ঢাকা ১০:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রবীণ সুরক্ষায় আন্তঃপ্রজন্ম সংহতির আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:২৮:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
  • / 21

প্রবীণের মাঝে নতুন প্রাণের স্পন্দন ফেরাতে প্রবীণদের আয় নিরাপত্তার উন্নয়ন, স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত, দুর্যোগ ও জলবায়ু প্রশমনে প্রবীণের অন্তর্ভুক্তি এবং উন্নয়নের ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়া প্রবীণ নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিতে নবীন—প্রবীণের আন্তঃপ্রজন্ম সংহতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

মংগলবার ( ১৯ মে ) বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা রিসোর্স ইন্টিগ্রেশন সেন্টার (রিক) জার্মান ইকনোমিক কোঅপারেশন (বিএমজেড) ও হেল্পএইজ জার্মানির সহযোগিতায় ‘ইমপ্রুভড ইনকাম সিকিউরিটি থ্রু স্ট্রেনদেনদ্ ইন্টারজেনারেশনাল গ্রুপস ফর ওল্ডার পিপল ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক আন্তঃপ্রজন্মভিত্তিক প্রবীণ সুরক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়নে একথা বলেন বক্তারা।

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ওয়াইডব্লিউসিএ মিলনায়তনে আন্তঃপ্রজন্ম নীতি—নির্ধারণী বিষয়ক একটি জাতীয় কনসালটেশন সভা অনুষ্ঠিত হয় । রিসোর্স ইন্টিগ্রেশন সেন্টার (রিক) এর নির্বাহী পরিচালক আবুল হাসিব খানের সভাপতিত্বে কনসালটেশন সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে ছিলেন সমাজ সেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) শাহ মোহাম্মদ মাহ্বুব। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক ও লেখক আবু সাঈদ খান ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা নারীপক্ষের সদস্য অ্যাডভোকেট কামরুন নাহার। এছাড়া সম্মানীয় অতিথি ছিলেন নারীপক্ষের প্রতিষ্ঠাতা শিরীন হক।

সভায় আন্তঃপ্রজন্ম নীতি—নির্ধারণী বিষয়ক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গবেষক তোফাজ্জল হোসেন মঞ্জু। দেশের বিভিন্ন আন্তঃপ্রজন্ম স্বনির্ভর ক্লাবের নবীন—প্রবীণ সদস্যগণ অংশ নিয়ে আন্তঃপ্রজন্ম সংহতির অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। অংশগ্রহণকারীগণ বর্তমানের আর্থ—সামাজিক চ্যালেঞ্জিং প্রেক্ষাপটে নবীণ—প্রবীণের সংহতির উপর জোর তাগিদ দেন। সেই সাথে দেশের বিভিন্ন এলাকায় কমিউনিটি—ভিত্তিক আন্তঃপ্রজন্ম স্বনির্ভর ক্লাব গঠন করে প্রবীণদের সুরক্ষায় আন্তঃপ্রজন্মভিত্তিক সম্মিলিত প্রচেষ্টায় যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণের পরামর্শ দান করেন।

শিরীন হক বলেন, বৃদ্ধ বয়সে মানুষ যতটা রোগ শোকে পড়ে তার থেকে বেশি একাকিত্বে ভোগেন। তাই যতক্ষণ মানুষের সক্ষমতা থাকে ততক্ষণ যাতে সে কাজ করতে পারে এ বিষয়টি দেখতে হবে। একইসাথে বৃদ্ধাশ্রমগুলোতে মানবিক সেবা থাকতে হবে। স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের বৃদ্ধাশ্রমের সাথে সংযোগ করে দিতে হবে।

আবু সাঈদ খান বলেন, দেশের প্রধান সমস্যা সম্পদের সুষ্ঠু বন্টন নাই। এই উপলব্ধি সরকারের থাকা দরকার। সুশাসন নিশ্চিত করার জন্য সরকারের সঙ্গে নীতি নিয়ে যারা কাজ করে তাদের সংযোগ আরো বাড়াতে হবে এবং পারস্পারিক সহযোগিতার মাধ্যমে সমাজকে এগিয়ে নিতে হবে।

অ্যাডভোকেট কামরুন নাহার বলেন, সরকারি এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠান প্রবীণদের জন্য অনেক কাজ করছেন। তবে প্রবীণদের অধিকার অর্জনে বাধ্য করার মতোই জোড় করে কাজ আদায় করে নিতে হবে। এছাড়া তিনি আরো বলেন, সমস্ত বয়সজুড়ে স্বাস্থ্যের চাহিদা রয়েছে। এ বিষয়ে নজরদারি প্রয়োজন, যা রিক ইতোমধ্যেই করছে।

