পেট্রোল-মবিল ছাড়াই ৫ টাকায় ১২০ কিমি চলে রতনের বাইক
- সর্বশেষ আপডেট ০১:৪১:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
- / 8
দেশের ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেলের জন্য মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘ লাইন আর সীমাহীন ভোগান্তি এখন নিত্যদিনের চিত্র। যখন এক লিটার তেলের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে, তখন ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলের মেকানিক রতন মহন্ত দেখাচ্ছেন ভিন্ন এক আশার আলো। কোনো পেট্রোল বা মবিল ছাড়াই মাত্র ৫-৬ টাকার বিদ্যুৎ খরচে তার মোটরসাইকেল ছুটছে ১২০ কিলোমিটার।
রাণীশংকৈল উপজেলা শহরের মহলবাড়ী এলাকার সুরেন মহন্তের ছেলে রতন মহন্ত। পেশায় অটোভ্যান মেকানিক রতন আগে ছিলেন সাইকেলমিস্ত্রি। বর্তমানে পৌর এলাকার কলেজ রোডে তার একটি যন্ত্রাংশের দোকান রয়েছে।
২০১৯ সালে শখ করে একটি পুরাতন ১০০ সিসির সুজুকি মোটরসাইকেল কেনেন তিনি। কিন্তু কেনার পর থেকেই শুরু হয় বিপত্তি। যান্ত্রিক ত্রুটি আর তেলের উচ্চমূল্যে নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড়। স্থানীয় মেকানিকরা বারবার চেষ্টা করেও বাইকটি পুরোপুরি সচল করতে পারছিলেন না। তেলের খরচ আর মেরামতের বিরক্তি থেকে মুক্তি পেতে রতন এক ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নেন। তিনি ঠিক করেন-বাইকের ইঞ্জিনই ফেলে দেবেন, সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজ শুরু করেন রতন। বাইকের ইঞ্জিন সরিয়ে সেখানে স্থাপন করেন ১২ ভোল্টের ৪টি ব্যাটারি এবং একটি অটোরিকশার শক্তিশালী মোটর। ব্যাটারির সঙ্গে মোটরের সংযোগ ঘটিয়ে তিনি বাইকটিকে রূপান্তরিত করেন বৈদ্যুতিক যানে।
রতন মহন্ত বলেন, চার বছর আগে শুরুতে যখন ব্যাটারি লাগিয়ে বাইক চালানো শুরু করি, তখন অনেকেই হাসাহাসি করেছে। ঠাট্টা-তামাশা করে বলেছে, এটা নাকি খেলনা! কিন্তু আমি দমে যাইনি। এখন তেলের অভাবে যখন মানুষ পাম্পে লাইন দিচ্ছে, তখন তারাই আমাকে বাহবা দিচ্ছে।
তিনি বলেন, যেখানে ১২০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে তেলচালিত বাইকে প্রায় ৪০০ টাকা খরচ হয়, সেখানে আমার খরচ হয় মাত্র ৫ থেকে ৬ টাকার বিদ্যুৎ।


































