৎ আমদানিতে মোট ব্যয় হয়েছে ১৭ হাজার ২১১ কোটি ৪৬ লাখ টাকা।

এর সঙ্গে এখন যোগ হবে নতুন এসএনএ চার্জ। প্রতি ইউনিটে ০.০০৫ ভারতীয় রুপি হিসেবে অঙ্কটি তুলনামূলকভাবে ছোট হলেও প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ আমদানির কারণে দীর্ঘমেয়াদে ব্যয় বাড়বে। দেশে গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হলে আমদানিনির্ভরতা আরও বাড়তে পারে। ফলে বিদ্যুৎ আমদানির পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এসএনএ চার্জ বাবদ ব্যয়ও বাড়বে।