শাহ মোহাম্মদ মাহ্বুব প্রবীণদের সুরক্ষায় আন্তঃপ্রজন্মভিত্তিক কার্যক্রমের অভিনত্বের বিষয়টির প্রশংসা করেন। এ ব্যাপারে তিনি সরকারি—বেসরকারি সকল উদ্যোগকে সার্বিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন।
তিনি জানান, আগামী জুন মাসে প্রবীণ ব্যবস্থাপনা নিয়ে বাংলাদেশে যে সকল মডেল রয়েছে সেকল মডেল নিয়ে আলোচনা করা হবে যাতে সরকার প্রবীণদের সহায়তা দেয়ার জন্য কোন মডেল নিয়ে কাজ করবে তা নির্ধারণ করা যায়।

আবুল হাসিব খান বলেন, আমরা বর্তমানে এমন একটি আর্থ—সামাজিক কাঠামোর মধ্যে বসবাস করছি যেখানে যৌথ পরিবার ভেঙ্গে কেবল একক পরিবারে রূপান্তরিত হচ্ছে। বর্তমানে প্রবীণদের সংখ্যা যেহেতু আগের চেয়ে ক্রমেই বেড়ে চলেছে, তথাপি প্রবীণদের সুরক্ষার বিষয়টি ক্রমে কমে যাচ্ছে। দ্রুত নগরায়নের ফলে সকলেই শহরমুখী হয়ে পড়ার কারণে তাদের পাশে আপনজন কেউ আর থাকছেনা।

তিনি আরো বলেন, এই অবস্থায় আন্তঃপ্রজন্ম সম্প্রীতি এখন খুবই প্রয়োজন। আমাদের সংস্থা রিক মনে করে— প্রবীণের সুরক্ষায় সকলেরই দায় রয়েছে। তাই এই সময়ে প্রয়োজন নবীন—প্রবীণের আন্তঃপ্রজন্ম সংহতি। আমাদের প্রত্যাশা থাকবে— সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্ঠায় একটি নতুন প্রবীণবান্ধব সমাজ গঠন হোক। নবীন—প্রবীণের এই সম্মিলিত অগ্রযাত্রায় প্রবীণের মাঝে আসুন নতুন প্রাণের স্পন্দন, প্রবীণ বয়সে সুস্থভাবে বেঁচে থাকার প্রেরণা

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

প্রবীণ সুরক্ষায় আন্তঃপ্রজন্ম সংহতির আহ্বান

সর্বশেষ আপডেট ০৮:২৮:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

প্রবীণের মাঝে নতুন প্রাণের স্পন্দন ফেরাতে প্রবীণদের আয় নিরাপত্তার উন্নয়ন, স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত, দুর্যোগ ও জলবায়ু প্রশমনে প্রবীণের অন্তর্ভুক্তি এবং উন্নয়নের ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়া প্রবীণ নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিতে নবীন—প্রবীণের আন্তঃপ্রজন্ম সংহতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

মংগলবার ( ১৯ মে ) বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা রিসোর্স ইন্টিগ্রেশন সেন্টার (রিক) জার্মান ইকনোমিক কোঅপারেশন (বিএমজেড) ও হেল্পএইজ জার্মানির সহযোগিতায় ‘ইমপ্রুভড ইনকাম সিকিউরিটি থ্রু স্ট্রেনদেনদ্ ইন্টারজেনারেশনাল গ্রুপস ফর ওল্ডার পিপল ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক আন্তঃপ্রজন্মভিত্তিক প্রবীণ সুরক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়নে একথা বলেন বক্তারা।

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ওয়াইডব্লিউসিএ মিলনায়তনে আন্তঃপ্রজন্ম নীতি—নির্ধারণী বিষয়ক একটি জাতীয় কনসালটেশন সভা অনুষ্ঠিত হয় । রিসোর্স ইন্টিগ্রেশন সেন্টার (রিক) এর নির্বাহী পরিচালক আবুল হাসিব খানের সভাপতিত্বে কনসালটেশন সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে ছিলেন সমাজ সেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) শাহ মোহাম্মদ মাহ্বুব। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক ও লেখক আবু সাঈদ খান ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা নারীপক্ষের সদস্য অ্যাডভোকেট কামরুন নাহার। এছাড়া সম্মানীয় অতিথি ছিলেন নারীপক্ষের প্রতিষ্ঠাতা শিরীন হক।

