ব্রাজিল ফুটবলের এক সোনালি অধ্যায়ের অবসান
- সর্বশেষ আপডেট ১২:৩৭:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
- / 22
ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা ও কিংবদন্তি ডিফেন্ডার এবং দলটির বিখ্যাত ১৯৭০ বিশ্বকাপজয়ী দলের অন্যতম অবিকল্প সদস্য ব্রিতো আর নেই। ৮৬ বছর বয়সে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন ফুটবলের এই মহানায়ক। গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বিশ্ববাসীকে এই কিংবদন্তি ফুটবলারের মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছে। তবে সেলেসাওদের এই সাবেক তারকার মৃত্যুর আসল কারণ বা অসুস্থতা সম্পর্কে সিবিএফের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
ব্রিতো ছিলেন ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের ইতিহাসের সর্বকালের সেরা ও সোনালি প্রজন্মের অন্যতম নির্ভরযোগ্য রক্ষণভাগের খেলোয়াড়। ১৯৬৪ সাল থেকে শুরু করে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত তিনি ব্রাজিলের ঐতিহ্যবাহী হলুদ-সবুজ জার্সি গায়ে জড়িয়ে মাঠ কাঁপিয়েছেন এবং দেশের হয়ে মোট ৬১টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন। এর আগে ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপেও তিনি সেলেসাওদের রক্ষণভাগ সামলানোর গৌরবময় দায়িত্ব পেয়েছিলেন এবং সফলভাবে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন।
মাঠে আরেক কিংবদন্তি ডিফেন্ডার উইলসন পিয়াজার সঙ্গে ব্রিতোর গড়া রক্ষণাত্মক জুটি ছিল সমসাময়িক ফুটবল বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী ও দুর্ভেদ্য প্রাচীর। এই তারকা ডিফেন্ডার জুটির মেলবন্ধন সেই সময়ে ব্রাজিল দলের রক্ষণভাগকে যেকোনো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে লড়ার এক অনন্য ভরসা ও শক্তি জোগাত।
ব্রিতোর সুদীর্ঘ আন্তর্জাতিক ফুটবল ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় ও ঐতিহাসিক অর্জনটি আসে ১৯৭০ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপে। পেলের সেই কিংবদন্তি আসরে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে ব্রাজিল এবং ব্রিতো পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে দলের রক্ষণভাগের প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে অনবদ্য ভূমিকা পালন করেন। বিশ্বকাপ জয়ের পাশাপাশি তিনি দেশের হয়ে ১৯৭১ সালে ঐতিহাসিক ‘কোপা রোকা’ এবং ১৯৭২ সালে ‘তাসা ইন্ডিপেনডেন্সিয়া’ ট্রফি জয়ের অনন্য কীর্তি গড়েন।
এই মহান ফুটবলারের আকস্মিক প্রয়াণে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন সিবিএফ (CBF) সভাপতি সামির জাউদ। ব্রিতোর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, ‘ব্রিতো ছিলেন ব্রাজিল ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা ও প্রভাবশালী ডিফেন্ডার। বিশ্ব ফুটবলে এবং ব্রাজিলের ফুটবলের অগ্রগতিতে তাঁর অসামান্য অবদান আমরা সবসময় পরম শ্রদ্ধায় মনে রাখব।’ তাঁর মৃত্যুতে ফুটবল বিশ্বে, বিশেষ করে সাম্বা ফুটবলের সমর্থকদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।




































