ঢাকা ০১:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিদ্যুৎ বিতরণে বেসরকারি খাতের পরিকল্পনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:০৬:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
  • / 116

দেশের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থাকে আরও দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক করতে বেসরকারি খাতের হাতে পরিচালনার পরিকল্পনা করছে সরকার।

একই সঙ্গে পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগের কথাও জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।

বুধবার ঢাকায় অনুষ্ঠিত ‘এনার্জি সিকিউরিটি অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক সম্মেলনে মন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলো বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালনার বিষয়ে সরকার নীতিগতভাবে এগোচ্ছে এবং এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সম্মতিও পাওয়া গেছে।

মন্ত্রী বলেন, সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদন ও পাইকারি বিক্রির দায়িত্ব পালন করতে পারে, তবে গ্রাহক পর্যায়ে বিতরণ কার্যক্রম বেসরকারি খাত পরিচালনা করলে বিল আদায়, সেবার মান ও জবাবদিহিতা বাড়বে। তিনি স্থানীয় উদ্যোক্তাদের এ খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে বলেন, উপযুক্ত প্রস্তাব গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।

ভারতের কলকাতা, মুম্বাই ও দিল্লির উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, সেসব শহরে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সফলভাবে বিদ্যুৎ বিতরণ করছে। বাংলাদেশের উদ্যোক্তারাও একই সক্ষমতা দেখাতে পারবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ইকবাল হাসান মাহমুদ আরও জানান, পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানিতেও প্রতিযোগিতামূলক বাজার গড়ে তুলতে বেসরকারি খাতকে সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি সরকার বিবেচনা করছে। এতে সরকারের আর্থিক চাপ কমবে এবং বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়বে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে ক্লাস্টারভিত্তিক রুফটপ সোলার প্রকল্পে বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করা হবে। নেট-মিটারিং ব্যবস্থার মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা সরাসরি গ্রাহকদের কাছ থেকে ব্যয় আদায় করতে পারবেন।

তিনি জানান, যেসব ভবনে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে, সেগুলো পৌরকর বা মিউনিসিপ্যাল করের ক্ষেত্রে ছাড় পাবে। আর যারা সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থায় যুক্ত হবে না, তাদের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। বড় সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য ইতোমধ্যে জমি চিহ্নিত করা হয়েছে। আগামী আগস্ট বা সেপ্টেম্বরের মধ্যে দরপত্র আহ্বান করা হতে পারে এবং এতে চীনা বিনিয়োগকারীরা আগ্রহ দেখিয়েছেন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

বিদ্যুৎ বিতরণে বেসরকারি খাতের পরিকল্পনা

সর্বশেষ আপডেট ০৮:০৬:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

দেশের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থাকে আরও দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক করতে বেসরকারি খাতের হাতে পরিচালনার পরিকল্পনা করছে সরকার।

একই সঙ্গে পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগের কথাও জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।

বুধবার ঢাকায় অনুষ্ঠিত ‘এনার্জি সিকিউরিটি অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক সম্মেলনে মন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলো বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালনার বিষয়ে সরকার নীতিগতভাবে এগোচ্ছে এবং এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সম্মতিও পাওয়া গেছে।

মন্ত্রী বলেন, সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদন ও পাইকারি বিক্রির দায়িত্ব পালন করতে পারে, তবে গ্রাহক পর্যায়ে বিতরণ কার্যক্রম বেসরকারি খাত পরিচালনা করলে বিল আদায়, সেবার মান ও জবাবদিহিতা বাড়বে। তিনি স্থানীয় উদ্যোক্তাদের এ খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে বলেন, উপযুক্ত প্রস্তাব গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।

ভারতের কলকাতা, মুম্বাই ও দিল্লির উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, সেসব শহরে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সফলভাবে বিদ্যুৎ বিতরণ করছে। বাংলাদেশের উদ্যোক্তারাও একই সক্ষমতা দেখাতে পারবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ইকবাল হাসান মাহমুদ আরও জানান, পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানিতেও প্রতিযোগিতামূলক বাজার গড়ে তুলতে বেসরকারি খাতকে সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি সরকার বিবেচনা করছে। এতে সরকারের আর্থিক চাপ কমবে এবং বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়বে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে ক্লাস্টারভিত্তিক রুফটপ সোলার প্রকল্পে বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করা হবে। নেট-মিটারিং ব্যবস্থার মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা সরাসরি গ্রাহকদের কাছ থেকে ব্যয় আদায় করতে পারবেন।

তিনি জানান, যেসব ভবনে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে, সেগুলো পৌরকর বা মিউনিসিপ্যাল করের ক্ষেত্রে ছাড় পাবে। আর যারা সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থায় যুক্ত হবে না, তাদের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। বড় সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য ইতোমধ্যে জমি চিহ্নিত করা হয়েছে। আগামী আগস্ট বা সেপ্টেম্বরের মধ্যে দরপত্র আহ্বান করা হতে পারে এবং এতে চীনা বিনিয়োগকারীরা আগ্রহ দেখিয়েছেন।