ঢাকা ১১:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ধারণাতীত সামরিক সক্ষমতায় যুদ্ধপরবর্তী ইরান: মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৫:০৬:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
  • / 28

২০২৪ সালের মার্চ মাসে ইরানের তৈরি শাহেদ-১৩৬ ড্রোন কেরমানশাহের আকাশে উড়েছে। মিডল ইস্ট ইমেজেস / এএফপি গেটি ইমেজ

মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক সক্ষমতা ইরান ধারণার চেয়েও দ্রুত পুনর্গঠন করছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এপ্রিলের শুরুতে কার্যকর হওয়া ছয় সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ইরান আবারও ড্রোন উৎপাদন শুরু করেছে।

গোয়েন্দা মূল্যায়নের সঙ্গে পরিচিত একাধিক সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, লঞ্চার ও গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র উৎপাদন অবকাঠামো পুনর্গঠনের কাজও দ্রুত এগোচ্ছে। এতে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র আবার হামলা শুরু করলে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটনের মিত্র দেশগুলোর জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

একজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ইরান গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর নির্ধারিত সময়সীমার চেয়েও দ্রুত সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠন করছে। কিছু মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ছয় মাসের মধ্যেই তারা পূর্ণমাত্রায় ড্রোন হামলার সক্ষমতা ফিরে পেতে পারে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, রাশিয়া ও চীনের সহায়তা এবং হামলায় প্রত্যাশার তুলনায় কম ক্ষতি হওয়ায় ইরান দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পারছে। মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, চলমান সংঘাতের মধ্যেও চীন ইরানকে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন যন্ত্রাংশ সরবরাহ করেছে। যদিও বেইজিং এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

গত সপ্তাহে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, চীন ইরানকে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের উপাদান দিচ্ছে। তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।

গোয়েন্দা মূল্যায়নে আরও বলা হয়েছে, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতার বড় অংশ এখনও অক্ষত রয়েছে। এপ্রিলের এক মূল্যায়নে বলা হয়েছিল, ইরানের প্রায় অর্ধেক ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার টিকে গেছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে সেই সংখ্যা বেড়ে দুই-তৃতীয়াংশে পৌঁছেছে বলে উল্লেখ করা হয়।

এছাড়া ইরানের প্রায় অর্ধেক ড্রোন সক্ষমতা এখনও কার্যকর রয়েছে বলেও গোয়েন্দা তথ্যে উঠে এসেছে। দেশটির উপকূলীয় ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের বড় অংশও অক্ষত রয়েছে, যা হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যাঞ্চলীয় সামরিক কমান্ডের প্রধান কংগ্রেসে দাবি করেন, সামরিক অভিযানে ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্পভিত্তির ৯০ শতাংশ ধ্বংস হয়েছে এবং দেশটি বহু বছর সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠন করতে পারবে না।

তবে গোয়েন্দা মূল্যায়নের সঙ্গে এ বক্তব্যের বড় ধরনের অমিল রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গোয়েন্দা সূত্রগুলোর ভাষ্য, ইরানের সামরিক শিল্পে ক্ষতি হলেও পুনর্গঠনে হয়তো কয়েক মাস পিছিয়েছে, বহু বছর নয়।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ধারণাতীত সামরিক সক্ষমতায় যুদ্ধপরবর্তী ইরান: মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য

সর্বশেষ আপডেট ০৫:০৬:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক সক্ষমতা ইরান ধারণার চেয়েও দ্রুত পুনর্গঠন করছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এপ্রিলের শুরুতে কার্যকর হওয়া ছয় সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ইরান আবারও ড্রোন উৎপাদন শুরু করেছে।

গোয়েন্দা মূল্যায়নের সঙ্গে পরিচিত একাধিক সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, লঞ্চার ও গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র উৎপাদন অবকাঠামো পুনর্গঠনের কাজও দ্রুত এগোচ্ছে। এতে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র আবার হামলা শুরু করলে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটনের মিত্র দেশগুলোর জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

একজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ইরান গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর নির্ধারিত সময়সীমার চেয়েও দ্রুত সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠন করছে। কিছু মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ছয় মাসের মধ্যেই তারা পূর্ণমাত্রায় ড্রোন হামলার সক্ষমতা ফিরে পেতে পারে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, রাশিয়া ও চীনের সহায়তা এবং হামলায় প্রত্যাশার তুলনায় কম ক্ষতি হওয়ায় ইরান দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পারছে। মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, চলমান সংঘাতের মধ্যেও চীন ইরানকে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন যন্ত্রাংশ সরবরাহ করেছে। যদিও বেইজিং এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

গত সপ্তাহে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, চীন ইরানকে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের উপাদান দিচ্ছে। তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।

গোয়েন্দা মূল্যায়নে আরও বলা হয়েছে, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতার বড় অংশ এখনও অক্ষত রয়েছে। এপ্রিলের এক মূল্যায়নে বলা হয়েছিল, ইরানের প্রায় অর্ধেক ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার টিকে গেছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে সেই সংখ্যা বেড়ে দুই-তৃতীয়াংশে পৌঁছেছে বলে উল্লেখ করা হয়।

এছাড়া ইরানের প্রায় অর্ধেক ড্রোন সক্ষমতা এখনও কার্যকর রয়েছে বলেও গোয়েন্দা তথ্যে উঠে এসেছে। দেশটির উপকূলীয় ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের বড় অংশও অক্ষত রয়েছে, যা হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যাঞ্চলীয় সামরিক কমান্ডের প্রধান কংগ্রেসে দাবি করেন, সামরিক অভিযানে ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্পভিত্তির ৯০ শতাংশ ধ্বংস হয়েছে এবং দেশটি বহু বছর সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠন করতে পারবে না।

তবে গোয়েন্দা মূল্যায়নের সঙ্গে এ বক্তব্যের বড় ধরনের অমিল রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গোয়েন্দা সূত্রগুলোর ভাষ্য, ইরানের সামরিক শিল্পে ক্ষতি হলেও পুনর্গঠনে হয়তো কয়েক মাস পিছিয়েছে, বহু বছর নয়।