সভায় আন্তঃপ্রজন্ম নীতি—নির্ধারণী বিষয়ক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গবেষক তোফাজ্জল হোসেন মঞ্জু। দেশের বিভিন্ন আন্তঃপ্রজন্ম স্বনির্ভর ক্লাবের নবীন—প্রবীণ সদস্যগণ অংশ নিয়ে আন্তঃপ্রজন্ম সংহতির অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। অংশগ্রহণকারীগণ বর্তমানের আর্থ—সামাজিক চ্যালেঞ্জিং প্রেক্ষাপটে নবীণ—প্রবীণের সংহতির উপর জোর তাগিদ দেন। সেই সাথে দেশের বিভিন্ন এলাকায় কমিউনিটি—ভিত্তিক আন্তঃপ্রজন্ম স্বনির্ভর ক্লাব গঠন করে প্রবীণদের সুরক্ষায় আন্তঃপ্রজন্মভিত্তিক সম্মিলিত প্রচেষ্টায় যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণের পরামর্শ দান করেন।

শিরীন হক বলেন, বৃদ্ধ বয়সে মানুষ যতটা রোগ শোকে পড়ে তার থেকে বেশি একাকিত্বে ভোগেন। তাই যতক্ষণ মানুষের সক্ষমতা থাকে ততক্ষণ যাতে সে কাজ করতে পারে এ বিষয়টি দেখতে হবে। একইসাথে বৃদ্ধাশ্রমগুলোতে মানবিক সেবা থাকতে হবে। স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের বৃদ্ধাশ্রমের সাথে সংযোগ করে দিতে হবে।

আবু সাঈদ খান বলেন, দেশের প্রধান সমস্যা সম্পদের সুষ্ঠু বন্টন নাই। এই উপলব্ধি সরকারের থাকা দরকার। সুশাসন নিশ্চিত করার জন্য সরকারের সঙ্গে নীতি নিয়ে যারা কাজ করে তাদের সংযোগ আরো বাড়াতে হবে এবং পারস্পারিক সহযোগিতার মাধ্যমে সমাজকে এগিয়ে নিতে হবে।

অ্যাডভোকেট কামরুন নাহার বলেন, সরকারি এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠান প্রবীণদের জন্য অনেক কাজ করছেন। তবে প্রবীণদের অধিকার অর্জনে বাধ্য করার মতোই জোড় করে কাজ আদায় করে নিতে হবে। এছাড়া তিনি আরো বলেন, সমস্ত বয়সজুড়ে স্বাস্থ্যের চাহিদা রয়েছে। এ বিষয়ে নজরদারি প্রয়োজন, যা রিক ইতোমধ্যেই করছে।

শাহ মোহাম্মদ মাহ্বুব প্রবীণদের সুরক্ষায় আন্তঃপ্রজন্মভিত্তিক কার্যক্রমের অভিনত্বের বিষয়টির প্রশংসা করেন। এ ব্যাপারে তিনি সরকারি—বেসরকারি সকল উদ্যোগকে সার্বিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন।
তিনি জানান, আগামী জুন মাসে প্রবীণ ব্যবস্থাপনা নিয়ে বাংলাদেশে যে সকল মডেল রয়েছে সেকল মডেল নিয়ে আলোচনা করা হবে যাতে সরকার প্রবীণদের সহায়তা দেয়ার জন্য কোন মডেল নিয়ে কাজ করবে তা নির্ধারণ করা যায়।

আবুল হাসিব খান বলেন, আমরা বর্তমানে এমন একটি আর্থ—সামাজিক কাঠামোর মধ্যে বসবাস করছি যেখানে যৌথ পরিবার ভেঙ্গে কেবল একক পরিবারে রূপান্তরিত হচ্ছে। বর্তমানে প্রবীণদের সংখ্যা যেহেতু আগের চেয়ে ক্রমেই বেড়ে চলেছে, তথাপি প্রবীণদের সুরক্ষার বিষয়টি ক্রমে কমে যাচ্ছে। দ্রুত নগরায়নের ফলে সকলেই শহরমুখী হয়ে পড়ার কারণে তাদের পাশে আপনজন কেউ আর থাকছেনা।

তিনি আরো বলেন, এই অবস্থায় আন্তঃপ্রজন্ম সম্প্রীতি এখন খুবই প্রয়োজন। আমাদের সংস্থা রিক মনে করে— প্রবীণের সুরক্ষায় সকলেরই দায় রয়েছে। তাই এই সময়ে প্রয়োজন নবীন—প্রবীণের আন্তঃপ্রজন্ম সংহতি। আমাদের প্রত্যাশা থাকবে— সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্ঠায় একটি নতুন প্রবীণবান্ধব সমাজ গঠন হোক। নবীন—প্রবীণের এই সম্মিলিত অগ্রযাত্রায় প্রবীণের মাঝে আসুন নতুন প্রাণের স্পন্দন, প্রবীণ বয়সে সুস্থভাবে বেঁচে থাকার প্রেরণা